ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি : প্রধানমন্ত্রী জানাল জেদ্দা কনস্যুলেট পৃথক অভিযোগে সৌদির কারাগারে ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নজরুল-সুইটি হাজারো ডিসেম্বর আসবে, কিন্তু শেখ হাসিনা আসবে না ৩৮ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নভেম্বর থেকে ঢাকায় নতুন নিয়ম, এক রুটে চলবে এক কোম্পানির বাস ইয়েমেনে হুথিদের হামলায় নিহত ৭৩ বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারত টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি, মুম্বাইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মিকা সিং

চলমান টার্গেট কিলিং পরিকল্পিত, আওয়ামী লীগ জড়িত বলে মন্তব্য: খালেদা জিয়া

চলমান টার্গেট কিলিং পরিকল্পিত এবং এর সাথে আওয়ামী লীগ জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, দেশে এরআগে কখনো এমন টার্গেট কিলিং ঘটেনি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ সব ধর্মের মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে এটা পরিকল্পিত। আওয়ামী লীগের লোক এতে জড়িত। এই জন্যই হাসিনা বলেছেন আমি জানি। সেজন্য যে জেনেও এদেরকে ধরে না। এদের অনেককে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়ে এখন সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করছে।

বুধবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আয়োজিত ইফতারে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদ জিয়া বলেন, দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব আছে কিনা বলা মুশকিল। এ অবৈধ সরকার সত্যিকার ক্ষমতায় থেকে দেশ শাসন করছে নাকি অন্য কোনো শক্তি পেছন থেকে কাজ করছে জনগণের মধ্যে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘরে বাইরে কোথাও মানুষ নিরাপদ নয় এমন অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই নিরাপত্তাহীন, গণতন্ত্রহীণ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণ ও গণতন্ত্র এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, সরকার প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করছে প্রন্তু দায় দিচ্ছে বিএনপির ওপর। অভিযানের নামে গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কারাগারগুলোতে মানুষের ঠাঁই হচ্ছে না। বাথরুমেও মানুষ জায়গা পাচ্ছে না।

বিএনপি হত্যায় বিশ্বাস করে না এমন দাবি করে দলটির চেয়ারপারসন বলেন, ‘গণগ্রেপ্তারে এখন পর‌্যন্ত সাড়ে ১২ হাজারের মতো গ্রেপ্তার হয়েছে। ক্রসফায়ারে মারা গেছে ৫০জন। এই কি দেশ চালানোর নমুনা?

খালেদা জিয়া বলেন, কোনো ধর্মের মানুষ আওয়ামী লীগের আমলে নিরাপদ নয়। হিন্দুদের ওপর এই সরকার সবচেয়ে বেশি নির‌্যাতন করছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। লুটপাট করছে।

রমজানে সবাইকে সরকারের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অচিরেই দেখবেন আওয়ামী লীগকে জনগণ কিভাবে বিতারিত করে। তাদের কি পরিণতি হয়।’

তিনি বলেন, অস্ত্র-সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিগুলো এগিয়ে নিয়ে বিএনপি যাবে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ তৈরী করবো।’

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টিআই ফজলে রাব্বীর সভাপতিত্বে ইফতারে জোটের শরিকদের মধ্যে শফিউল আলম প্রধান, ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জেবেল রহমান গাণি, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, খন্দকার গোলাম মোর্তুজা, মো. কামারুজ্জামান, মজিবুর রহমান পেশওয়ারী, অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, কমরেড সাঈদ আহমেদ, খাজা গরীবে নেওয়াজ, আবুল কাশেম, শাহাদাত হোসেন সেলিম, গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, এম আমিনুর রহমান, জামায়াতের অ্যাডভোকেট মশিউর আলম, ড. হেলাল উদ্দিরূপ্রমুখ অংশ নেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ, ড. মাহবুব উল্লাহ, মাহফুজ উল্লারূ প্রমুখ। ইফতারের আগে দেশ ও জাতীর কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে

চলমান টার্গেট কিলিং পরিকল্পিত, আওয়ামী লীগ জড়িত বলে মন্তব্য: খালেদা জিয়া

আপডেট টাইম : ০৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুন ২০১৬

চলমান টার্গেট কিলিং পরিকল্পিত এবং এর সাথে আওয়ামী লীগ জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, দেশে এরআগে কখনো এমন টার্গেট কিলিং ঘটেনি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ সব ধর্মের মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে এটা পরিকল্পিত। আওয়ামী লীগের লোক এতে জড়িত। এই জন্যই হাসিনা বলেছেন আমি জানি। সেজন্য যে জেনেও এদেরকে ধরে না। এদের অনেককে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়ে এখন সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করছে।

বুধবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আয়োজিত ইফতারে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদ জিয়া বলেন, দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব আছে কিনা বলা মুশকিল। এ অবৈধ সরকার সত্যিকার ক্ষমতায় থেকে দেশ শাসন করছে নাকি অন্য কোনো শক্তি পেছন থেকে কাজ করছে জনগণের মধ্যে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘরে বাইরে কোথাও মানুষ নিরাপদ নয় এমন অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, এই নিরাপত্তাহীন, গণতন্ত্রহীণ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণ ও গণতন্ত্র এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, সরকার প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা করছে প্রন্তু দায় দিচ্ছে বিএনপির ওপর। অভিযানের নামে গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কারাগারগুলোতে মানুষের ঠাঁই হচ্ছে না। বাথরুমেও মানুষ জায়গা পাচ্ছে না।

বিএনপি হত্যায় বিশ্বাস করে না এমন দাবি করে দলটির চেয়ারপারসন বলেন, ‘গণগ্রেপ্তারে এখন পর‌্যন্ত সাড়ে ১২ হাজারের মতো গ্রেপ্তার হয়েছে। ক্রসফায়ারে মারা গেছে ৫০জন। এই কি দেশ চালানোর নমুনা?

খালেদা জিয়া বলেন, কোনো ধর্মের মানুষ আওয়ামী লীগের আমলে নিরাপদ নয়। হিন্দুদের ওপর এই সরকার সবচেয়ে বেশি নির‌্যাতন করছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। লুটপাট করছে।

রমজানে সবাইকে সরকারের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অচিরেই দেখবেন আওয়ামী লীগকে জনগণ কিভাবে বিতারিত করে। তাদের কি পরিণতি হয়।’

তিনি বলেন, অস্ত্র-সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিগুলো এগিয়ে নিয়ে বিএনপি যাবে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ তৈরী করবো।’

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টিআই ফজলে রাব্বীর সভাপতিত্বে ইফতারে জোটের শরিকদের মধ্যে শফিউল আলম প্রধান, ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জেবেল রহমান গাণি, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, খন্দকার গোলাম মোর্তুজা, মো. কামারুজ্জামান, মজিবুর রহমান পেশওয়ারী, অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, কমরেড সাঈদ আহমেদ, খাজা গরীবে নেওয়াজ, আবুল কাশেম, শাহাদাত হোসেন সেলিম, গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, এম আমিনুর রহমান, জামায়াতের অ্যাডভোকেট মশিউর আলম, ড. হেলাল উদ্দিরূপ্রমুখ অংশ নেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ, ড. মাহবুব উল্লাহ, মাহফুজ উল্লারূ প্রমুখ। ইফতারের আগে দেশ ও জাতীর কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।