বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ উপলক্ষে সবার দৃষ্টি এখন রাষ্ট্রপতির দিকে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। তিনি কাকে এবং কবে নিয়োগ দেবেন তা জানার অপেক্ষায় আছেন সবাই। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের জন্য বসে আছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণের পর থেকে প্রধান বিচারপতি পদে নতুন নিয়োগের বিষয়টি সামনে এসেছে। এসকে সিনহা ছুটিতে যাওয়ার পর থেকে মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সিঙ্গাপুর থেকে হাইকমিশনের মাধ্যমে এসকে সিনহা পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠান ১০ নভেম্বর। এরপর থেকে কেটে গেছে ৫ দিন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে কাউকে নিয়োগ দেননি। ফলে এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না এটা যেমন আলোচনা হচ্ছে, তেমনি কে হবেন নতুন প্রধান বিচারপতি তা নিয়ে চলছে নানা ধরনের কথা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল বলেন, সংবিধানে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে সময়ের বাধ্যবাধকতা নেই। রাষ্ট্রপতি যখন চাইবেন তখনই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারবেন। এটা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধান বিচারপতি নেই। এটা কোনো সংকট বা সমস্যা নয়। প্রধান বিচারপতি অনুপস্থিত থাকলে বা পদত্যাগ করলে কী হবে বা কে দায়িত্ব পালন করবেন, তা সংবিধানে বলা আছে। এ কারণে যখন সাবেক প্রধান বিচারপতি (সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) ছুটিতে গেলেন, তখন বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির দায়িত্বভার দেন। আইনমন্ত্রী আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে বলেন, এটিও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব। তবে আমি মনে করি, প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পরপরই আপিল বিভাগে বিচারপতির যে স্বল্পতা রয়েছে তা পূরণ করা হবে। গতকাল রাজধানীর বারিধারায় মাদকবিরোধী এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, বিচারক নিয়োগ প্রসঙ্গে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে (১) বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।’
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ গতকাল রাতে বাঙালী কণ্ঠকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, এ ক্ষেত্রে সময় নেয়া সমীচীন হবে না। তিনি বলেন, সংবিধানে কোথাও লেখা নেই, পদ শূন্য হলে কতদিনের মধ্যে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে। এ বিষয়ে সময়ের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও কেন পদটি খালি থাকবে তা জানতে চান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে একটি হচ্ছে বিচার বিভাগ। এ অঙ্গের প্রধান হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি। এজন্য পদটিতে নিয়োগে বেশি সময় নেয়া ঠিক হবে না। কি কারণে সময় নেয়া হচ্ছে সেটা আমি জানি না। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। অন্য বিচারপতির নিয়োগের সময় শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু তার পদ শূন্য থাকলে কে শপথ পড়াবেন। এসব বিবেচনায় প্রধান বিচারপতির নিয়োগ বিলম্ব করা ঠিক হবে না।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির ওপর নির্ভরশীল। তিনি কখন কাকে নিয়োগ দেবেন সেটা তার এখতিয়ার।
সরকারের সঙ্গে প্রায় ৩ মাস টানাপোড়েনের পর ১০ নভেম্বর পদত্যাগ করেন দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা)। তিনি ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টেবার বিদেশ যান। বিদেশ যাওয়ার ২৮ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠিয়ে দেয়ার জন্য তিনি নিজে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনে হস্তান্তর করেন। গত ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ওইদিনই এ সংক্রান্ত নথি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে আইন মন্ত্রণালয় পদত্যাগের কারণে প্রধান বিচারপতির পদটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের কার্যক্রম শুরু করেছে বিকাল পর্যন্ত এ নিয়ে কেউ কোনো কথা বলতে তবে গতকাল রাতে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক বাঙালী কণ্ঠকে বলেন, পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার চিঠি আমাদের কাছে আছে। রাষ্ট্রপতি যখন সিদ্ধান্ত দেবেন, আদেশ পেলেই তিনি যে প্রসেসে (প্রক্রিয়া) বলবেন সেভাবে হবে।
জানা গেছে, এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পর আইন মন্ত্রণালয় পদটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি সংক্রান্ত নথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির দফতরে পাঠাবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির পদটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারির পর রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি পদে নতুন নিয়োগের বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন।
২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এসকে সিনহা। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ৮১ দিন আগেই তার কার্যকাল শেষ হয়।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 






















