ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

লুটের অস্ত্র সুষ্ঠু ভোটের পথে বড় অন্তরায়

২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় পুলিশের থানা-ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ সুষ্ঠুভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে। এখনও ১ হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ভোটের সময় এসব অস্ত্র ভোটকেন্দ্র দখলসহ আরও নানা অপরাধে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার তত বাড়ছে। ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ও যশোরে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। দুটি হত্যাকাণ্ডেই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়। ভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে খুনোখুনি, দখল-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক ঘটনা বেড়ে গেছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ভোটে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪-এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের থানা ও ফাঁড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে বিপুল অস্ত্র-গুলি লুট করা হয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকেও অস্ত্র গুলি লুট হয়। এ ছাড়া সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের বাসা থেকেও লাইসেন্স করা অস্ত্র-গুলি লুট হয়। এসব লুটের অস্ত্র হাতবদল হয়ে পেশাদার অপরাধীদের পাশাপাশি আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে চলে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের হাতে লুটের অস্ত্র রয়েছে। যেসব অস্ত্র সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি-দখলবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই, পেশি শক্তির প্রদর্শনÑ এমনকি খুনাখুনিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কারণে লুটের অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের থানা ও ফাঁড়িসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা থেকে বিভিন্ন ধরনের ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এ ছাড়া লুট হয় ৬ লাখ ১৩ হাজার ৯৯ রাউন্ড গুলি। এখনও উদ্ধারের বাইরের রয়েছে ১ হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র। এর মধ্যে পিস্তল, এসএমজি, রিভলভার, চাইনিজ রাইফেল এবং শটগানও রয়েছে। এ ছাড়া আড়াই লাখ গোলাবারুদ এখনও উদ্ধার হয়নি। জানা গেছে, থানা-ফাঁড়ির অস্ত্র

ও গুলির বেশিরভাগই লুট করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং দলীয় ক্যাডাররা। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অস্ত্র-গুলি লুট করে তা কমদামে বিভিন্ন অপরাধী গ্রুপের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেই অস্ত্র হাতবদল হয়ে চলে যায় ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আবার সেই অস্ত্র পুরনো সহযোগীদের পাশাপাশি নতুন মুখের সন্ত্রাসীদের হাতেও তুলে দিয়েছে। যাতে নতুন মুখের সন্ত্রাসীদের পুলিশ ও র‌্যাব চিনতে না পারে। আর তা দিয়ে একের পর এক খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চালাচ্ছে তারা। এ ছাড়া লুণ্ঠিত অস্ত্র ডাকাত, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী চক্র, কিশোর গ্যাং, জলদস্যু, বনদস্যুদের হাতেও চলে গেছে। বেহাত অস্ত্র দিয়েই তারা অপরাধ করছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন আমাদের সময়কে বলেন, ‘লুণ্ঠিত অস্ত্রের বড় অংশই উদ্ধার হয়েছে। এখনও যেসব অস্ত্র উদ্ধারের বাইরে রয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। কারও কাছে অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে কোনো খবর থাকলে তা পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, থানা-ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র যত বেশি সময় উদ্ধারের বাইরে থাকবে, আইনশৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জও তত বাড়বে। এখনও বড়সংখ্যক অস্ত্র-গুলি উদ্ধার হয়নি। লুট হওয়া অস্ত্র গোলাবারুদ এখনও উদ্ধার না হওয়া জননিরাপত্তা, নাগরিক নিরাপত্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ। জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এর এক ধরনের প্রভাব পড়ার যথেষ্ট শঙ্কা আছে। কারণ, টার্গেট কিলিং বা সংঘাত-সহিংসতায় এ ধরনের উপকরণ দিয়ে পরিস্থিতির ক্ষেত্র তৈরি হয়। এ ধরনের অস্ত্র যত দীর্ঘ সময় উদ্ধারের বাইরে থাকবে ঝুঁকির মাত্রাও তত বাড়বে। তাই অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

জানা গেছে, গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে দেশে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাসহ নানা অপরাধ সংঘটনের ঘটনা বেড়ে যায়। গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পরও তা অব্যাহত রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরের দিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

