ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জিয়া শিশু একাডেমির আয়োজনে ‎‘শাপলাকুঁড়ি’র প্রাথমিক বাছাই শুরু প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সরকারের : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ক্যানসার চিকিৎসায় ৩৬ কোটি অনুদান মেসির চুক্তিতে সেতু বিভাগের সচিব হলেন আবদুর রউফ নিউইয়র্কের পথে ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত স্পিকার ও ইসির : শিশির মনির ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হতে পারে জাতিসংঘ সম্মেলনের সাইডলাইনে পাকিস্তান-চীনের নতুন সীমান্ত চুক্তিতে ভারত কেন ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর পৃথিবীর ইতিহাসে বিশেষ মুহূর্ত: মাহদী আমিন দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ২ শতাংশেরও নিচে

রোহিঙ্গা সংকটকে ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ বললেন সাধারণ পরিষদ সভাপতি

রোহিঙ্গা সংকটকে একটি ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, সংঘাত বা সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; কেবল আলোচনা ও কূটনৈতিক পথেই এর স্থায়ী সমাধান মিলবে।

​জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ‘হাই-লেভেল উইক’ শুরুর প্রাক্কালে ‘জাতিসংঘ নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, সহিংসতা সমস্যাকে সমাধান করে না, বরং দীর্ঘায়িত ও আরও ভয়াবহ করে তোলে। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এত কষ্টের পরও তাদের টিকে থাকার ক্ষমতা এবং নিজ ভিটায় ফিরে যাওয়ার আকুতি প্রশংসনীয়।

খলিলুর রহমান জানান, সাধারণ পরিষদ বিশ্বনেতাদের একত্রিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাধান খোঁজার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম। তার এক বছরের মেয়াদে প্রধান লক্ষ্য—জাতিসংঘের প্রতি বিশ্ববাসীর ‘আস্থা পুনরুদ্ধার করা’। একই সঙ্গে জাতিসংঘের প্রয়োজনীয় সংস্কার, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

খলিলুর রহমান জানান, তার সভাপতির মেয়াদ শেষে উত্তরসূরির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আগে তিনি তিনটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখতে চান—জাতিসংঘের প্রয়োজনীয় সংস্কারে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একমত করা। সংস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও দ্রাব্যতা নিশ্চিত রাখা। স্থানীয় পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নে গতি আনা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই প্রযুক্তি মানবজাতির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে পারে, আবার মারাত্মক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ​তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের উদ্ভাবনের গতি থামানো যাবে না, তবে প্রযুক্তির সুরক্ষায় অবশ্যই উপযুক্ত নীতিমালা ও ‘গার্ডরেইল’ তৈরি করতে হবে। সরকারগুলোর পাশাপাশি প্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত সকল অংশীদারকে এই নিরাপত্তামূলক নীতিমালা তৈরির আলোচনায় যুক্ত হতে হবে।

​এদিকে, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি বিশেষ ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহযোগিতা আহ্বান করবেন বলে জানা গেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জিয়া শিশু একাডেমির আয়োজনে ‎‘শাপলাকুঁড়ি’র প্রাথমিক বাছাই শুরু

রোহিঙ্গা সংকটকে ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ বললেন সাধারণ পরিষদ সভাপতি

আপডেট টাইম : ৪৪ মিনিট আগে

রোহিঙ্গা সংকটকে একটি ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, সংঘাত বা সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; কেবল আলোচনা ও কূটনৈতিক পথেই এর স্থায়ী সমাধান মিলবে।

​জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ‘হাই-লেভেল উইক’ শুরুর প্রাক্কালে ‘জাতিসংঘ নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, সহিংসতা সমস্যাকে সমাধান করে না, বরং দীর্ঘায়িত ও আরও ভয়াবহ করে তোলে। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এত কষ্টের পরও তাদের টিকে থাকার ক্ষমতা এবং নিজ ভিটায় ফিরে যাওয়ার আকুতি প্রশংসনীয়।

খলিলুর রহমান জানান, সাধারণ পরিষদ বিশ্বনেতাদের একত্রিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাধান খোঁজার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম। তার এক বছরের মেয়াদে প্রধান লক্ষ্য—জাতিসংঘের প্রতি বিশ্ববাসীর ‘আস্থা পুনরুদ্ধার করা’। একই সঙ্গে জাতিসংঘের প্রয়োজনীয় সংস্কার, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

খলিলুর রহমান জানান, তার সভাপতির মেয়াদ শেষে উত্তরসূরির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আগে তিনি তিনটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখতে চান—জাতিসংঘের প্রয়োজনীয় সংস্কারে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একমত করা। সংস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও দ্রাব্যতা নিশ্চিত রাখা। স্থানীয় পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নে গতি আনা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই প্রযুক্তি মানবজাতির অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে পারে, আবার মারাত্মক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ​তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের উদ্ভাবনের গতি থামানো যাবে না, তবে প্রযুক্তির সুরক্ষায় অবশ্যই উপযুক্ত নীতিমালা ও ‘গার্ডরেইল’ তৈরি করতে হবে। সরকারগুলোর পাশাপাশি প্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত সকল অংশীদারকে এই নিরাপত্তামূলক নীতিমালা তৈরির আলোচনায় যুক্ত হতে হবে।

​এদিকে, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি বিশেষ ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহযোগিতা আহ্বান করবেন বলে জানা গেছে।