ঢাকা , শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনমুখী পুলিশিংয়ের মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা অর্জন : আইজিপি এআই-সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্সে গবেষণায় তরুণদের নীতিসহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর: স্বপন প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪ স্তরের নিরাপত্তা প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও পরিকল্পনার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪ সঠিক প্যারেন্টিং যেভাবে গড়ে দেয় শিশুর ভবিষ্যৎ তারপরও দলে উন্নতির ছাপ দেখছেন হামজা খায়রুল বাসার-সাদনিমা জুটির ‘তোমার ঠিকানায়’ পাকিস্তান কেন রূপপুর প্রকল্পের ইউরেনিয়াম বহনের অনুমতি দেয়নি

নদীরপাড়ে ঐতিহ্যবাহী ‘মাছের মেলা’

উৎসবমুখর পরিবেশে মৌলভীবাজারের শেরপুরে কুশিয়ারা নদীপাড়ে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা বসেছে। পৌষসংক্রান্তির আগের সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় মাছ নিয়ে কোলাহল। সারা রাত ধরে চলে পাইকারি কেনাবেচা, পরদিন চলে খুচরা বিক্রি। দুই রাত ও এক দিনব্যাপী এ মেলা বছরে মাত্র একবারই বসে।

সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাছের মেলা শুরু হয়েছে। রাতে প্রধানত পাইকারি কেনাকাটা চলে।

আজ মঙ্গলবার সারা দিন ধরে খুচরা বিক্রি চলছে। আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত এভাবেই মেলার আনুষ্ঠানিকতা চলবে। মাছের পাশাপাশি মেলায় রয়েছে খেলনা, রকমারি খাবার, খই-মোয়া-গজা, কৃষিপণ্য ও ঘরসংসারের নানা সামগ্রী।

মাছের মেলায় ডালায় সাজানো মাছ ঘিরে ভিড় করছেন অনেকে। কেউ ঘুরে ঘুরে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ মাছের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। মেলায় মাছ বিক্রেতা রুহিত মিয়া ৪০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছের  দাম হাঁকলেন দেড় লাখ টাকা পরে ৭১ হাজার টাকায়  সেই মাছ বিক্রি করেছেন।

মাছ বিক্রেতা আরবেশ মিয়া বলেন, ১০-১৫ লাখ টাকার মাছ নিয়ে মেলায় এসেছেন। প্রায় দেড় মণ ওজনের একটি বাঘাইড় মাছের দাম তিনি চাইছেন দুই লাখ টাকা। আরেক বিক্রেতা মুহিবুর রহমান বলেন, মানুষ কিনছে কম। প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ নিয়ে তিনি মেলায় এসেছেন।

শেরপুর মাছের মেলা মূলত স্থানীয় হাওর-বাঁওড় ও নদ-নদীর মাছকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। এখনো স্থানীয় মাছের প্রতিই ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি। বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার হাকালুকি, কাউয়াদীঘি, হাইল হাওরসহ বিভিন্ন হাওর এবং কুশিয়ারা নদীসহ অন্যান্য নদ-নদীর মাছই মেলায় আসা ক্রেতাদের প্রধান চাহিদা। এবারও স্থানীয় মুক্ত জলাশয়ের মাছ আলাদা করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে হাওর নদী ভরাটসহ নানা কারণে আগের তুলনায় স্থানীয় মাছের সরবরাহ কমেছে। দামও বেড়েছে, যা অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে। ফলে মেলায় চাষের মাছের সংখ্যাই বেশি।

মেলায় বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, কালবাউশ, গ্রাসকাপসহ নানা জাতের ছোট-বড় মাছ। অনেক মাছই ছিল একেবারে তরতাজা, কিছু মাছ নড়াচড়াও করছিল। বিক্রেতারা বলেন, শেরপুরের মাছের মেলাকে সামনে রেখে সারা বছর ধরেই মাছ সংরক্ষণ করা হয়। মেলার কয়েক দিন আগে শুরু হয় মাছ ধরা ও সংগ্রহ। কোনো কোনো মাছকে ডোবা কিংবা নৌকায় পানির মধ্যে রাখা হয়।

মাছ ব্যবসায়ী আকবর মিয়া বলেন, ‘এ মেলা আমাদের পূর্ব পুরুষরা বিক্রি করছে। আমিও মাছ বিক্রি করতেছি, আগামীতে আমার ছেলেও বিক্রি করবে।’

মৌলভীবাজার শহরের থেকে আসা রহিম মিয়া বলেন, ৪ কেজি ওজনের একটি বোয়াল সাড়ে চার হাজার টাকায় কিনেছি। তবে দাম কাছে কম মনে হয়েছে।

মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, শতবর্ষী মেলা উপলক্ষে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে রয়েছে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিব হোসেন জানান, খোলা নিলাম ডাকে এবছর মেলা বাবদ সরকার রাজস্ব পেয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

জনমুখী পুলিশিংয়ের মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা অর্জন : আইজিপি

নদীরপাড়ে ঐতিহ্যবাহী ‘মাছের মেলা’

আপডেট টাইম : ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

উৎসবমুখর পরিবেশে মৌলভীবাজারের শেরপুরে কুশিয়ারা নদীপাড়ে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা বসেছে। পৌষসংক্রান্তির আগের সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় মাছ নিয়ে কোলাহল। সারা রাত ধরে চলে পাইকারি কেনাবেচা, পরদিন চলে খুচরা বিক্রি। দুই রাত ও এক দিনব্যাপী এ মেলা বছরে মাত্র একবারই বসে।

সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাছের মেলা শুরু হয়েছে। রাতে প্রধানত পাইকারি কেনাকাটা চলে।

আজ মঙ্গলবার সারা দিন ধরে খুচরা বিক্রি চলছে। আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত এভাবেই মেলার আনুষ্ঠানিকতা চলবে। মাছের পাশাপাশি মেলায় রয়েছে খেলনা, রকমারি খাবার, খই-মোয়া-গজা, কৃষিপণ্য ও ঘরসংসারের নানা সামগ্রী।

মাছের মেলায় ডালায় সাজানো মাছ ঘিরে ভিড় করছেন অনেকে। কেউ ঘুরে ঘুরে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ মাছের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। মেলায় মাছ বিক্রেতা রুহিত মিয়া ৪০ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছের  দাম হাঁকলেন দেড় লাখ টাকা পরে ৭১ হাজার টাকায়  সেই মাছ বিক্রি করেছেন।

মাছ বিক্রেতা আরবেশ মিয়া বলেন, ১০-১৫ লাখ টাকার মাছ নিয়ে মেলায় এসেছেন। প্রায় দেড় মণ ওজনের একটি বাঘাইড় মাছের দাম তিনি চাইছেন দুই লাখ টাকা। আরেক বিক্রেতা মুহিবুর রহমান বলেন, মানুষ কিনছে কম। প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ নিয়ে তিনি মেলায় এসেছেন।

শেরপুর মাছের মেলা মূলত স্থানীয় হাওর-বাঁওড় ও নদ-নদীর মাছকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। এখনো স্থানীয় মাছের প্রতিই ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি। বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার হাকালুকি, কাউয়াদীঘি, হাইল হাওরসহ বিভিন্ন হাওর এবং কুশিয়ারা নদীসহ অন্যান্য নদ-নদীর মাছই মেলায় আসা ক্রেতাদের প্রধান চাহিদা। এবারও স্থানীয় মুক্ত জলাশয়ের মাছ আলাদা করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে হাওর নদী ভরাটসহ নানা কারণে আগের তুলনায় স্থানীয় মাছের সরবরাহ কমেছে। দামও বেড়েছে, যা অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে। ফলে মেলায় চাষের মাছের সংখ্যাই বেশি।

মেলায় বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, কালবাউশ, গ্রাসকাপসহ নানা জাতের ছোট-বড় মাছ। অনেক মাছই ছিল একেবারে তরতাজা, কিছু মাছ নড়াচড়াও করছিল। বিক্রেতারা বলেন, শেরপুরের মাছের মেলাকে সামনে রেখে সারা বছর ধরেই মাছ সংরক্ষণ করা হয়। মেলার কয়েক দিন আগে শুরু হয় মাছ ধরা ও সংগ্রহ। কোনো কোনো মাছকে ডোবা কিংবা নৌকায় পানির মধ্যে রাখা হয়।

মাছ ব্যবসায়ী আকবর মিয়া বলেন, ‘এ মেলা আমাদের পূর্ব পুরুষরা বিক্রি করছে। আমিও মাছ বিক্রি করতেছি, আগামীতে আমার ছেলেও বিক্রি করবে।’

মৌলভীবাজার শহরের থেকে আসা রহিম মিয়া বলেন, ৪ কেজি ওজনের একটি বোয়াল সাড়ে চার হাজার টাকায় কিনেছি। তবে দাম কাছে কম মনে হয়েছে।

মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, শতবর্ষী মেলা উপলক্ষে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে রয়েছে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিব হোসেন জানান, খোলা নিলাম ডাকে এবছর মেলা বাবদ সরকার রাজস্ব পেয়েছে।