ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

তিন মাসে বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের ভারে কাবু ব্যাংক খাত

খেলাপি ঋণের পাগলা ঘোড়ার দৌড় থামছেই না। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ খানিকটা কম থাকলেও চলতি বছরের মার্চে তা ফের বেড়ে গেছে। খেলাপি ঋণ নবায়নে বড় বড় ছাড় দিয়েও এর ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। মার্চ প্রান্তিকে অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে প্রভিশন ঘাটতিও বেড়েছে। একই সঙ্গে খেলাপির আগের ধাপের ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। ফলে জুন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে তথ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এ প্রতিবেদন অনুমোদন করেছেন।

এদিকে খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। লভ্যাংশ কমে যাচ্ছে। তারল্যের একটি বড় অংশ আটকে যাচ্ছে। ঋণ বিতরণের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। মূলধন কমে যাচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বেড়ে যাচ্ছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোর সার্বিক ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশের বেশি থাকলেই ঝুঁকি হিসাবে দেখা হয়। বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ৩ শতাংশের কম খেলাপি ঋণ এমন ব্যাংকের সংখ্যা খুবই কম। কেবল খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকির মাত্রা বেড়েছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে ঋণের সুদের হার কমানো যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসা বাণিজ্যের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর আগে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। ওই সময়ে মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপি ছিল। খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সরকারি খাতের বিশেষায়িত ব্যাংক এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার একেবারেই কম।

খেলাপি ঋণের এ চিত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম মেনে করা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর বাইরে আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে মোটা অঙ্কের খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখানো হচ্ছে। খেলাপিযোগ্য কিন্তু খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়নি এমন ঋণের সংখ্যাও কম নয়। এছাড়া বিশেষ ছাড়েও খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া অবলোপন করা ৫৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। এভাবে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের বর্তমান হিসাবের বাইরে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋণের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর সেসব ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে না। ফলে ঋণ আদায় কমে যাচ্ছে। একটি পর্যায়ে ওইসব ঋণ খেলাপি হচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লুটপাটের কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণ বিশেষ বিবেচনায় নবায়ন করা হয়েছিল। ওইসব ঋণও ফের খেলাপি হচ্ছে। এছাড়া বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক মন্দার কারণে অনেক উদ্যোক্তার ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমেছে। ফলে ওইসব ঋণও খেলাপি হচ্ছে। যে কারণে গত ডিসেম্বরের পর মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ফের বেড়েছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছিল।

গত সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে বড় ছাড় দিয়ে নবায়ন করার ফলে ডিসেম্বরে এসে খেলাপি ঋণ কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায়। ওই সময়ে খেলাপি ঋণ কমেছিল ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কমার পর মার্চেই আবার তা বেড়ে গেল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ও নিয়মিত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন রাখার প্রয়োজন ছিল ৪ লাখ ৬১ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। ওই সময়ে প্রভিশন রাখা ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৫৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রয়েছে। বাকি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর হাতে কোনো প্রভিশন নেই। প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে প্রভিশন ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। মার্চে প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে ১৪ হাজার ২২৪ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলাপি হওয়ার আগের ধাপে অর্থাৎ স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টে রয়েছে আরও ১ লাখ ৩২ হাজার ১২০ কোটি টাকা। এসব ঋণ এখন পরিশোধিত বা নবায়ন করা হলে খেলাপিতে পরিণত হবে বা অংশবিশেষ ইতোমধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়ে গেছে। গত ডিসেম্বরে এ হিসাবে ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। তিন মাসে এ খাতে ঋণ বেড়েছে ২৮ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা।

সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। যা তাদের মোট বিতরণ করা ঋণের ৩০ দশমিক ১১২ শতাংশ। সরকারি খাতের বিশেষায়িত ব্যাংক খেলাপি ঋণ ১৯ হাজার কোটি টাকা। যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

তিন মাসে বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের ভারে কাবু ব্যাংক খাত

