পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে দশম শ্রেণির ছাত্রী যুথি হত্যার ঘটনায় কথিত সাবেক প্রেমিকসহ তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য, মুঠোফোনের কল রেকর্ড ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আজ শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কেউ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেনি।
গ্রেপ্তাররা হলো আরাফাত হোসেন আকাশ (১৬), মো. শুভ ওরফে শান্ত (২২) ও মো. রাশেদ হাওলাদার (১৯)। গত বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন সময়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাড়ি থেকে বের হয় যুথি। সে সুবিদখালী র.ই. পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং দক্ষিণ ঘটকের আন্দুয়া মাছুয়াখালী গ্রামের জামাল হাওলাদারের মেয়ে। নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, সেদিন যুথি স্কুলে যায়নি।
নিখোঁজের দুই দিন পর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির কাছের একটি নালার ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে নালার পাশে যুথির জুতা দেখতে পান পরিবারের পরিচিত মমতাজ নামের এক নারী। পরে সেখানে খোঁজাখুঁজি করে মরদেহটি পাওয়া যায়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুথির সঙ্গে আরাফাতের আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কয়েক মাস আগে তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপরও আরাফাত যুথিকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে আরাফাতের সঙ্গে যুথির সর্বশেষ মুঠোফোনে কথা হয়। সকাল ৯টার দিকে সে বাড়ি থেকে বের হয়।
এ ছাড়া শুভ ও রাশেদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে যুথিকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব অভিযোগের পাশাপাশি মুঠোফোনের কল রেকর্ড ও অন্য তথ্য যাচাই করছে পুলিশ।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, মুঠোফোনের কল রেকর্ড এবং উত্ত্যক্ত করার অভিযোগের সূত্র ধরে তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, যুথির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে ধর্ষণ বা অন্য কোনো অপরাধ জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 























