২০১৮ শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যের বই ছাপা নিয়ে হোঁচট খাচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বিশ্বব্যাংকের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া, মাধ্যমিক ও কারিগরি এবং ব্রেইল বইয়ের চাহিদা না পাওয়ায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। আর এ কারণে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও টেন্ডার আহ্বান করতে পারছে না এনসিটিবি। এতে আগামী শিক্ষাবর্ষের বই সময়মতো ছাপা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে আন্তর্জাতিক টেন্ডারসহ দরপত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হলে তা মুদ্রণ শিল্প সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে করতে হবে। অন্যথায় যেকোনো জটিলতার জন্য এনসিটিবি দায়ী থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুদ্রণ শিল্প মালিকরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যে পাঠ্যবই মুদ্রণের জন্য সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা (টেএপি) গ্রহণ করেও সে মতে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বই ছাপানোর প্রথমদিকের গুরুত্বপূর্ণ দুটি কাজ দরপত্র নির্দেশনা প্রণয়ন ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা। এই দুটি কাজই আটকে গেছে বিশ্বব্যাংকের ছাড়পত্র ও বইয়ের চাহিদা না পাওয়ায়। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিকের বই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল বইয়ের চাহিদা মাউশি এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইয়ের চাহিদা সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর দেয়ার কথা। এই সময়ের মধ্যে চাহিদাপত্র দেয়ার জন্য কয়েক দফা চিঠি দেয়া হলেও এ পর্যন্ত পুরো চাহিদা পাওয়া যায়নি। এক দফা সময় বাড়িয়ে প্রাথমিকে ১০ কোটি ২৭ লাখ বইয়ের চাহিদা পাওয়া গেছে বলে জানান উৎপাদন নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আব্দুল মাজিদ। তিনি বলেন, এরপরও কাজ শুরু করতে পারছি না বিশ্বব্যাংকের ছাড়পত্রের জন্য। তিনি বলেন, চলতি মাসের ৮ তারিখ এই ছাড়পত্র দেয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত আমরা সেটি পাইনি। এ জন্য টেন্ডার আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে পারছি না। অন্যদিকে সারা দেশে কারিগরিসহ মাধ্যমিক পর্যায়ে বইয়ের চাহিদা দেয়ার কথা মাউশির। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশের ৯টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের মধ্যে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, খুলনা, সিলেট চারটি চাহিদাপত্র পেয়েছে এনসিটিবি। বাকি ৫টির চাহিদা কবে নাগাদ দেবে তাও সঠিকভাবে বলছে পারছে না মাউশি। মাউশির উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) একেএম মোস্তফা কামাল বলেন, ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এনসিটিবিকে বইয়ের চাহিদা দেয়ার কথা। কিন্তু ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম চলে। ভর্তি শেষ হলেও সংখ্যার নিরূপণ করে চাহিদা দিতে একটু দেরি হচ্ছে। এনসিটিবির প্রধান বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোশতাক আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, এই সমস্যার কথা তারা মন্ত্রণালয়ের দরপত্র নির্দেশনা প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে কেন বলেনি। তিনি বলেন, তাদের চাহিদা না পাওয়ায় পুরো শিডিউল উল্টাপাল্টা হয়ে যাচ্ছে। কোনো কাজ শুরু করতে পারছি না। একই সমস্যা করছে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর। বারবার তাগিদ দেয়ার পরও তারা ব্রেইল বইয়ের চাহিদা দেয়নি।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, সময়মতো কাজ শুরু করতে না পারলে শেষের দিকে বইয়ের মান ও ভুলের সংশোধনের দিকে নজর দেয়া যায় না। ওই সময় শুধু নির্দিষ্ট সময় বই পৌঁছানো নিয়ে এনসিটিবি, প্রিন্টার্সসহ সবাই ব্যস্ত হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, গত বছরের বিল এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। একটি বিল না দিয়ে আরেকটি টেন্ডার করা তো অপরাধ। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে বিল দিতে হবে। না হলে ২ ভাগ হারে লভ্যাংশ দিতে হবে। কোনোটাই করছে না এনসিটিবি। তিনি বলেন, এনসিটিবির ফান্ডের টাকা থেকে আমাদের বিল দিতে পারে। কিন্তু সেটি না করে তারা এই টাকা এফডিআর করে লভাংশ খাচ্ছে। বছরের শুরুতেই কাজের হোঁচট খাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক প্রতি বছর এই ধরনের ঝামেলা করে। এবারও সেটি শুরু করছে। তাদের কারণে সরকারকে আন্তর্জাতিক টেন্ডার করতে হচ্ছে। এতে দেশের চরম ক্ষতি হচ্ছে। দেশীয় সম্ভাবনাময় একটি শিল্প হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, আমাদের দাবি, অবিলম্বে আন্তর্জাতিক টেন্ডার বাতিল ও বিশ্বব্যাংকের খবরদারি বন্ধ করতে হবে। মাত্র ৯% টাকার জন্য বিশ্বব্যাংকের কোনো খবরদারি আমরা চাই না।
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ
ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন
রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো
চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি
প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির
সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে। জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন
এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা
বিনামূল্যের বই ছাপা নিয়ে যা হচ্ছে-
-
বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক - আপডেট টাইম : ০৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মার্চ ২০১৭
- 746
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ



























