ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক ‘ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

মেঘলাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়ি ও চালক আটক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মডেল ও অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়ি ও চালককে আটক করেছে পুলিশ। বনানী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অভিনেত্রীর পরিবারকে নিশ্চিত করা হলেও, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর হঠাৎ পুলিশি তৎপরতা ও তড়িঘড়ি করে গাড়ি আদালতে চালান দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
২৮ জুলাই রাতে ঢাকার বনানী এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী গাড়ি মেঘলা মুক্তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর পথচারী ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। জানা গেছে, ওই রাতেই বন্ধু ও সহশিল্পী অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ বাদী হয়ে বনানী থানায় অভিযোগ করেন। দুর্ঘটনায় মুখে ও মাথায় মারাত্মক আঘাত পাওয়া মেঘলা প্রায় ১ মাস আইসিইউ ও কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সম্প্রতি মুখে একাধিক অস্ত্রোপচারের পর কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি বাসায় ফেরেন।
দুর্ঘটনার পর থেকেই পুলিশের তৎপরতা না থাকার অভিযোগ উঠলে ১ সেপ্টেম্বর মেঘলার বাবা বাদী হয়ে বনানী থানায় পুনরায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ, গাড়ি ও চালককে আটকের কথা পরিবারকে জানায়। তবে, আটকের পরদিনই শুক্রবার সকালে গাড়িটি দ্রুত আদালতে চালান করে দেওয়া হয়।
পুলিশের এই ভূমিকা ও রহস্যজনক দ্রুততা নিয়ে শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মেঘলা মুক্তা। ফেসবুকে তিনি লেখেন, “আমার কিছু ‘ভেরি সিরিয়াস’ প্রশ্ন আছে। এক মাস ধরে গাড়িটির নম্বর জানা থাকা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলো না। অথচ ১ সেপ্টেম্বর নতুন করে অভিযোগ এবং ওপরমহলে চাপ দেওয়ার পর মাত্র এক দিনের মধ্যে, ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৮টায়, গাড়ি ও চালককে আটক করা হলো। আর আশ্চর্যের বিষয়, ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যেই গাড়িটি আদালতে চালান হয়ে গেল।”
তিনি আরও লেখেন, ‘এক মাসে যে কাজ হলো না, সেটা মাত্র এক দিনে কীভাবে হলো? আর শুক্রবার সকালেই এত দ্রুত কোর্টে চালান হয়ে গেল কীভাবে? তাহলে আমার প্রশ্ন- এই গাড়িটি আসলে কার?’
প্রশ্ন তুলে মেঘলা লেখেন, ‘গত এক মাসে বনানী থানার প্রাথমিক তদন্তের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই গাড়ির মালিক বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি/কোম্পানির কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছে? আমি কাউকে অভিযুক্ত করছি না- আমি প্রশ্ন করছি। কারণ, এই দ্রুততার ব্যাখ্যা আমি চাই। নাকি গাড়িটিকে কোর্টে চালান করে দিয়ে বনানী থানা নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে সরে দাঁড়াল। এখন কি সবকিছু কোর্ট আর আইনজীবীদের ওপর? আমার এর উত্তর জানার অধিকার আছে, আমি প্রশ্ন করেই যাব।’
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া

মেঘলাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়ি ও চালক আটক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট টাইম : ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মডেল ও অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়ি ও চালককে আটক করেছে পুলিশ। বনানী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অভিনেত্রীর পরিবারকে নিশ্চিত করা হলেও, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর হঠাৎ পুলিশি তৎপরতা ও তড়িঘড়ি করে গাড়ি আদালতে চালান দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
২৮ জুলাই রাতে ঢাকার বনানী এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী গাড়ি মেঘলা মুক্তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর পথচারী ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। জানা গেছে, ওই রাতেই বন্ধু ও সহশিল্পী অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ বাদী হয়ে বনানী থানায় অভিযোগ করেন। দুর্ঘটনায় মুখে ও মাথায় মারাত্মক আঘাত পাওয়া মেঘলা প্রায় ১ মাস আইসিইউ ও কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সম্প্রতি মুখে একাধিক অস্ত্রোপচারের পর কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি বাসায় ফেরেন।
দুর্ঘটনার পর থেকেই পুলিশের তৎপরতা না থাকার অভিযোগ উঠলে ১ সেপ্টেম্বর মেঘলার বাবা বাদী হয়ে বনানী থানায় পুনরায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ, গাড়ি ও চালককে আটকের কথা পরিবারকে জানায়। তবে, আটকের পরদিনই শুক্রবার সকালে গাড়িটি দ্রুত আদালতে চালান করে দেওয়া হয়।
পুলিশের এই ভূমিকা ও রহস্যজনক দ্রুততা নিয়ে শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মেঘলা মুক্তা। ফেসবুকে তিনি লেখেন, “আমার কিছু ‘ভেরি সিরিয়াস’ প্রশ্ন আছে। এক মাস ধরে গাড়িটির নম্বর জানা থাকা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলো না। অথচ ১ সেপ্টেম্বর নতুন করে অভিযোগ এবং ওপরমহলে চাপ দেওয়ার পর মাত্র এক দিনের মধ্যে, ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৮টায়, গাড়ি ও চালককে আটক করা হলো। আর আশ্চর্যের বিষয়, ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যেই গাড়িটি আদালতে চালান হয়ে গেল।”
তিনি আরও লেখেন, ‘এক মাসে যে কাজ হলো না, সেটা মাত্র এক দিনে কীভাবে হলো? আর শুক্রবার সকালেই এত দ্রুত কোর্টে চালান হয়ে গেল কীভাবে? তাহলে আমার প্রশ্ন- এই গাড়িটি আসলে কার?’
প্রশ্ন তুলে মেঘলা লেখেন, ‘গত এক মাসে বনানী থানার প্রাথমিক তদন্তের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই গাড়ির মালিক বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি/কোম্পানির কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছে? আমি কাউকে অভিযুক্ত করছি না- আমি প্রশ্ন করছি। কারণ, এই দ্রুততার ব্যাখ্যা আমি চাই। নাকি গাড়িটিকে কোর্টে চালান করে দিয়ে বনানী থানা নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে সরে দাঁড়াল। এখন কি সবকিছু কোর্ট আর আইনজীবীদের ওপর? আমার এর উত্তর জানার অধিকার আছে, আমি প্রশ্ন করেই যাব।’