ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে: হুমায়ুন কবীর সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা

ভারতের পাখি মানব

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ হরসুখ ভাই দোবারিয়া। বসবাস ভারতের গুজরাট রাজ্যের জুনাগধ শহরে। পেশায় কৃষক এই মানুষটি খুব বেশি অর্থ বিত্তের মালিক না হলেও তার রয়েছে একটি মহৎ হৃদয়। যেখানে মানুষ নানা ধরনের পরিবেশ বিনষ্টকারী কাজের মাধ্যমে পশু-পাখির জীবন বিপন্ন করে তুলছে সেখানে মহৎ হৃদয়ের এই মানুষটি কয়েক হাজার বন্য পাখির দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের প্রতিদিনের আহার থেকে শুরু করে বাসা বানিয়ে দেওয়ার কাজও করছেন নিজ হাতে। পাখিদের প্রতি এই ভালোবাসার ফলস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ‘বার্ড ম্যান’ বা ‘পাখি মানব’র খ্যাতি।
ঘটনার শুরু ২০০০ সালে। এক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যায় হরসুখের। বাড়িতে শুয়ে বসে কাটছিল দিন। একদিন এক প্রতিবেশী তার কাছে পোষা টিয়া পাখিকে খাওয়ানোর জন্য মিলিট দানা (এক ধরনের শস্য) নিতে আসে। বুদ্ধি খেলে যায় হরসুখের মাথায়। নিজের ঘরের বারান্দায় একটি মিলিট ঝুলিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পরে একটি টিয়া এসে খেয়ে যায় সেটি। পরদিন দুটি টিয়া আসে। এভাবে প্রতিদিন টিয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে। সাথে যোগ হয় চড়ুই।
সেই থেকে শুরু। মাঝখানে কেটে গেছে সতের বছর। তবে দীর্ঘ এই সময়ে একদিনের জন্যও তার এই কাজ থেমে থাকেনি। পাখির সংখ্যা বাড়তে বাড়তে তা পৌঁছেছে তিন হাজারে। বিপুল সংখ্যক এই পাখির আহারের পুরো বন্দোবস্ত নিজ হাতে করে চলেছেন হরসুখ।


পাখির প্রতি তীব্র ভালোবাসার কারণে নিজের বাসস্থান পর্যন্ত পরিবর্তন করেছেন তিনি। এক সময় তিনি থাকতেন শহরের মাঝখানে। বিপুল সংখ্যক পাখি আসার কারণে প্রতিবেশীরা প্রায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করত। প্রতিবেশীদের আভিযোগ আমলে নিয়ে তিনি ২০১২ সালে শহরের পাশে চার একর জায়গা নিয়ে তার স্বপ্নের পাখি আশ্রম গড়ে তুলেছেন।
নিজের এই অদ্ভুত শখ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পাখিদের এই প্রতিপালন আমার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। পাখিদের ডাকাডাকিতে অনেকেই বিরক্ত হলেও আমি এটাকে আমার জীবনের অংশ হিসেবেই মনে করি।’
তবে হরসুখ একা নন। তার পরিবারের সকলেই পাখিদের এই প্রতিপালন আনন্দ চিত্তে করেন। তার সন্তান কিরিপাল বলেন, ‘পাখিদের আমরা ভালোবাসি এবং তাদের বিরক্তিকর কাজ আমাদের জীবনের অংশস্বরূপ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে: হুমায়ুন কবীর

ভারতের পাখি মানব

আপডেট টাইম : ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ হরসুখ ভাই দোবারিয়া। বসবাস ভারতের গুজরাট রাজ্যের জুনাগধ শহরে। পেশায় কৃষক এই মানুষটি খুব বেশি অর্থ বিত্তের মালিক না হলেও তার রয়েছে একটি মহৎ হৃদয়। যেখানে মানুষ নানা ধরনের পরিবেশ বিনষ্টকারী কাজের মাধ্যমে পশু-পাখির জীবন বিপন্ন করে তুলছে সেখানে মহৎ হৃদয়ের এই মানুষটি কয়েক হাজার বন্য পাখির দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের প্রতিদিনের আহার থেকে শুরু করে বাসা বানিয়ে দেওয়ার কাজও করছেন নিজ হাতে। পাখিদের প্রতি এই ভালোবাসার ফলস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ‘বার্ড ম্যান’ বা ‘পাখি মানব’র খ্যাতি।
ঘটনার শুরু ২০০০ সালে। এক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যায় হরসুখের। বাড়িতে শুয়ে বসে কাটছিল দিন। একদিন এক প্রতিবেশী তার কাছে পোষা টিয়া পাখিকে খাওয়ানোর জন্য মিলিট দানা (এক ধরনের শস্য) নিতে আসে। বুদ্ধি খেলে যায় হরসুখের মাথায়। নিজের ঘরের বারান্দায় একটি মিলিট ঝুলিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পরে একটি টিয়া এসে খেয়ে যায় সেটি। পরদিন দুটি টিয়া আসে। এভাবে প্রতিদিন টিয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে। সাথে যোগ হয় চড়ুই।
সেই থেকে শুরু। মাঝখানে কেটে গেছে সতের বছর। তবে দীর্ঘ এই সময়ে একদিনের জন্যও তার এই কাজ থেমে থাকেনি। পাখির সংখ্যা বাড়তে বাড়তে তা পৌঁছেছে তিন হাজারে। বিপুল সংখ্যক এই পাখির আহারের পুরো বন্দোবস্ত নিজ হাতে করে চলেছেন হরসুখ।


পাখির প্রতি তীব্র ভালোবাসার কারণে নিজের বাসস্থান পর্যন্ত পরিবর্তন করেছেন তিনি। এক সময় তিনি থাকতেন শহরের মাঝখানে। বিপুল সংখ্যক পাখি আসার কারণে প্রতিবেশীরা প্রায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করত। প্রতিবেশীদের আভিযোগ আমলে নিয়ে তিনি ২০১২ সালে শহরের পাশে চার একর জায়গা নিয়ে তার স্বপ্নের পাখি আশ্রম গড়ে তুলেছেন।
নিজের এই অদ্ভুত শখ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পাখিদের এই প্রতিপালন আমার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। পাখিদের ডাকাডাকিতে অনেকেই বিরক্ত হলেও আমি এটাকে আমার জীবনের অংশ হিসেবেই মনে করি।’
তবে হরসুখ একা নন। তার পরিবারের সকলেই পাখিদের এই প্রতিপালন আনন্দ চিত্তে করেন। তার সন্তান কিরিপাল বলেন, ‘পাখিদের আমরা ভালোবাসি এবং তাদের বিরক্তিকর কাজ আমাদের জীবনের অংশস্বরূপ।