ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত নজরুল মঞ্চ, ত্রিশালে উৎসবের আমেজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের আয়োজনকে কেন্দ্র করে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল। কবির বাল্যস্মৃতিবিজড়িত দরিরামপুর নজরুল মঞ্চে আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি উপজেলায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন।

জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী আগামী সোমবার (২৫ মে) হলেও ঈদুল আজহার ছুটিকে সামনে রেখে এবার অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানমালা।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ত্রিশালের সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠ, দরিরামপুর, কাজীর শিমলা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। রঙিন তোরণ, আলোকসজ্জা, ব্যানার-ফেস্টুন ও বিশাল প্যান্ডেলে নতুন সাজে সেজেছে পুরো উপজেলা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি জোরদার করেছেন।

এদিকে জাতীয় আয়োজনকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে ত্রিশালবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘কবি নজরুল মেডিকেল কলেজ’ ও আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা। স্থানীয়দের মতে, জাতীয় কবির স্মৃতিধন্য এ জনপদে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে ত্রিশালের বইলর ও চেলেরঘাট এলাকায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের দাবিও নতুন করে জোরালো হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বৈলর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। পরে তিনি নজরুল ডাকবাংলোয় সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তর্জাতিক মানের বৃহৎ বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ত্রিশালের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্ভাবনা যাচাই হলেও নানা কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর ধরে ‘কবি নজরুল মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন কমিটি’ এ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দাবি আদায়ে সোচ্চার রয়েছে সংগঠনটি।

কমিটির আহ্বায়ক মোখলেসুর রহমান সবুজ বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের ফলেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এখন আমরা আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কবি নজরুলের নামে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেবেন। ত্রিশালে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু এ অঞ্চল নয়, বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবে। একইসঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’

সাংস্কৃতিককর্মী ও সচেতন মহলের মতে, জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হলে সেটি হবে কবির প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শনের অন্যতম দৃষ্টান্ত।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯১৪ সালে ভারতের বর্ধমান জেলার আসানসোল থেকে কিশোর নজরুল ইসলামকে ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নিয়ে আসেন কাজী রফিজ উল্লাহ নামের এক দারোগা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ত্রিশালে অবস্থানকালে কবির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত হয়। কৈশোরে তিনি দরিরামপুর স্কুলে অধ্যয়ন করেন, যা বর্তমানে সরকারি নজরুল একাডেমি নামে পরিচিত।

২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঐতিহ্যবাহী বটতলা এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে ত্রিশাল নজরুলচর্চা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আলম বলেন, ‘ত্রিশালকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য জনপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কবির জীবনের দীর্ঘতম সময়ের একটি অংশ তিনি এখানেই কাটিয়েছেন। তাই নজরুলচর্চা ও স্মৃতি সংরক্ষণে ত্রিশালের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন ঘিরে স্থানীয় শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, গ্রামীণ মেলা ও বইমেলা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছে নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়।

সব মিলিয়ে বহু বছর পর জাতীয় পর্যায়ের নজরুল জন্মজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে এখন নজরুলময় হয়ে উঠেছে পুরো ত্রিশাল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত নজরুল মঞ্চ, ত্রিশালে উৎসবের আমেজ

আপডেট টাইম : ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের আয়োজনকে কেন্দ্র করে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল। কবির বাল্যস্মৃতিবিজড়িত দরিরামপুর নজরুল মঞ্চে আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি উপজেলায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন।

জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী আগামী সোমবার (২৫ মে) হলেও ঈদুল আজহার ছুটিকে সামনে রেখে এবার অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানমালা।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ত্রিশালের সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠ, দরিরামপুর, কাজীর শিমলা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। রঙিন তোরণ, আলোকসজ্জা, ব্যানার-ফেস্টুন ও বিশাল প্যান্ডেলে নতুন সাজে সেজেছে পুরো উপজেলা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি জোরদার করেছেন।

এদিকে জাতীয় আয়োজনকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে ত্রিশালবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘কবি নজরুল মেডিকেল কলেজ’ ও আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা। স্থানীয়দের মতে, জাতীয় কবির স্মৃতিধন্য এ জনপদে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে ত্রিশালের বইলর ও চেলেরঘাট এলাকায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের দাবিও নতুন করে জোরালো হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বৈলর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। পরে তিনি নজরুল ডাকবাংলোয় সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তর্জাতিক মানের বৃহৎ বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ত্রিশালের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্ভাবনা যাচাই হলেও নানা কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর ধরে ‘কবি নজরুল মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন কমিটি’ এ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দাবি আদায়ে সোচ্চার রয়েছে সংগঠনটি।

কমিটির আহ্বায়ক মোখলেসুর রহমান সবুজ বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের ফলেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এখন আমরা আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কবি নজরুলের নামে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেবেন। ত্রিশালে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু এ অঞ্চল নয়, বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবে। একইসঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’

সাংস্কৃতিককর্মী ও সচেতন মহলের মতে, জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হলে সেটি হবে কবির প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শনের অন্যতম দৃষ্টান্ত।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯১৪ সালে ভারতের বর্ধমান জেলার আসানসোল থেকে কিশোর নজরুল ইসলামকে ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নিয়ে আসেন কাজী রফিজ উল্লাহ নামের এক দারোগা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ত্রিশালে অবস্থানকালে কবির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত হয়। কৈশোরে তিনি দরিরামপুর স্কুলে অধ্যয়ন করেন, যা বর্তমানে সরকারি নজরুল একাডেমি নামে পরিচিত।

২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঐতিহ্যবাহী বটতলা এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে ত্রিশাল নজরুলচর্চা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আলম বলেন, ‘ত্রিশালকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য জনপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কবির জীবনের দীর্ঘতম সময়ের একটি অংশ তিনি এখানেই কাটিয়েছেন। তাই নজরুলচর্চা ও স্মৃতি সংরক্ষণে ত্রিশালের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন ঘিরে স্থানীয় শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, গ্রামীণ মেলা ও বইমেলা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছে নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়।

সব মিলিয়ে বহু বছর পর জাতীয় পর্যায়ের নজরুল জন্মজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে এখন নজরুলময় হয়ে উঠেছে পুরো ত্রিশাল।