বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ শীতের পড়ন্ত বিকেল। দেশের ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলি নদীর রাউজান আর বোয়ালখালীর দু’পাড়ে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের ভিড়। নানা বয়সী মানুষের ভিড়ে প্রাণের উচ্ছ্বাস যেন উপচে পড়ছিল নদীর দু’পাড়ে। দীর্ঘ সময় পর ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ দেখতে বিকেলের মিষ্টি রোদ গায়ে মেখে লোকজন জড়ো হয়েছিল কর্ণফুলির দুই পাড়ে।
গত শনিবার অনুষ্ঠিত এই নৌকা বাইচ যেন ফিরিয়ে এনেছিল হারিয়ে যেতে বসা এক গ্রামীণ উৎসবকে। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের সামাজিক সংগঠন কর্ণফুলি সবুজ সংঘের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এই ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের।প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ১৩টি দল।
নৌকা বাইচে অংশ নেয়া দল গুলো হল দেওয়ানপুর এলাকার ‘মা মনসা’, পশ্চিম কদুরখীলের ‘জয় বাবা লোকনাথ’, চরণদ্বীপের তুয়ান আলী মাঝির দল, চান্দগাঁও এর কালুঘাট এলাকার ‘শ্রীমৎ স্বামী তারানন্দ’, রাঙ্গুনিয়ার খরণদ্বীপের জয় মা কালি, নোয়াপাড়া উভলং এর জয় মা, পশ্চিম কদুরখীলের জয় মা গঙ্গা, চৌধুরী ঘাট মায়ের দোয়া, চৌধুরী ঘাট মা-বাবার দোয়া, কালুর ঘাটের শ্রীশ্রী জগন্নাথ, রাউজানের কচুখাইন একতা সংঘ, ঝিকুটি পাড়া ও সুজন নৌকা দল।
তুমুল প্রতিদ্বন্ধিতার পর নৌকা বাইচে প্রথম স্থান অধিকার করে হরিলাল মাঝির নেতৃত্বে রাউজানের দেওয়ানপুর এলাকার ‘মা মনসা’ দল, দ্বিতীয় হন রূপন মাঝির নেতৃত্বে চান্দগাঁও এর কালুঘাট এলাকার ‘শ্রীমৎ স্বামী তারানন্দ’ এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেন প্রদীপ মাঝির নেতৃত্বাধীন রাউজানের কচুখাইন একতা সংঘ।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। খেলায় বিজয়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে পুরষ্কার হিসেবে যথাক্রমে নগদ দশ হাজার, পাঁচ হাজার ও তিন হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
নৌকা বাইচে অংশ নেয়া হরিলাল মাঝি জানান, ‘দীর্ঘ সময় পর ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আয়োজনের কথা শুনে আর বসে থাকতে পারিনি। তবে বেশি আনন্দ লাগছে প্রতিযোগিতায় দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে পেরে। কর্ণফুলির দু’পাড়ের মানুষের মাঝে আজ যে উচ্ছাস দেখেছি তাতে মনটা ভরে গেল।’
আয়োজক কমিটির সদস্য সেকান্দর হোসেন বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের প্রতি এলাকার মানুষের নাড়ির টান রয়েছে। ছোটকাল থেকে হালদা আর কর্ণফুলির নৌকা বাইচের জনপ্রিয়তার দৃশ্য দেখে দেখে আমরা বড় হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সংগঠনের প্রচেষ্টা ছিল কর্ণফুলি পাড়ের মানুষকে চিত্ত-বিনোদনের জন্য একটা নৌকা বাইচ আয়োজনের। আজ হাজার হাজার মানুষের উচ্ছ্বাসের মধ্যে আমাদের আয়োজনটা স্বার্থকতায় রূপ নিল। আগামীতে এই নৌকা বাইচের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করবো।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























