ঢাকা , রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের রাজনীতির মূল লক্ষ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৭ বছর স্বৈরাচারী সরকার মানুষকে কথা বলতে দেয়নি : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্ষমতাগ্রহণের ৫ মাসে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান সাফল্য রয়েছে: মাহদী আমিন মেসির অভিজ্ঞতা বনাম ইয়ামালের তারুণ্য ফাইনালের মহারণে আর্জেন্টিনা-স্পেন মসজিদুল হারামে নতুন প্রযুক্তি, যেসব সুবিধা পাবেন হাজিরা আগামী মাসে আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি শর্ত লঙ্ঘন করেছে : ইরান শ’ ছাড়িয়েছে শসা-কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে ১৫ কৃষিবিদ বন্ধুর ৪৫ বিঘার নিরাপদ ফলের বাগান

১৭ জুলাই: ক্যাম্পাস থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন

২০২৪ সালের ১৭ জুলাই। শিক্ষার্থী আবু সাইদের নিহতের ঘটনার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়। সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, নিহতদের গায়েবানা জানাজা, কফিন মিছিলসহ পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দফায় দফায় পুলিশ হামলা চালালে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।  এদিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তবে তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের প্রতিফলন না ঘটায় পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়।

১৬ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারা দেশে অন্তত ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মাগফিরাত কামনায় ১৭ জুলাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাজু ভাস্কর্যে গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল কারার প্রস্তুতি নেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশি বাধায় ভিসি চত্বরেই গায়েবানা জানাজা পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় কর্মসূচি পন্ড করতে সাউন্ডগ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ।

গায়েবানা জানাজা শেষে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোনকারীরা টিএসসি অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবারও কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। এতে পণ্ড হয় কফিন মিছিল। এরপরই শুরু হয়, হলে হলে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ। এতে হল পাড়ায় শুরু হয় পুলিশের সাথে ছাত্রদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। পুলিশের সাথে হামলা চালায় ছাত্রলীগও। প্রায় ঘণ্টাব্যপী চলে এমন অবস্থা।হল ছাড়তে বাধ্য হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মদদে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একই সাথে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হল থেকে বিতাড়িত করে হলের কর্তৃত্ব নেয় ও আন্দোলন চালিয়ে যায়।

অবস্থা বেগতিক দেখে এদিন সরকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের স্পষ্ট প্রতিফলন না ঘটায় পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়। সারা দেশে কমপ্লিট শাট ডাউন ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত

১৭ জুলাই: ক্যাম্পাস থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন

আপডেট টাইম : ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের ১৭ জুলাই। শিক্ষার্থী আবু সাইদের নিহতের ঘটনার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়। সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, নিহতদের গায়েবানা জানাজা, কফিন মিছিলসহ পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দফায় দফায় পুলিশ হামলা চালালে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।  এদিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তবে তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের প্রতিফলন না ঘটায় পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়।

১৬ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারা দেশে অন্তত ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মাগফিরাত কামনায় ১৭ জুলাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাজু ভাস্কর্যে গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল কারার প্রস্তুতি নেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশি বাধায় ভিসি চত্বরেই গায়েবানা জানাজা পড়েন আন্দোলনকারীরা। এসময় কর্মসূচি পন্ড করতে সাউন্ডগ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ।

গায়েবানা জানাজা শেষে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোনকারীরা টিএসসি অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবারও কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। এতে পণ্ড হয় কফিন মিছিল। এরপরই শুরু হয়, হলে হলে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ। এতে হল পাড়ায় শুরু হয় পুলিশের সাথে ছাত্রদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। পুলিশের সাথে হামলা চালায় ছাত্রলীগও। প্রায় ঘণ্টাব্যপী চলে এমন অবস্থা।হল ছাড়তে বাধ্য হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মদদে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একই সাথে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হল থেকে বিতাড়িত করে হলের কর্তৃত্ব নেয় ও আন্দোলন চালিয়ে যায়।

অবস্থা বেগতিক দেখে এদিন সরকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের স্পষ্ট প্রতিফলন না ঘটায় পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়। সারা দেশে কমপ্লিট শাট ডাউন ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা।