ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

যেসব খাবার খেলে নিয়ন্ত্রণে রাখবে উচ্চরক্তচাপ

*** Fresh Fruits *** Wide Desktop Background

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ খাদ্যতালিকায় সহজলভ্য এসব খাবার যোগ করে রক্তচাপ প্রাকৃতিকভাবেই স্বাভাবিক রাখা যায় বলে গবেষণায় প্রমাণিত হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নীরব ঘাতক বলে উল্লেখ করা হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৭৭ মিলিয়নের বেশি আমেরিকান উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যায় ভোগেন। যার ফলাফল হিসেবে ঘটতে পারে জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো ঘটনা। কিন্তু একটু সচেতন হলেই প্রাকৃতিক উপায়ে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। ড্যাশ (ডিএএসএইচ) ডায়েট অর্থাৎ ডায়েটারি অ্যাপ্রোচেস টু স্টপ হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যা সমাধানের জন্য খাদ্যাভ্যাসের অন্তর্গত করা হয় ফাইবার, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কম জিআই (গ্লাইসেমিক ইনডেক্স) সম্পন্ন কার্বোহাইড্রেট, যেগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৭ সালে জার্নাল অব দি একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়াটেটিকসে প্রকাশিত তথ্যে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে খাদ্যতালিকায় ফল, মাছ, বাদাম ও বীজ রাখার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাছাড়া রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় রাখার জন্য বেশকিছু খাবার ও স্ন্যাকস আইটেমের কথাও উল্লেখ করেছেন গবেষকরা। সেগুলো হলো—

 ওটমিল

অনেকেরই জানা নেই ম্যাগনেসিয়ামের খুব ভালো উৎস ওটমিল। জার্নাল অব ফ্যামিলি প্র্যাকটিসে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ওটমিল খেলে যাদের উচ্চরক্তচাপ রয়েছে, তাদের সিস্টোলিক ও ডিস্টোলিক উভয় চাপই হ্রাস পায়। ওটমিলে বিটা গ্লুক্যান নামক এক ধরনের ফাইবার রয়েছে, যা হূদস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওটমিলের সঙ্গে কলা, বেরিজাতীয় ফল ও বাদাম যোগ করে এর পুষ্টিগুণ আরো বাড়ানো যায়।

পেস্তা বাদাম

পর্যাপ্ত বাদাম খেলে রক্তচাপ কমে বলে বিশ্বাস করেন একাধিক স্বাস্থ্য গবেষক। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রক্তচাপ কমাতে পেস্তা শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। এতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফাইবার। উল্লেখ্য, পেস্তায় রয়েছে কলার চেয়েও বেশি পটাশিয়াম। এক মুঠো পেস্তায় রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পলিফেনল ও ক্যারোটিনয়েড। সালাদ বা দইয়ের ওপর ছড়িয়ে সকাল আর দুপুরের মাঝখানের সময়টায় খাওয়া যেতে পারে।

কমলা

কমলা পটাশিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাছাড়া এতে রয়েছে হেসপেরিডিন নামক এক প্রকার ফ্লেভোনয়েড, যা রক্তচাপ কমায় ও হূদরোগ এড়াতে ভূমিকা রাখে। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, স্থূলকায় পুরুষেরা রোজ কমলার রস খাওয়া শুরু করার পর তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক থেকেছে। তবে সেক্ষেত্রে তাজা ফল রস করে খেতে হবে।

লাল আঙুর

লাল রঙের আঙুরে আছে শক্তি। লাল আঙুরের পলিফেলন হূদস্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। লাল আঙুরে সবুজ রঙের চেয়ে অনেক বেশি পলিফেনল থাকে। যেমন— অ্যান্থোসায়ানিন, ক্যাটেকিন, এপিক্যাটেকিন ও কুয়ার্সটিন।

মসুর ডাল

মসুর ডালে রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও পটাশিয়াম। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনসমৃদ্ধ অন্যান্য ডালের চেয়ে মসুর ডাল কম জিআইসম্পন্ন। রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে রোজ খাবার টেবিলে রাখা যেতে পারে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রান্না করা মসুর ডাল।

বিটরুট

ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামসমৃদ্ধ বিটরুট উচ্চরক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। এতে রয়েছে উচ্চমানের ডায়েটারি নাইট্রেট, যা রক্তচাপ কমায় বলে গবেষণায় প্রমাণিত। ভেজে বা ভাপে সিদ্ধ করে বিটরুট খেলে এর মূল উপাদান অক্ষুণ্ন থাকে। তাছাড়া শসা, গাজর ও টমেটোর সঙ্গে সালাদ উপকরণ হিসেবেও বিটরুটের ব্যবহার রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

