ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

পুলিশের বিরুদ্ধে গুজব-অপপ্রচার, আন্তঃদেশীয় চক্র জড়িত, শনাক্ত ১০-১৫ জন

বাংলাদেশ পুলিশের সৎ, দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের টার্গেট করে কিছু গোপন অনলাইন পোর্টাল এবং ভুয়া ফেসবুক পেইজ ব্যবহার করে গুজব ও অপপ্রচার শুরু করেছে একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃদেশীয় চক্র। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই চক্রটি পুলিশের মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তাদের নাম, ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এসব নামসর্বস্ব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুক পেজগুলো মূলত চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, এই অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ের পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং রাষ্ট্রে একটি চরম অরাজকতা ও ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। যাতে বিদেশে পলাতক অপরাধীরা সুবিধা নিতে পারে এবং দেশের রাজনৈতিক মহলকে ব্যস্ত রাখা যায়। তবে পুলিশ প্রশাসন এই অপচেষ্টা রুখতে এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষায়িত সাইবার সেল।

গোয়েন্দা ‍পুলিশের কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে যারা এসব গুজব ছড়ানোর কাজে লিপ্ত, তাদের মধ্য থেকে ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১৫ জনকে শনাক্ত করে ফেলেছে পুলিশ। এই অভিযুক্তরা বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে রয়েছেন। যেকোনো মুহূর্তে তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত সাইবার টিম এই পুরো চক্রটির নেটওয়ার্ক উদঘাটনে দিনরাত নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, দেশ ও বিদেশ থেকে সমন্বিতভাবে এই অপকর্মগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুগত হিসেবে চিহ্নিত কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি রয়েছেন। অপপ্রচারের পেছনের কুশীলবদের খুঁজতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, চট্টগ্রামের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে।

জানা গেছে, সংঘবদ্ধ চক্রটি পুলিশ কর্মকর্তাদের ছবি, ভিডিও কিংবা কথাবার্তার অডিও রেকর্ড সাধারণ প্রযুক্তিতে নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত বা ডিপফেক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করছে। যা সাধারণ মানুষের চোখে আসল বলে মনে হচ্ছে।

এসব সাইবার বুলিং ও অপপ্রচারের বড় শিকার হচ্ছেন ৫ আগস্টের পর ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়া ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন বঞ্চনার শিকার হওয়া সৎ পুলিশ কর্মকর্তারা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় পুলিশের ২৪ ব্যাচের কর্মকর্তা রায়হান উদ্দিন খানের কথা। ২০০৫ সালে নিয়োগ পাওয়া ২০১ জন পুলিশ ক্যাডার কর্মকর্তার সম্মিলিত মেধাতালিকায় তিনি ৩১তম স্থান অর্জন করেছিলেন। কিন্তু শিক্ষাজীবনে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কাল্পনিক অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছর তাকে কোনো পদোন্নতি দেওয়া হয়নি, রাখা হয়েছিল কোণঠাসা করে।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি তার দীর্ঘদিনের প্রাপ্য পদোন্নতি পান এবং বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরের পিএমএস-১ শাখায় কর্মরত আছেন। সম্প্রতি একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট এই সৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শুধু রায়হান উদ্দিন খানই নন, ৫ আগস্টের পর টার্গেট করে এমন বহু দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ’, ‘আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয়’ কিংবা ‘দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা’—এমন বিভিন্ন মনগড়া ট্যাগ দিয়ে ভুল ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

সম্প্রতি ঝালকাঠিতে এসপি হিসেবে পদায়নের পর পুলিশের ২৮ ব্যাচের কর্মকর্তা বদরুল আলম মোল্লার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। তার পদায়ন আটকাতে আর্থিক লেনদেনের একটি ভুয়া ও বিকৃত অডিও ফাঁস করা হয়। এর প্রেক্ষিতে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়। ওই কর্মকর্তা আগের কর্মস্থল থেকে বিদায় নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে গিয়েও শেষ মুহূর্তে ফেরত আসতে বাধ্য হন।

রায়হান উদ্দিন খান ও বদরুল আলম মোল্লার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে এমন অপতথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন সস্তা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যের ওপর ভর করে কোনো সৎ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া অথবা পদায়নের পর নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ও মানবিক নয়। অনেক সময় বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে আদর্শগত দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে এক কর্মকর্তা তার অপর সহকর্মীকে হেয় করতে এসব চক্রকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। যা দ্রুত বন্ধ না হলে পুরো বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, বিদেশে যারা পলাতক ও চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য রয়েছে, মূলত তারাই এই দেশবিরোধী গুজবের নেতৃত্ব দিচ্ছে। আর দেশের ভেতরে থাকা তাদের কিছু সুযোগসন্ধানী সহযোগী এই গুজবগুলো মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো পুলিশের মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রে একটা অরাজকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করা। যাতে পলাতক অপরাধীরা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই চক্রের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দেশ ও দেশের বাইরে যেখানেই থাকুক, তাদের নেটওয়ার্ক আমরা গুঁড়িয়ে দেবো।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অভিযুক্তদের নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ফাঁদে না পড়ে অপপ্রচারের পেছনের মূল সত্যতা ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাইবার সেলের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, তদন্তে প্রাপ্ত অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে খুব দ্রুত অপপ্রচারে জড়িত দেশীয় অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং বিদেশে পলাতকদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

