ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

এখনো পৌঁছায়নি প্রায় ৩০ কোটি পাঠ্যবই , চলছে ছাপার কাজ

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি ৩০ লাখের বেশি পাঠ্যবই। পহেলা জানুয়ারি বই উৎসবের পর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের যে প্রতিশ্রুতি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) দিয়েছিল, ২৫ জানুয়ারি পেরিয়েও তা পূরণ হয়নি। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই বিতরণ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক স্তরে, বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে, সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখনো বই ছাপা ও বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যথাসময়ে বই বিতরণে ব্যর্থতার দায় কার— এ প্রশ্ন সামনে এসেছে। যদিও সংস্থাটির দাবি, চলতি মাসের মধ্যে শতভাগ পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে।

এনসিটিবি বলছে, এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে মোট ১০৫টি প্রেসের মাধ্যমে ৩০ কোটি ২৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৩ কপি পাঠ্যবই ছাপার পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ২৯ কোটি ৯১ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৪ কপি, যা শতকরা হিসাবে ৯৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এনসিটিবি থেকে প্রভাবশালী ৭ কর্মকর্তাকে বদলি

নথির তথ্য বলছে, ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে ২৯ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার ৮৫৯ কপি বই। ফলে, এখনো বিতরণ বাকি রয়েছে ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি পাঠ্যবই, যা মোট নির্ধারিত বইয়ের ১ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ কাগজে-কলমে প্রায় শতভাগ বিতরণ দেখালেও বাস্তবে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এখনো পাঠ্যবই হাতে পায়নি।

তবে স্বস্তির খবর হলো, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক (সাধারণ) স্তরে বই বিতরণ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৬৭টি প্রেসের মাধ্যমে মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি পাঠ্যবই নির্ধারিত ছিল। এই স্তরে মুদ্রণ, পিডিআই এবং ডেলিভারি— তিন ধাপেই শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। একইভাবে, প্রাথমিক (সাধারণ) স্তরে মোট ৩১ কোটি ১০ লাখ ৯ হাজার ৩৪৭ কপি বইয়ের মুদ্রণ ও বিতরণ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এই দুই স্তরে কোনো বই অবশিষ্ট নেই।

সংকট পুরোপুরি কেন্দ্রীভূত হয়েছে মাধ্যমিক স্তরে। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরে মোট বই নির্ধারিত ছিল ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৯২৭ কপি। এর মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫৮ কপি, যা শতকরা হিসাবে ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে, বিতরণ পর্যায়ে গিয়ে এই হার কমে দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে। ফলে মাধ্যমিক স্তরেই আটকে রয়েছে পুরো ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি বই, যা এই স্তরের মোট বইয়ের ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের বই খোলাবাজারে, গ্রেপ্তার ২

শ্রেণিভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট ৪ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০৯ কপি বই নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে মুদ্রণ শতভাগ সম্পন্ন হলেও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে ৪ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ৮৬৬ কপি। ফলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এখনো ১ লাখ ১২ হাজার ৬৪৩ কপি বই বিতরণ বাকি রয়েছে, যা শতকরা হিসাবে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ।

সপ্তম শ্রেণিতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে খারাপ। এই শ্রেণিতে মোট নির্ধারিত বই ছিল ৬ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার ৯০০ কপি। মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ৯৮ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে ৯৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ফলে এখনো ১০ লাখ ৭৬ হাজার ৩২২ কপি বই বিতরণ বাকি রয়েছে, যা মোটের ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। মাধ্যমিক স্তরের মোট বিতরণ না হওয়া বইয়ের বড় অংশই সপ্তম শ্রেণির।

অষ্টম শ্রেণিতে মোট নির্ধারিত বই ছিল ৩ কোটি ৯৭ লাখ ২৫ হাজার ৫৮৮ কপি। এর মধ্যে মুদ্রণ প্রায় সম্পন্ন হলেও বিতরণ হয়েছে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ৯২৩ কপি। ফলে এই শ্রেণিতে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬৫ কপি বই এখনো পৌঁছায়নি, যা শতকরা হিসাবে শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ।

নবম শ্রেণিতে মোট ৫ কোটি ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৯২৪ কপি বইয়ের মুদ্রণ শতভাগ হলেও বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে ৯৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এতে অবিতরণকৃত থেকে গেছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৯ কপি বই, যা মোটের শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার কাজ রিটেন্ডারের মধ্যে পড়ায় আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই ছাপা ও বিতরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। দরপত্র প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হওয়ায় প্রেস নির্বাচন, কাগজ সংগ্রহ, মুদ্রণ সূচি নির্ধারণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব ঘটে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সার্বিক বিতরণ কার্যক্রমে।

এনসিটিবির ৩০ কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য!

