বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ প্রতিবছরের মতো এবারো শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ^বিদ্যালয়টির জলাশয়গুলো এরই মধ্যে অতিথি পাখিতে মুখর। লাল শাপলা ফুটে ওঠা এসব জলাশয়ে পরিযায়ী পাখিরা জলকেলি আর ওড়াউড়িতে মাতিয়ে রেখেছে পরিবেশ।

প্রতিবছর অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে হালকা শীতের সময়ে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে জাহাঙ্গীরনগরে আসতে থাকে পরিযায়ী পাখিরা। শীতের শেষ অর্থাৎ মাঘ মাস পর্যন্ত থাকে তাদের পদচারণা। এই পাখিদের আনাগোনার সঙ্গে যেন বদলে যায় ক্যাম্পাসের গাছপালায় ঢাকা সবুজ প্রকৃতিও। আর পাখির খাদ্য ও বসবাস উপযোগী জলাশয়গুলো অতিথি পাখিদের যেন স্বাগত জানাতে প্রস্তুত থাকে।

বসবাস উপযোগী পরিবেশ পাওয়ায় এবার অন্যবছরের চেয়ে পরিযায়ী পাখি আগমনের সংখা বাড়তে বলে মনে করছেন পাখি বিশেষষজ্ঞরা। কারণ এবার শুরুর সময় থেকেই পাখির সংখ্যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের জলাশয়ে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো পাখি অবস্থান করছে। শীত মৌসুম শেষে এই সংখ্যা দশ হাজার ছাড়াবে বলে ধারণা করছেন তারা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ২২টির মতো জলাশয় রয়েছে। তবে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ও পরিবহন চত্বরের পেছনের দুটি জলাশয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র’ সংলগ্ন দুটি জলাশয়ে পাখির পদচারণা বেশি।

এদিকে নানা রকম অতিথি পাখি দেখতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে পাখিপ্রেমিদের ভিড়ও বেড়েছে। তারা পাখি দেখতে সকাল এবং বিকালবেলা ক্যাম্পাসে আসছেন। অনেকেই আবার খুব সকালে গিয়ে সারাদিন ক্যাম্পাসে কাটিয়ে আসছেন।
জাবি কর্তৃপক্ষও ক্যাম্পাস এলাকাটিকে পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তাই আগত সকলকে নিয়ম কানুন মেনে চলা প্রয়োজন বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