পুলিশের বিরুদ্ধে গুজব-অপপ্রচার, আন্তঃদেশীয় চক্র জড়িত, শনাক্ত ১০-১৫ জন

আপডেট টাইম : ৪ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশ পুলিশের সৎ, দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের টার্গেট করে কিছু গোপন অনলাইন পোর্টাল এবং ভুয়া ফেসবুক পেইজ ব্যবহার করে গুজব ও অপপ্রচার শুরু করেছে একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃদেশীয় চক্র। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই চক্রটি পুলিশের মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তাদের নাম, ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এসব নামসর্বস্ব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুক পেজগুলো মূলত চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, এই অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ের পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং রাষ্ট্রে একটি চরম অরাজকতা ও ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। যাতে বিদেশে পলাতক অপরাধীরা সুবিধা নিতে পারে এবং দেশের রাজনৈতিক মহলকে ব্যস্ত রাখা যায়। তবে পুলিশ প্রশাসন এই অপচেষ্টা রুখতে এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষায়িত সাইবার সেল।

গোয়েন্দা ‍পুলিশের কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে যারা এসব গুজব ছড়ানোর কাজে লিপ্ত, তাদের মধ্য থেকে ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১৫ জনকে শনাক্ত করে ফেলেছে পুলিশ। এই অভিযুক্তরা বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে রয়েছেন। যেকোনো মুহূর্তে তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত সাইবার টিম এই পুরো চক্রটির নেটওয়ার্ক উদঘাটনে দিনরাত নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, দেশ ও বিদেশ থেকে সমন্বিতভাবে এই অপকর্মগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুগত হিসেবে চিহ্নিত কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি রয়েছেন। অপপ্রচারের পেছনের কুশীলবদের খুঁজতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, চট্টগ্রামের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে।

জানা গেছে, সংঘবদ্ধ চক্রটি পুলিশ কর্মকর্তাদের ছবি, ভিডিও কিংবা কথাবার্তার অডিও রেকর্ড সাধারণ প্রযুক্তিতে নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত বা ডিপফেক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করছে। যা সাধারণ মানুষের চোখে আসল বলে মনে হচ্ছে।

এসব সাইবার বুলিং ও অপপ্রচারের বড় শিকার হচ্ছেন ৫ আগস্টের পর ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়া ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন বঞ্চনার শিকার হওয়া সৎ পুলিশ কর্মকর্তারা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় পুলিশের ২৪ ব্যাচের কর্মকর্তা রায়হান উদ্দিন খানের কথা। ২০০৫ সালে নিয়োগ পাওয়া ২০১ জন পুলিশ ক্যাডার কর্মকর্তার সম্মিলিত মেধাতালিকায় তিনি ৩১তম স্থান অর্জন করেছিলেন। কিন্তু শিক্ষাজীবনে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কাল্পনিক অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছর তাকে কোনো পদোন্নতি দেওয়া হয়নি, রাখা হয়েছিল কোণঠাসা করে।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি তার দীর্ঘদিনের প্রাপ্য পদোন্নতি পান এবং বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরের পিএমএস-১ শাখায় কর্মরত আছেন। সম্প্রতি একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট এই সৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শুধু রায়হান উদ্দিন খানই নন, ৫ আগস্টের পর টার্গেট করে এমন বহু দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ’, ‘আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয়’ কিংবা ‘দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা’—এমন বিভিন্ন মনগড়া ট্যাগ দিয়ে ভুল ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

সম্প্রতি ঝালকাঠিতে এসপি হিসেবে পদায়নের পর পুলিশের ২৮ ব্যাচের কর্মকর্তা বদরুল আলম মোল্লার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। তার পদায়ন আটকাতে আর্থিক লেনদেনের একটি ভুয়া ও বিকৃত অডিও ফাঁস করা হয়। এর প্রেক্ষিতে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়। ওই কর্মকর্তা আগের কর্মস্থল থেকে বিদায় নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে গিয়েও শেষ মুহূর্তে ফেরত আসতে বাধ্য হন।

রায়হান উদ্দিন খান ও বদরুল আলম মোল্লার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে এমন অপতথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন সস্তা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যের ওপর ভর করে কোনো সৎ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া অথবা পদায়নের পর নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ও মানবিক নয়। অনেক সময় বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে আদর্শগত দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে এক কর্মকর্তা তার অপর সহকর্মীকে হেয় করতে এসব চক্রকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। যা দ্রুত বন্ধ না হলে পুরো বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, বিদেশে যারা পলাতক ও চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য রয়েছে, মূলত তারাই এই দেশবিরোধী গুজবের নেতৃত্ব দিচ্ছে। আর দেশের ভেতরে থাকা তাদের কিছু সুযোগসন্ধানী সহযোগী এই গুজবগুলো মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো পুলিশের মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রে একটা অরাজকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করা। যাতে পলাতক অপরাধীরা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই চক্রের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দেশ ও দেশের বাইরে যেখানেই থাকুক, তাদের নেটওয়ার্ক আমরা গুঁড়িয়ে দেবো।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অভিযুক্তদের নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ফাঁদে না পড়ে অপপ্রচারের পেছনের মূল সত্যতা ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাইবার সেলের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, তদন্তে প্রাপ্ত অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে খুব দ্রুত অপপ্রচারে জড়িত দেশীয় অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং বিদেশে পলাতকদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।