তবে, রিটেন্ডারের পেছনে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রেসকে সুবিধা দিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়েছিল। এসব অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত পারচেজ কমিটি ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপার ৬০৩ কোটি টাকার দরপত্র বাতিল করে দেয়। পরবর্তী সময়ে রিটেন্ডারের ফলে বই ছাপার কার্যাদেশ পেতে বিলম্ব হওয়ায় অনেক মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ শুরু করতে পারেনি। এতে একদিকে মুদ্রণ সূচি সংকুচিত হয়ে পড়ে, অন্যদিকে পরিবহন ও উপজেলা পর্যায়ের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়।

চলতি মাসের মধ্যে সব বই বিতরণ সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান।

তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করা যায়নি। মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় ‘শর্ট বই’ নামে একটি স্বাভাবিক সমস্যা থাকে। কাগজ কাটা, ছাপার সময় কাগজ নষ্ট হওয়া কিংবা মুদ্রণ ত্রুটির কারণে প্রতিটি প্রেসে কিছু সংখ্যক বই কম-বেশি হয়। অনেক ক্ষেত্রে একটি বইয়ের ক্ষেত্রে ১০–১৫ হাজার কপি বা কোথাও ২০–২৫ হাজার কপি পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হয়, আবার কোথাও কয়েক হাজার কপি কম থাকে। সব মিলিয়ে এই ঘাটতির কারণেই সামান্য একটি শতাংশ বই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, এনসিটিবির কাছে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বই বিতরণের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড রয়েছে এবং সেই তথ্য অনুযায়ী অধিকাংশ বই ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বর্তমানে অবশিষ্ট প্রায় এক শতাংশ বই রয়েছে৷ তবে সেটি সংখ্যার হিসাবে কম নয়। মোট বইয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এই এক শতাংশ মানেই কয়েক লাখ কপি। আমরা আশা করি আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নতুন বই হাতে শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

অন্যদিকে, সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে টেন্ডারসহ ছাপা সংক্রান্ত কার্যক্রমগুলো আগে থেকেই শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের হাতে পহেলা জানুয়ারিতে বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করা হয়। শুরুতে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবতায় দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়সীমা পুরোপুরি ধরে রাখা সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।

মাহবুবুল হক পাটওয়ারী আরও বলেন, এবার কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সে কারণে আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতি উন্নত। ভবিষ্যতে পহেলা জানুয়ারির বই উৎসবের মধ্যে শতভাগ বই বিতরণ নিশ্চিত করতে হলে আরও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, আগাম প্রস্তুতি এবং সময়ভিত্তিক কাজের ধাপগুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয় থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

এখনো পৌঁছায়নি প্রায় ৩০ কোটি পাঠ্যবই , চলছে ছাপার কাজ

আপডেট টাইম : ০৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি ৩০ লাখের বেশি পাঠ্যবই। পহেলা জানুয়ারি বই উৎসবের পর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের যে প্রতিশ্রুতি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) দিয়েছিল, ২৫ জানুয়ারি পেরিয়েও তা পূরণ হয়নি। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই বিতরণ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক স্তরে, বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে, সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখনো বই ছাপা ও বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যথাসময়ে বই বিতরণে ব্যর্থতার দায় কার— এ প্রশ্ন সামনে এসেছে। যদিও সংস্থাটির দাবি, চলতি মাসের মধ্যে শতভাগ পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে।

এনসিটিবি বলছে, এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে মোট ১০৫টি প্রেসের মাধ্যমে ৩০ কোটি ২৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৩ কপি পাঠ্যবই ছাপার পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ২৯ কোটি ৯১ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৪ কপি, যা শতকরা হিসাবে ৯৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এনসিটিবি থেকে প্রভাবশালী ৭ কর্মকর্তাকে বদলি

নথির তথ্য বলছে, ২৪ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে ২৯ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার ৮৫৯ কপি বই। ফলে, এখনো বিতরণ বাকি রয়েছে ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি পাঠ্যবই, যা মোট নির্ধারিত বইয়ের ১ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ কাগজে-কলমে প্রায় শতভাগ বিতরণ দেখালেও বাস্তবে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এখনো পাঠ্যবই হাতে পায়নি।

তবে স্বস্তির খবর হলো, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক (সাধারণ) স্তরে বই বিতরণ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৬৭টি প্রেসের মাধ্যমে মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি পাঠ্যবই নির্ধারিত ছিল। এই স্তরে মুদ্রণ, পিডিআই এবং ডেলিভারি— তিন ধাপেই শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। একইভাবে, প্রাথমিক (সাধারণ) স্তরে মোট ৩১ কোটি ১০ লাখ ৯ হাজার ৩৪৭ কপি বইয়ের মুদ্রণ ও বিতরণ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এই দুই স্তরে কোনো বই অবশিষ্ট নেই।

সংকট পুরোপুরি কেন্দ্রীভূত হয়েছে মাধ্যমিক স্তরে। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরে মোট বই নির্ধারিত ছিল ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৯২৭ কপি। এর মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫৮ কপি, যা শতকরা হিসাবে ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে, বিতরণ পর্যায়ে গিয়ে এই হার কমে দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে। ফলে মাধ্যমিক স্তরেই আটকে রয়েছে পুরো ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯৪ কপি বই, যা এই স্তরের মোট বইয়ের ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের বই খোলাবাজারে, গ্রেপ্তার ২

