ঢাকা , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের প্রহার নিষিদ্ধ: বেফাকের ঐতিহাসিক ঘোষণা

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধ, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শিক্ষক নিয়োগে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-বেফাক। সোমবার (২ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষায় মাদ্রাসাগুলোর করণীয় নির্ধারণ করে প্রকাশিত এক নির্দেশনায় এসব কথা বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, রাগের বশবর্তী হয়ে শিক্ষার্থীদের বিচার, শাস্তি বা অপমান করা যাবে না। পড়াশোনায় অমনোযোগী কিংবা বেশি চঞ্চল শিক্ষার্থীদের শাস্তি না দিয়ে অভিভাবকদের জানাতে হবে। অবস্থার উন্নতি না হলে অভিভাবকদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। মাদ্রাসায় শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। লাঠি, বেত, স্কেল কিংবা অন্য কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করাও যাবে না।

এ ছাড়া নারী মাদ্রাসায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী দায়িত্বশীল বা শিক্ষিকা ছাড়া অন্য কাউকে শাসনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া যাবে না। প্রকাশ্যে অপমান, গালাগাল, কটূক্তি ও ভয় দেখানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ইসলামী শিক্ষামূলক আয়োজন, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ গ্রহণের পর সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদন ও গৃহীত পদক্ষেপ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। প্রার্থীর নৈতিকতা, চরিত্র ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে নিয়োগ দিতে হবে। অতীতে নৈতিক স্খলন বা অপরাধে জড়িত কাউকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

বেফাকের প্রধান পরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব নিয়ম না মানলে মাদ্রাসার ইলহাক বা স্বীকৃতি স্থগিত কিংবা বাতিল হতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের প্রহার নিষিদ্ধ: বেফাকের ঐতিহাসিক ঘোষণা

আপডেট টাইম : ৩৯ মিনিট আগে

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধ, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শিক্ষক নিয়োগে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-বেফাক। সোমবার (২ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষায় মাদ্রাসাগুলোর করণীয় নির্ধারণ করে প্রকাশিত এক নির্দেশনায় এসব কথা বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, রাগের বশবর্তী হয়ে শিক্ষার্থীদের বিচার, শাস্তি বা অপমান করা যাবে না। পড়াশোনায় অমনোযোগী কিংবা বেশি চঞ্চল শিক্ষার্থীদের শাস্তি না দিয়ে অভিভাবকদের জানাতে হবে। অবস্থার উন্নতি না হলে অভিভাবকদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। মাদ্রাসায় শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। লাঠি, বেত, স্কেল কিংবা অন্য কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করাও যাবে না।

এ ছাড়া নারী মাদ্রাসায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী দায়িত্বশীল বা শিক্ষিকা ছাড়া অন্য কাউকে শাসনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া যাবে না। প্রকাশ্যে অপমান, গালাগাল, কটূক্তি ও ভয় দেখানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ইসলামী শিক্ষামূলক আয়োজন, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ গ্রহণের পর সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদন ও গৃহীত পদক্ষেপ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। প্রার্থীর নৈতিকতা, চরিত্র ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে নিয়োগ দিতে হবে। অতীতে নৈতিক স্খলন বা অপরাধে জড়িত কাউকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

বেফাকের প্রধান পরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব নিয়ম না মানলে মাদ্রাসার ইলহাক বা স্বীকৃতি স্থগিত কিংবা বাতিল হতে পারে।