ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সরকারের : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ক্যানসার চিকিৎসায় ৩৬ কোটি অনুদান মেসির চুক্তিতে সেতু বিভাগের সচিব হলেন আবদুর রউফ নিউইয়র্কের পথে ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত স্পিকার ও ইসির : শিশির মনির ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হতে পারে জাতিসংঘ সম্মেলনের সাইডলাইনে পাকিস্তান-চীনের নতুন সীমান্ত চুক্তিতে ভারত কেন ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর পৃথিবীর ইতিহাসে বিশেষ মুহূর্ত: মাহদী আমিন দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ২ শতাংশেরও নিচে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী উঠতে বসতে বাপ-মা তুলে গালাগাল দিতো, গায়েও হাত তুলতো

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হলে মেডিকেল কলেজ ও বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে নবনির্মিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডের উদ্বোধন এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য খাতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “শুধু অর্থ বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, সেই বিনিয়োগের সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিতে চিকিৎসক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এবার বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বাধিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সরকারের লক্ষ্য, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।”

তিনি বলেন, “প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে এখন চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—বিনিয়োগের যথাযথ প্রতিফলন, প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী মূল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয়। অতীতের মতো দুর্নীতি ও দলীয় প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, বরং জনগণের সর্বাধিক উপকার নিশ্চিত করবে; এমন প্রকল্পেই সরকার বিনিয়োগ করছে।”

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেবে, অবকাঠামো উন্নয়ন করবে। কিন্তু সেবার মান উন্নয়নের দায়িত্ব চিকিৎসক, প্রশাসন ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ করে হাসপাতাল পরিচালনা ও চিকিৎসাসেবায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিজস্ব পরিকল্পনা ও সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। শুধু বিনিয়োগ দিয়ে পরিবর্তন আসে না; প্রয়োজন পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “অতীতে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা ছিল। বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নজিরবিহীন বিনিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য।”

তিনি আরো বলেন, “বর্তমান সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত প্রভাব এবং অতীতের আর্থিক দায় বহন করেও সাহসী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করেছে। এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো এই বরাদ্দের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, যাতে দেশের মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারে।”

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সরকারের : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হলে মেডিকেল কলেজ ও বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে নবনির্মিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডের উদ্বোধন এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য খাতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “শুধু অর্থ বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, সেই বিনিয়োগের সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিতে চিকিৎসক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এবার বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বাধিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সরকারের লক্ষ্য, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।”

তিনি বলেন, “প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে এখন চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—বিনিয়োগের যথাযথ প্রতিফলন, প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী মূল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয়। অতীতের মতো দুর্নীতি ও দলীয় প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, বরং জনগণের সর্বাধিক উপকার নিশ্চিত করবে; এমন প্রকল্পেই সরকার বিনিয়োগ করছে।”

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেবে, অবকাঠামো উন্নয়ন করবে। কিন্তু সেবার মান উন্নয়নের দায়িত্ব চিকিৎসক, প্রশাসন ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ করে হাসপাতাল পরিচালনা ও চিকিৎসাসেবায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিজস্ব পরিকল্পনা ও সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। শুধু বিনিয়োগ দিয়ে পরিবর্তন আসে না; প্রয়োজন পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “অতীতে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা ছিল। বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নজিরবিহীন বিনিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য।”

তিনি আরো বলেন, “বর্তমান সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত প্রভাব এবং অতীতের আর্থিক দায় বহন করেও সাহসী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করেছে। এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো এই বরাদ্দের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, যাতে দেশের মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারে।”