শ্রেণিভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট ৪ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০৯ কপি বই নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে মুদ্রণ শতভাগ সম্পন্ন হলেও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে ৪ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ৮৬৬ কপি। ফলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এখনো ১ লাখ ১২ হাজার ৬৪৩ কপি বই বিতরণ বাকি রয়েছে, যা শতকরা হিসাবে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ।

সপ্তম শ্রেণিতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে খারাপ। এই শ্রেণিতে মোট নির্ধারিত বই ছিল ৬ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার ৯০০ কপি। মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে ৯৮ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে ৯৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ফলে এখনো ১০ লাখ ৭৬ হাজার ৩২২ কপি বই বিতরণ বাকি রয়েছে, যা মোটের ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। মাধ্যমিক স্তরের মোট বিতরণ না হওয়া বইয়ের বড় অংশই সপ্তম শ্রেণির।

অষ্টম শ্রেণিতে মোট নির্ধারিত বই ছিল ৩ কোটি ৯৭ লাখ ২৫ হাজার ৫৮৮ কপি। এর মধ্যে মুদ্রণ প্রায় সম্পন্ন হলেও বিতরণ হয়েছে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ৯২৩ কপি। ফলে এই শ্রেণিতে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬৫ কপি বই এখনো পৌঁছায়নি, যা শতকরা হিসাবে শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ।

নবম শ্রেণিতে মোট ৫ কোটি ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৯২৪ কপি বইয়ের মুদ্রণ শতভাগ হলেও বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে ৯৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এতে অবিতরণকৃত থেকে গেছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৯ কপি বই, যা মোটের শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার কাজ রিটেন্ডারের মধ্যে পড়ায় আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই ছাপা ও বিতরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। দরপত্র প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হওয়ায় প্রেস নির্বাচন, কাগজ সংগ্রহ, মুদ্রণ সূচি নির্ধারণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব ঘটে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সার্বিক বিতরণ কার্যক্রমে।

এনসিটিবির ৩০ কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য!

তবে, রিটেন্ডারের পেছনে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রেসকে সুবিধা দিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়েছিল। এসব অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত পারচেজ কমিটি ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপার ৬০৩ কোটি টাকার দরপত্র বাতিল করে দেয়। পরবর্তী সময়ে রিটেন্ডারের ফলে বই ছাপার কার্যাদেশ পেতে বিলম্ব হওয়ায় অনেক মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ শুরু করতে পারেনি। এতে একদিকে মুদ্রণ সূচি সংকুচিত হয়ে পড়ে, অন্যদিকে পরিবহন ও উপজেলা পর্যায়ের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়।

চলতি মাসের মধ্যে সব বই বিতরণ সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান।

তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করা যায়নি। মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় ‘শর্ট বই’ নামে একটি স্বাভাবিক সমস্যা থাকে। কাগজ কাটা, ছাপার সময় কাগজ নষ্ট হওয়া কিংবা মুদ্রণ ত্রুটির কারণে প্রতিটি প্রেসে কিছু সংখ্যক বই কম-বেশি হয়। অনেক ক্ষেত্রে একটি বইয়ের ক্ষেত্রে ১০–১৫ হাজার কপি বা কোথাও ২০–২৫ হাজার কপি পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হয়, আবার কোথাও কয়েক হাজার কপি কম থাকে। সব মিলিয়ে এই ঘাটতির কারণেই সামান্য একটি শতাংশ বই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, এনসিটিবির কাছে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বই বিতরণের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড রয়েছে এবং সেই তথ্য অনুযায়ী অধিকাংশ বই ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বর্তমানে অবশিষ্ট প্রায় এক শতাংশ বই রয়েছে৷ তবে সেটি সংখ্যার হিসাবে কম নয়। মোট বইয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এই এক শতাংশ মানেই কয়েক লাখ কপি। আমরা আশা করি আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নতুন বই হাতে শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

অন্যদিকে, সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে টেন্ডারসহ ছাপা সংক্রান্ত কার্যক্রমগুলো আগে থেকেই শুরু করার তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের হাতে পহেলা জানুয়ারিতে বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করা হয়। শুরুতে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই বিতরণের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবতায় দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়সীমা পুরোপুরি ধরে রাখা সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।

মাহবুবুল হক পাটওয়ারী আরও বলেন, এবার কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সে কারণে আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতি উন্নত। ভবিষ্যতে পহেলা জানুয়ারির বই উৎসবের মধ্যে শতভাগ বই বিতরণ নিশ্চিত করতে হলে আরও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, আগাম প্রস্তুতি এবং সময়ভিত্তিক কাজের ধাপগুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয় থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।