ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

ফুলকপি খেলে কি সত্যিই গ্যাস হয়

শীতকালে ফুলকপি খাবেন না, তা কি হয়? শীত এলেই বাজার ভরে যায় টাটকা ফুলকপিতে। সবজি হিসেবে সবচেয়ে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ফুলকপি। এটি রান্না করা সহজ। তরকারি কিংবা ভাজি অনেক ভাবেই এটি খাওয়া যায়। তবে পরিমাণে বেশি ফুলকপি খেলে গ্যাস ও হজমের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। অতিরিক্ত বা ভুলভাবে ফুলকপি খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে, অনেকেই জানেন না। গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকলে ফুলকপি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

ফুলকপির ক্ষতিকর দিক

ফুলকপি মূলত ক্রুসিফেরাস সবজি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ব্রকলি, বাঁধাকপি ও ব্রাসেলস স্প্রাউটসহ আরও কিছু সবজি রয়েছে, যা এই পরিবারের অংশ। এসব সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফোলেট, ভিটামিন কে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবারের মতো পুষ্টি থাকলেও এগুলো হজম করা তুলনামূলক কঠিন, বিশেষ করে কাঁচা অবস্থায়। এই ধরনের সবজি বেশি পরিমাণে খেলে হজমের সমস্যাও হতে পারে।  তাই, এটি সহজেই পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

কেন ফুলকপি খেলে পেট ফাঁপা ও গ্যাস হয়

ফুলকপিসহ সকল ধরণের ক্রুসিফেরাস সবজিতে রাফিনোজ নামের এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট থাকে। কিছু উদ্ভিদে  রাফিনোজ প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়, কিন্তু আমাদের শরীরে এটি ভেঙে ফেলার জন্য উপযুক্ত এনজাইম থাকে না। এর অর্থ হলো যখন আপনি এই কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খান, তখন এটি হজম না হয়ে সরাসরি পরিপাকতন্ত্রের শেষ অংশ বৃহদান্ত্রে পৌঁছে যায়। সেখানে অন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়া রাফিনোজকে গাঁজন করতে শুরু করে, যার ফলে পেট ফাঁপা এবং গ্যাসের সমস্যা হয়।

এখানেই শেষ নয়, ফুলকপিতে গ্লুকোসিনোলেটস নামক সালফারযুক্ত যৌগও থাকে, যা পেটে ভেঙে গিয়ে হাইড্রোজেন সালফাইড তৈরি করে, যা ফুলকপি খাওয়ার পর আপনার অস্বস্তিকর দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাসের কারণ হয়।

​ফুলকপি খাওয়ার সঠিক উপায়

তাজা ফুলকপিতে অন্যান্য ফুলকপির তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি প্রোটিন ও বিভিন্ন ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। তাছাড়া কাঁচা ফুলকপিতে সামগ্রিকভাবে সর্বাধিক পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এটি রান্না করলে ফুলকপিতে থাকা ইন্ডোল নামের উপকারী উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফুলকপি বিভিন্নভাবে খাওয়া যেতে পারে, তবে যাদের হজমের সমস্যা বেশি, তাদের জন্য রান্না করা ফুলকপি খাওয়াই ভালো। এ ছাড়াও, হজমের উন্নতির জন্য পরিমিত পরিমাণে ফুলকপি খাওয়ার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি অতিরিক্ত সিদ্ধ না করে ভাপ দিয়ে বা অল্প তেলে রান্না করলে পুষ্টিগুণও বজায় থাকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

ফুলকপি খেলে কি সত্যিই গ্যাস হয়

আপডেট টাইম : ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

শীতকালে ফুলকপি খাবেন না, তা কি হয়? শীত এলেই বাজার ভরে যায় টাটকা ফুলকপিতে। সবজি হিসেবে সবচেয়ে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ফুলকপি। এটি রান্না করা সহজ। তরকারি কিংবা ভাজি অনেক ভাবেই এটি খাওয়া যায়। তবে পরিমাণে বেশি ফুলকপি খেলে গ্যাস ও হজমের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। অতিরিক্ত বা ভুলভাবে ফুলকপি খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে, অনেকেই জানেন না। গ্যাসট্রিকের সমস্যা থাকলে ফুলকপি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

ফুলকপির ক্ষতিকর দিক

ফুলকপি মূলত ক্রুসিফেরাস সবজি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ব্রকলি, বাঁধাকপি ও ব্রাসেলস স্প্রাউটসহ আরও কিছু সবজি রয়েছে, যা এই পরিবারের অংশ। এসব সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ফোলেট, ভিটামিন কে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবারের মতো পুষ্টি থাকলেও এগুলো হজম করা তুলনামূলক কঠিন, বিশেষ করে কাঁচা অবস্থায়। এই ধরনের সবজি বেশি পরিমাণে খেলে হজমের সমস্যাও হতে পারে।  তাই, এটি সহজেই পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

কেন ফুলকপি খেলে পেট ফাঁপা ও গ্যাস হয়

ফুলকপিসহ সকল ধরণের ক্রুসিফেরাস সবজিতে রাফিনোজ নামের এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট থাকে। কিছু উদ্ভিদে  রাফিনোজ প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়, কিন্তু আমাদের শরীরে এটি ভেঙে ফেলার জন্য উপযুক্ত এনজাইম থাকে না। এর অর্থ হলো যখন আপনি এই কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খান, তখন এটি হজম না হয়ে সরাসরি পরিপাকতন্ত্রের শেষ অংশ বৃহদান্ত্রে পৌঁছে যায়। সেখানে অন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়া রাফিনোজকে গাঁজন করতে শুরু করে, যার ফলে পেট ফাঁপা এবং গ্যাসের সমস্যা হয়।

এখানেই শেষ নয়, ফুলকপিতে গ্লুকোসিনোলেটস নামক সালফারযুক্ত যৌগও থাকে, যা পেটে ভেঙে গিয়ে হাইড্রোজেন সালফাইড তৈরি করে, যা ফুলকপি খাওয়ার পর আপনার অস্বস্তিকর দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাসের কারণ হয়।

​ফুলকপি খাওয়ার সঠিক উপায়

তাজা ফুলকপিতে অন্যান্য ফুলকপির তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি প্রোটিন ও বিভিন্ন ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। তাছাড়া কাঁচা ফুলকপিতে সামগ্রিকভাবে সর্বাধিক পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এটি রান্না করলে ফুলকপিতে থাকা ইন্ডোল নামের উপকারী উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফুলকপি বিভিন্নভাবে খাওয়া যেতে পারে, তবে যাদের হজমের সমস্যা বেশি, তাদের জন্য রান্না করা ফুলকপি খাওয়াই ভালো। এ ছাড়াও, হজমের উন্নতির জন্য পরিমিত পরিমাণে ফুলকপি খাওয়ার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি অতিরিক্ত সিদ্ধ না করে ভাপ দিয়ে বা অল্প তেলে রান্না করলে পুষ্টিগুণও বজায় থাকে।