নতুন বছরেও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার থেমে নেই। এসব অস্ত্রের মধ্যে থানা-ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্রও রয়েছে বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার।

গত ২ জানুয়ারি সকালে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে একদল সন্ত্রাসী। চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের নির্দেশে তার সহযোগীরা এ ঘটনা ঘটায়।

গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি ছিলেন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নগর বিএনপির সাবেক সদস্য। ২৯ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তরা পারভেজ নামে এক যুবদল কর্মীকে পেটানোর পর ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজানে জানে আলম সিকদার নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলটি ছিল পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে। একই দিন সন্ধ্যায় যশোরের মণিরামপুরে রানা প্রতাপ বৈরাগী নামে এক বরফকল ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

গত ৯ ডিসেম্বর কক্সবাজার শহরের বাইপাস সড়কে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা হেলমেট পরে এসে গুলি করে মোহাম্মদ ফারুক নামে এক যুবদল নেতাকে। ২৮ ডিসেম্বর ভোরে তার মৃত্যু হয়।

২২ ডিসেম্বর দুপুরে খুলনার সোনাডাঙ্গায় মোতালেব শিকদার নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠনের এক কেন্দ্রীয় নেতাকে গুলিতে হত্যা করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশের হামজারবাগ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের কাছে ৮০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা। চাঁদা না পেয়ে দিনদুপুরে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করে তারা। সেখানে আসা তিন সন্ত্রাসীর দুজনের কাছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তা দিয়ে তারা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

১৭ ডিসেম্বর পাবনার ঈশ্বরদীতে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের গুলিতে বীরু মণ্ডল নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হন। ১৩ নভেম্বর রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর আনারকলি রোড এলাকায় এক বিকাশ কর্মীকে গুলি করে ১৪ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। ১১ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের বনে ঢুকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও বনপ্রহরীদের ভয় দেখিয়ে ২০ থেকে ২৫টি গাছ কেটে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। চুনারুঘাট উপজেলার রেমাকালেঙ্গা সংরক্ষিত বনে ঘটনাটি ঘটে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

লুটের অস্ত্র সুষ্ঠু ভোটের পথে বড় অন্তরায়

আপডেট টাইম : ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় পুলিশের থানা-ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ সুষ্ঠুভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে। এখনও ১ হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ভোটের সময় এসব অস্ত্র ভোটকেন্দ্র দখলসহ আরও নানা অপরাধে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার তত বাড়ছে। ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ও যশোরে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। দুটি হত্যাকাণ্ডেই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়। ভোটের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে খুনোখুনি, দখল-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক ঘটনা বেড়ে গেছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ভোটে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪-এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের থানা ও ফাঁড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়ে বিপুল অস্ত্র-গুলি লুট করা হয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকেও অস্ত্র গুলি লুট হয়। এ ছাড়া সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের বাসা থেকেও লাইসেন্স করা অস্ত্র-গুলি লুট হয়। এসব লুটের অস্ত্র হাতবদল হয়ে পেশাদার অপরাধীদের পাশাপাশি আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে চলে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের হাতে লুটের অস্ত্র রয়েছে। যেসব অস্ত্র সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি-দখলবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই, পেশি শক্তির প্রদর্শনÑ এমনকি খুনাখুনিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কারণে লুটের অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের থানা ও ফাঁড়িসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা থেকে বিভিন্ন ধরনের ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এ ছাড়া লুট হয় ৬ লাখ ১৩ হাজার ৯৯ রাউন্ড গুলি। এখনও উদ্ধারের বাইরের রয়েছে ১ হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র। এর মধ্যে পিস্তল, এসএমজি, রিভলভার, চাইনিজ রাইফেল এবং শটগানও রয়েছে। এ ছাড়া আড়াই লাখ গোলাবারুদ এখনও উদ্ধার হয়নি। জানা গেছে, থানা-ফাঁড়ির অস্ত্র

