দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ক’দিন আগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে এদেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশালের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণের প্রতি এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ যখন হয়েছিল, দল নির্বিশেষে সবাই মিলে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। এইমাত্র ক’দিন আগের কথা, আমরা এদেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। সব শ্রেণি-পেশা, সব ধর্ম-মত নির্বিশেষে, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসে এই দেশ থেকে তাদেরকে হটিয়েছে। তার মানে আমরা সবাই মিলে যদি কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো কাজগুলো করি, তাহলে সবাই মিলে উপকৃত হবো।
প্রধানমন্ত্রী একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা সরকারের একার দায়িত্ব নয়, সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন, আজ বৃক্ষরোপণের দিনে আমরা সবাই মিলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই—সবাই মিলে দেশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখব, ঠিক রাখব। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

তারেক রহমান বলেন, আমরা প্রত্যেকে চেষ্টা করব—আমাদের আশপাশের এলাকা, আমাদের ঘরবাড়ির আশপাশের এলাকা, আমাদের অফিস আদালতের আশপাশের এলাকা, আমাদের স্কুল-কলেজের আশপাশের এলাকা, আমাদের হাসপাতালের আশপাশের এলাকাগুলো প্রত্যেকে আমরা চেষ্টা করব সেখানের পরিবেশটা যাতে নষ্ট না হয়, পরিবেশটা যাতে সুন্দর থাকে, ভালো থাকে।
ত্রিশ গোডাউনে সাগরদী খালের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাগরদী খালটি এই এলাকার জন্য নিশ্চয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা খাল। এই খালটার যত্ন করাও কিন্তু শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব না। এই খালটা যত্ন করা খালের দু’পাশে যেসব মানুষ আছেন, তাদের সবাইকে এই খালটার যত্ন করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, এই খালের পানির মধ্যে অনেক সময় অনেক প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনের কাগজ, টিস্যু পেপারসহ আরও বিভিন্ন জিনিস ভাসতে থাকে। অর্থাৎ আমরা যারা এখানে পার্কে আসি, হয়তো পানি খেলাম আর বোতলটা ফেলে দিলাম খালের মধ্যে। আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, এখানে আপনারা যারা উপস্থিত আছেন সবার কাছে, আপনারা যখনই যার সঙ্গে দেখা হবে—দয়া করে প্রত্যেককে বলবেন, খালের মধ্যে আমরা এগুলো ফেলব না।
সিটি করপোরেশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে একটা ময়লা ফেলার বিন লাগানো আছে। সবাইকে আপনারা দয়া করে মাইকেও প্রচার করবেন, যারা এই খালের পাশে বসবেন, বিকেল বেলায় অনেকে বেড়াতে আসেন, তারা যেন বিনের মধ্যে ময়লা ফেলেন। খাল পরিষ্কার রাখতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, দেখুন, খালের অপরপাড়ে একটা পাইপ লাগানো হয়েছে, এটা কীসের পাইপ? যা খালের সঙ্গে এসে যুক্ত হয়েছে। বাসা-বাড়ির ব্যবহারের পানি? সিটি করপোরেশনের কাছে আমি অনুরোধ করব, আপনারা বাসা-বাড়ির পানির ড্রেনেজ সিস্টেম করুন। কিন্তু পানি বা সুয়ারেজ লাইনের কানেকশনগুলো খালের মধ্যে না রাখাই ভালো। এগুলো থাকলে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়, পানি দূষিত হয়ে যায়। কাজেই আমাদের নিজেদের পরিবেশ আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি আমাদের নিজের ঘর নিজেরা গুছিয়ে না রাখি, তাহলে ঘরটা যেমন ময়লা হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আমরা যদি আমাদের এলাকা, আমাদের এরিয়া, আমাদের পাড়া, আমাদের দেশ যদি আমরা নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, নিজেরা যদি পরিবেশের খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হবো। অন্য দেশের সুন্দর সুন্দর জায়গা নিয়ে আমরা আফসোস করব, কিন্তু নিজের দেশের জায়গাগুলো সব আমরা নষ্ট করে দেব।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ নেতারা খালের দুই পাড়ে একটি করে গাছ রোপণ করেন।
এ সময় নেতাকর্মীরা স্লোগান ধরেন—‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম, এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে, জিয়ার সৈনিক এক হও, এক হও।’
প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি শেষ করে সার্কিট হাউসে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 




















