বৃহত্তর খুলনাঞ্চলে অনুকূল আবহাওয়ায় আমের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। খুলনা সাতক্ষীরা বাগেরহাট ও নড়াইলে ৭ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৭ হাজার ৯১৪ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ অঞ্চলের আম প্রতিবছর ইউরোপ আমেরিকায় রফতানি হচ্ছে। চলতি বছর এখান থেকে ৭শ’ মেট্রিক টন আম রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। আম চাষীদের চোখে মুখে খুশির ঝিলিক। মুকুল থেকে এখন গুটিতে রূপান্তির হয়েছে আম। কালবৈশাখী বা বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে এ অঞ্চলে আমের বাম্পার ফলনের আশা করছে চাষিরা।
বৃহত্তর খুলনাঞ্চল জুড়ে আম বাগানে ফোটা আমের মুকুল এখন গুটি আমে রূপ নিয়েছে। এর মিষ্টি সৌরভে মৌ মৌ করছে চারপাশ। অনুকূল আবহাওয়া আর বাগান মালিকদের নিবিড় পরিচর্যায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
খুলনা সাতক্ষীরা বাগেরহাট ও নড়াইল ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় সব বাগানেই এখন ছোট ছোট আম গাছে শোভা পাচ্ছে। এ যেন হলুদ আর সবুজের এক মহামিলন। নানা ধরনের ফুলের সুবাসের সঙ্গে বাতাসে ভাসছে গুটি আমের মৌ-মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মনকে বিমোহিত করে।
চাষিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আমের পরিমাণ অনেক বেশি। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে গোপাল ভোগ ও হিমসাগর আম পাওয়া যাবে বাজারে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা শিলাবৃষ্টি না হলে এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে আমের উৎপাদন। এ অঞ্চলের বিখ্যাত জাতের আমগুলোর মধ্যে রয়েছে হিমসাগর, আম্রপালি, গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, এবং তালা উপজেলার বিখ্যাত
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলের আমের প্রধান জেলা সাতক্ষীরায় ৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে ৭১ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সাতক্ষীরায় মোট ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হিমসাগর ৮৯৯ হেক্টর, আম্রপালি ৫৬৪ হেক্টর, গোবিন্দভোগ ৩৮২ হেক্টর, গোপালভোগ ২১৯ হেক্টর, লতা ১৪৩ হেক্টর, মল্লিকা ৮০ হেক্টর, বোম্বাই ৫০ হেক্টর এবং অন্যান্য স্থানীয় জাত ২৪৩ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১ হাজার ২৫০, কলারোয়ায় ৬৫৮, তালায় ৭১৫, দেবহাটায় ৩৭০, কালিগঞ্জে ৮৩৯, আশাশুনিতে ১৪৫ ও শ্যামনগরে ১৬০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ রয়েছে।
গত মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৭০ হাজার ৮৮০ টন। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। বর্তমানে জেলায় আমবাগানের সংখ্যা ৫ হাজার ২৯৯টি এবং মোট আমচাষির সংখ্যা ৫০ হাজার ৭৪৫ জন। এর মধ্যে নিবন্ধিত চাষি রয়েছেন ৩৫১ জন।
খুলনার পাইকগাছার আম চাষি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর মাঘের শেষ থেকেই আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়। কুয়াশা কম থাকায় মুকুলগুলো বেশ সতেজ ছিল। আমরা নিয়মিত বাগানে বিষমুক্ত ওষুধ ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করছি। যদি শিলাবৃষ্টি না হয়, তবে এবার অনেক লাভবান হতে পারবো।’
তালা উপজেলার বাগান মালিক কাশেম ব্যাপারী বলেন, আমার ১০ বিঘা জমিতে হিমসাগর ও ল্যাংড়া জাতের আমের বাগান আছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী গাছের গোড়ায় পানি ও জৈব সার দিচ্ছি। মুকুলে স্প্রে করেছি। আমরা এখন রাত-দিন বাগান পাহারা দিচ্ছি যেন আমের গুটির কোনো ক্ষতি না হয়।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, খুলনা বাগেরহাট ও নড়াইলের তুলনায় ‘সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। গুটি টিকিয়ে রাখতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচর্যার কথা বলা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে এবার ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদনে কোনো ঘাটতি না থাকে। সব মিলিয়ে সাতক্ষীরার কৃষকদের চোখে-মুখে এখন সোনালি স্বপ্নের ঝিলিক।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 