যেসব খাবার খেলে নিয়ন্ত্রণে রাখবে উচ্চরক্তচাপ

আপডেট টাইম : ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০১৮

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ খাদ্যতালিকায় সহজলভ্য এসব খাবার যোগ করে রক্তচাপ প্রাকৃতিকভাবেই স্বাভাবিক রাখা যায় বলে গবেষণায় প্রমাণিত হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নীরব ঘাতক বলে উল্লেখ করা হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৭৭ মিলিয়নের বেশি আমেরিকান উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যায় ভোগেন। যার ফলাফল হিসেবে ঘটতে পারে জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো ঘটনা। কিন্তু একটু সচেতন হলেই প্রাকৃতিক উপায়ে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। ড্যাশ (ডিএএসএইচ) ডায়েট অর্থাৎ ডায়েটারি অ্যাপ্রোচেস টু স্টপ হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যা সমাধানের জন্য খাদ্যাভ্যাসের অন্তর্গত করা হয় ফাইবার, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কম জিআই (গ্লাইসেমিক ইনডেক্স) সম্পন্ন কার্বোহাইড্রেট, যেগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৭ সালে জার্নাল অব দি একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়াটেটিকসে প্রকাশিত তথ্যে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে খাদ্যতালিকায় ফল, মাছ, বাদাম ও বীজ রাখার প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাছাড়া রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় রাখার জন্য বেশকিছু খাবার ও স্ন্যাকস আইটেমের কথাও উল্লেখ করেছেন গবেষকরা। সেগুলো হলো—

 ওটমিল

অনেকেরই জানা নেই ম্যাগনেসিয়ামের খুব ভালো উৎস ওটমিল। জার্নাল অব ফ্যামিলি প্র্যাকটিসে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ওটমিল খেলে যাদের উচ্চরক্তচাপ রয়েছে, তাদের সিস্টোলিক ও ডিস্টোলিক উভয় চাপই হ্রাস পায়। ওটমিলে বিটা গ্লুক্যান নামক এক ধরনের ফাইবার রয়েছে, যা হূদস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওটমিলের সঙ্গে কলা, বেরিজাতীয় ফল ও বাদাম যোগ করে এর পুষ্টিগুণ আরো বাড়ানো যায়।

পেস্তা বাদাম

পর্যাপ্ত বাদাম খেলে রক্তচাপ কমে বলে বিশ্বাস করেন একাধিক স্বাস্থ্য গবেষক। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রক্তচাপ কমাতে পেস্তা শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। এতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফাইবার। উল্লেখ্য, পেস্তায় রয়েছে কলার চেয়েও বেশি পটাশিয়াম। এক মুঠো পেস্তায় রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পলিফেনল ও ক্যারোটিনয়েড। সালাদ বা দইয়ের ওপর ছড়িয়ে সকাল আর দুপুরের মাঝখানের সময়টায় খাওয়া যেতে পারে।

কমলা

কমলা পটাশিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাছাড়া এতে রয়েছে হেসপেরিডিন নামক এক প্রকার ফ্লেভোনয়েড, যা রক্তচাপ কমায় ও হূদরোগ এড়াতে ভূমিকা রাখে। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, স্থূলকায় পুরুষেরা রোজ কমলার রস খাওয়া শুরু করার পর তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক থেকেছে। তবে সেক্ষেত্রে তাজা ফল রস করে খেতে হবে।

লাল আঙুর

লাল রঙের আঙুরে আছে শক্তি। লাল আঙুরের পলিফেলন হূদস্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। লাল আঙুরে সবুজ রঙের চেয়ে অনেক বেশি পলিফেনল থাকে। যেমন— অ্যান্থোসায়ানিন, ক্যাটেকিন, এপিক্যাটেকিন ও কুয়ার্সটিন।

মসুর ডাল

মসুর ডালে রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও পটাশিয়াম। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনসমৃদ্ধ অন্যান্য ডালের চেয়ে মসুর ডাল কম জিআইসম্পন্ন। রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে রোজ খাবার টেবিলে রাখা যেতে পারে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রান্না করা মসুর ডাল।

বিটরুট

ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামসমৃদ্ধ বিটরুট উচ্চরক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। এতে রয়েছে উচ্চমানের ডায়েটারি নাইট্রেট, যা রক্তচাপ কমায় বলে গবেষণায় প্রমাণিত। ভেজে বা ভাপে সিদ্ধ করে বিটরুট খেলে এর মূল উপাদান অক্ষুণ্ন থাকে। তাছাড়া শসা, গাজর ও টমেটোর সঙ্গে সালাদ উপকরণ হিসেবেও বিটরুটের ব্যবহার রয়েছে।