ও গুলির বেশিরভাগই লুট করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং দলীয় ক্যাডাররা। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অস্ত্র-গুলি লুট করে তা কমদামে বিভিন্ন অপরাধী গ্রুপের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেই অস্ত্র হাতবদল হয়ে চলে যায় ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আবার সেই অস্ত্র পুরনো সহযোগীদের পাশাপাশি নতুন মুখের সন্ত্রাসীদের হাতেও তুলে দিয়েছে। যাতে নতুন মুখের সন্ত্রাসীদের পুলিশ ও র‌্যাব চিনতে না পারে। আর তা দিয়ে একের পর এক খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চালাচ্ছে তারা। এ ছাড়া লুণ্ঠিত অস্ত্র ডাকাত, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী চক্র, কিশোর গ্যাং, জলদস্যু, বনদস্যুদের হাতেও চলে গেছে। বেহাত অস্ত্র দিয়েই তারা অপরাধ করছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন আমাদের সময়কে বলেন, ‘লুণ্ঠিত অস্ত্রের বড় অংশই উদ্ধার হয়েছে। এখনও যেসব অস্ত্র উদ্ধারের বাইরে রয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। কারও কাছে অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে কোনো খবর থাকলে তা পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, থানা-ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র যত বেশি সময় উদ্ধারের বাইরে থাকবে, আইনশৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জও তত বাড়বে। এখনও বড়সংখ্যক অস্ত্র-গুলি উদ্ধার হয়নি। লুট হওয়া অস্ত্র গোলাবারুদ এখনও উদ্ধার না হওয়া জননিরাপত্তা, নাগরিক নিরাপত্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ। জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এর এক ধরনের প্রভাব পড়ার যথেষ্ট শঙ্কা আছে। কারণ, টার্গেট কিলিং বা সংঘাত-সহিংসতায় এ ধরনের উপকরণ দিয়ে পরিস্থিতির ক্ষেত্র তৈরি হয়। এ ধরনের অস্ত্র যত দীর্ঘ সময় উদ্ধারের বাইরে থাকবে ঝুঁকির মাত্রাও তত বাড়বে। তাই অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

জানা গেছে, গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে দেশে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাসহ নানা অপরাধ সংঘটনের ঘটনা বেড়ে যায়। গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পরও তা অব্যাহত রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরের দিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

নতুন বছরেও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার থেমে নেই। এসব অস্ত্রের মধ্যে থানা-ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্রও রয়েছে বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার।

গত ২ জানুয়ারি সকালে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে একদল সন্ত্রাসী। চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের নির্দেশে তার সহযোগীরা এ ঘটনা ঘটায়।

গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি ছিলেন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নগর বিএনপির সাবেক সদস্য। ২৯ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তরা পারভেজ নামে এক যুবদল কর্মীকে পেটানোর পর ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজানে জানে আলম সিকদার নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলটি ছিল পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে। একই দিন সন্ধ্যায় যশোরের মণিরামপুরে রানা প্রতাপ বৈরাগী নামে এক বরফকল ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

গত ৯ ডিসেম্বর কক্সবাজার শহরের বাইপাস সড়কে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা হেলমেট পরে এসে গুলি করে মোহাম্মদ ফারুক নামে এক যুবদল নেতাকে। ২৮ ডিসেম্বর ভোরে তার মৃত্যু হয়।

২২ ডিসেম্বর দুপুরে খুলনার সোনাডাঙ্গায় মোতালেব শিকদার নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠনের এক কেন্দ্রীয় নেতাকে গুলিতে হত্যা করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশের হামজারবাগ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের কাছে ৮০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা। চাঁদা না পেয়ে দিনদুপুরে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করে তারা। সেখানে আসা তিন সন্ত্রাসীর দুজনের কাছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তা দিয়ে তারা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

১৭ ডিসেম্বর পাবনার ঈশ্বরদীতে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের গুলিতে বীরু মণ্ডল নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হন। ১৩ নভেম্বর রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর আনারকলি রোড এলাকায় এক বিকাশ কর্মীকে গুলি করে ১৪ লাখ টাকা ছিনতাই হয়। ১১ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের বনে ঢুকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও বনপ্রহরীদের ভয় দেখিয়ে ২০ থেকে ২৫টি গাছ কেটে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। চুনারুঘাট উপজেলার রেমাকালেঙ্গা সংরক্ষিত বনে ঘটনাটি ঘটে।