আপডেট টাইম : ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

খেলাপি ঋণের পাগলা ঘোড়ার দৌড় থামছেই না। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ খানিকটা কম থাকলেও চলতি বছরের মার্চে তা ফের বেড়ে গেছে। খেলাপি ঋণ নবায়নে বড় বড় ছাড় দিয়েও এর ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। মার্চ প্রান্তিকে অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে প্রভিশন ঘাটতিও বেড়েছে। একই সঙ্গে খেলাপির আগের ধাপের ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। ফলে জুন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে তথ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এ প্রতিবেদন অনুমোদন করেছেন।

এদিকে খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলো ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। লভ্যাংশ কমে যাচ্ছে। তারল্যের একটি বড় অংশ আটকে যাচ্ছে। ঋণ বিতরণের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। মূলধন কমে যাচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বেড়ে যাচ্ছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোর সার্বিক ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশের বেশি থাকলেই ঝুঁকি হিসাবে দেখা হয়। বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ৩ শতাংশের কম খেলাপি ঋণ এমন ব্যাংকের সংখ্যা খুবই কম। কেবল খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকির মাত্রা বেড়েছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে ঋণের সুদের হার কমানো যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসা বাণিজ্যের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর আগে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। ওই সময়ে মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপি ছিল। খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সরকারি খাতের বিশেষায়িত ব্যাংক এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার একেবারেই কম।

খেলাপি ঋণের এ চিত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম মেনে করা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর বাইরে আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে মোটা অঙ্কের খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখানো হচ্ছে। খেলাপিযোগ্য কিন্তু খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়নি এমন ঋণের সংখ্যাও কম নয়। এছাড়া বিশেষ ছাড়েও খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া অবলোপন করা ৫৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। এভাবে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের বর্তমান হিসাবের বাইরে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋণের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর সেসব ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে না। ফলে ঋণ আদায় কমে যাচ্ছে। একটি পর্যায়ে ওইসব ঋণ খেলাপি হচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লুটপাটের কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণ বিশেষ বিবেচনায় নবায়ন করা হয়েছিল। ওইসব ঋণও ফের খেলাপি হচ্ছে। এছাড়া বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক মন্দার কারণে অনেক উদ্যোক্তার ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমেছে। ফলে ওইসব ঋণও খেলাপি হচ্ছে। যে কারণে গত ডিসেম্বরের পর মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ফের বেড়েছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছিল।

গত সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে বড় ছাড় দিয়ে নবায়ন করার ফলে ডিসেম্বরে এসে খেলাপি ঋণ কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায়। ওই সময়ে খেলাপি ঋণ কমেছিল ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কমার পর মার্চেই আবার তা বেড়ে গেল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ও নিয়মিত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন রাখার প্রয়োজন ছিল ৪ লাখ ৬১ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। ওই সময়ে প্রভিশন রাখা ছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৫৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রয়েছে। বাকি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর হাতে কোনো প্রভিশন নেই। প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে প্রভিশন ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। মার্চে প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে ১৪ হাজার ২২৪ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলাপি হওয়ার আগের ধাপে অর্থাৎ স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টে রয়েছে আরও ১ লাখ ৩২ হাজার ১২০ কোটি টাকা। এসব ঋণ এখন পরিশোধিত বা নবায়ন করা হলে খেলাপিতে পরিণত হবে বা অংশবিশেষ ইতোমধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়ে গেছে। গত ডিসেম্বরে এ হিসাবে ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। তিন মাসে এ খাতে ঋণ বেড়েছে ২৮ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা।

সরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। যা তাদের মোট বিতরণ করা ঋণের ৩০ দশমিক ১১২ শতাংশ। সরকারি খাতের বিশেষায়িত ব্যাংক খেলাপি ঋণ ১৯ হাজার কোটি টাকা। যা তাদের বিতরণ করা মোট ঋণের ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ।