ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

ঢাকায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৬৯৫, বিশৃঙ্খলা হলে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ

ঢাকা মহানগরীর ২ হাজার ১৩১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬৯৫টিই অতি ঝুঁকিপূর্ণ আর ঝুঁকিপূর্ণ ১ হাজার ১৩৩টি। পুলিশ বলছে, কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হলে পুলিশ সদস্যরা বডি-ওয়্যার্ন-ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও করবেন। সেই ভিডিও দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি এসব কেন্দ্রে থাকছে সিসি ক্যামেরাও। তারপরও নিজের ভোটটি দিতে পারবেন কিনা এমন শঙ্কা আছে কারও কারও। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে।

বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনেই পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তবে এবার পুলিশ যাতে কোনো দল বা প্রার্থীর হয়ে কাজ না করে, সে জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এরইমধ্যে লটারি করে ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই পদ্ধতিতে সব থানার ওসি পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে পুলিশের দেড় লাখ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদরের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭ হাজার ৫৫৬টি ঝুঁকিপূর্ণ। এরইমধ্যে ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সর্বাধিক। অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন ও সাধারণ কেন্দ্রে একজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

এদিকে, পুলিশ বলছে, কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা হলে বডি-ওয়্যার্ন-ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরার সহায়তা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপরও, জনমনে কিছুটা শঙ্কাও আছে। দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেন অনেকেই, তেমনি কেউ কেউ শঙ্কার কথাও জানান। একজন ভোটার বলেন, ভোট দেওয়ার মতো পরিবেশ দেখলে ভোট দিতে যাবো। অন্য আরেকজন বলেন, এবার পরিবেশ ভালো আছে, আমরা নির্ভয়ে যাবো, ভোট দেবো।

নির্বাচনে লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। গুজবের কারণেও সংকট তৈরি হতে পারে। অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যে চ্যালেঞ্জগুলো ছিল সেগুলো কিন্তু যেকোনো সময় সক্রিয় হতে পারে। বিশেষ করে লুট হওয়া অস্ত্র, অবৈধ অস্ত্র, মব প্রক্রিয়া কিংবা নির্বাচনী মাঠ, পরিবেশ ও আসন। আরও স্পষ্ট করে বললে ভোটকেন্দ্র দখলে রাখার যে মানসিকতা এখানে আমরা অতীতে লক্ষ্য করেছি সেটারও কিন্তু পুনরাবৃত্তি সৃষ্টি হতে পারে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে দেশব্যাপী জোরদার করা হয়েছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান। একইসঙ্গে চালু রয়েছে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২। ডিএমপির মুখপাত্র জানান, রাজধানীর ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনার কথাও।

ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) তালেবুর রহমান বলেন, মূলত ভোটকেন্দ্র এবং বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রগুলোর যে অবস্থান সেগুলো মাথায় রেখেই আমরা নিরাপত্তা পরিকল্পনাটা গ্রহণ করেছি। এই ভিত্তিতে ভোটকেন্দ্রগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে এবং সেনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। তার বাইরে নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন এবং পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার জন্য আমাদের পৃথক পরিকল্পনা তো থাকছেই।

এদিকে, পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রে সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের জাতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

ঢাকায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৬৯৫, বিশৃঙ্খলা হলে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ

আপডেট টাইম : ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা মহানগরীর ২ হাজার ১৩১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬৯৫টিই অতি ঝুঁকিপূর্ণ আর ঝুঁকিপূর্ণ ১ হাজার ১৩৩টি। পুলিশ বলছে, কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হলে পুলিশ সদস্যরা বডি-ওয়্যার্ন-ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও করবেন। সেই ভিডিও দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি এসব কেন্দ্রে থাকছে সিসি ক্যামেরাও। তারপরও নিজের ভোটটি দিতে পারবেন কিনা এমন শঙ্কা আছে কারও কারও। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে।

বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনেই পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তবে এবার পুলিশ যাতে কোনো দল বা প্রার্থীর হয়ে কাজ না করে, সে জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এরইমধ্যে লটারি করে ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই পদ্ধতিতে সব থানার ওসি পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে পুলিশের দেড় লাখ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদরের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭ হাজার ৫৫৬টি ঝুঁকিপূর্ণ। এরইমধ্যে ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সর্বাধিক। অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন ও সাধারণ কেন্দ্রে একজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

এদিকে, পুলিশ বলছে, কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা হলে বডি-ওয়্যার্ন-ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরার সহায়তা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপরও, জনমনে কিছুটা শঙ্কাও আছে। দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেন অনেকেই, তেমনি কেউ কেউ শঙ্কার কথাও জানান। একজন ভোটার বলেন, ভোট দেওয়ার মতো পরিবেশ দেখলে ভোট দিতে যাবো। অন্য আরেকজন বলেন, এবার পরিবেশ ভালো আছে, আমরা নির্ভয়ে যাবো, ভোট দেবো।

নির্বাচনে লুট হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। গুজবের কারণেও সংকট তৈরি হতে পারে। অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যে চ্যালেঞ্জগুলো ছিল সেগুলো কিন্তু যেকোনো সময় সক্রিয় হতে পারে। বিশেষ করে লুট হওয়া অস্ত্র, অবৈধ অস্ত্র, মব প্রক্রিয়া কিংবা নির্বাচনী মাঠ, পরিবেশ ও আসন। আরও স্পষ্ট করে বললে ভোটকেন্দ্র দখলে রাখার যে মানসিকতা এখানে আমরা অতীতে লক্ষ্য করেছি সেটারও কিন্তু পুনরাবৃত্তি সৃষ্টি হতে পারে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে দেশব্যাপী জোরদার করা হয়েছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান। একইসঙ্গে চালু রয়েছে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২। ডিএমপির মুখপাত্র জানান, রাজধানীর ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনার কথাও।

ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) তালেবুর রহমান বলেন, মূলত ভোটকেন্দ্র এবং বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রগুলোর যে অবস্থান সেগুলো মাথায় রেখেই আমরা নিরাপত্তা পরিকল্পনাটা গ্রহণ করেছি। এই ভিত্তিতে ভোটকেন্দ্রগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে এবং সেনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। তার বাইরে নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন এবং পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার জন্য আমাদের পৃথক পরিকল্পনা তো থাকছেই।

এদিকে, পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রে সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের জাতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।