ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

বাংলাদেশই শেষ হাসি হাসবে

উদ্বোধনী ম্যাচের সব টিকিট অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে বলে শুনলাম। দর্শক উপস্থিতি কেমন হবে, এ তথ্য থেকেই তা অনুমান করে নেওয়া যেতে পারে। অবশ্য দর্শক সমর্থনটা এখানে একপক্ষীয় হবে না কিছুতেই। হ্যাঁ, ইংল্যান্ড নিজেদের মাঠেই খেলছে। তবে আমি নিশ্চিত যে ওভালের গ্যালারিতে গলা ফাটাতে প্রচুরসংখ্যক বাংলাদেশিও থাকবেন। তাই দেশের বাইরে খেলার অনুভূতি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের হবে না বলেই আমার মনে হয়।

তাই বলে বাংলাদেশের কাজ সহজও হয়ে যাচ্ছে না। কারণ এই মুহূর্তে ইংল্যান্ড দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে। ২০১৫-র ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলা দলটির চেয়ে একেবারেই আলাদা একটি দল। খেলছে বিনোদনদায়ী ও ভয়ডরহীন ক্রিকেটও। তা ছাড়া ইংল্যান্ডের মাটিতে ওদের হারানো সব সময়ই বড্ড মুশকিলের কাজ। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে সেরা দলকে আপনার হারাতেই হবে। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ দলের মাথায়ও এটি আছে যে ইংল্যান্ডকে হারাতে হলে ম্যাচের পুরো সময়জুড়েই নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে।

এই গ্রুপে (‘এ’ গ্রুপ) বাংলাদেশই ভারতীয় উপমহাদেশের একমাত্র দল। কিন্তু অতীতে ভারত এবং পাকিস্তান দেখিয়েছে যে এশিয়ার দলের পক্ষেও ইংলিশ কন্ডিশন থেকে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সফল হয়ে ফেরা সম্ভব। বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা খুঁজতে পারে এখান থেকেও। সেই সঙ্গে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর স্মৃতি তো আছেই। যেটি র্যাংকিংয়েও আরো ওপরে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। ধীরে-সুস্থে শুরু করা দলটি ক্রমেই নিজেদের ছন্দটা ধরে নিয়েছে। এত দিনে কন্ডিশনের সঙ্গে অবশ্যই মানিয়ে নেওয়ার কথা ওদের। অবশ্য এটাও স্বীকার করতে হয় নিউজিল্যান্ডের যে দলটিকে ওরা হারিয়েছে, তাতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলের অনেকেই ছিল না। আবার এটাও ঠিক যে একটি দারুণ জয়ের চেয়ে আত্মবিশ্বাস জাগানিয়া আর কিছুই হয় না। আশা করছি লন্ডনে রোদ ঝলমলে দিনই হবে। উইকেটও দারুণ ক্রিকেটের উপযোগীই হবে। তবে মেঘলা আবহাওয়া হলে ইংল্যান্ডে ব্যাটিং করাটা উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য সব সময়ই কঠিন। কারণ তখন সুইং সামলানোটা মুশকিলের হয়ে যায়। কাজেই বাংলাদেশও রৌদ্রোজ্জ্বল দিনই আশা করবে।

বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত জয়টি ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই অ্যাডিলেড ওভালে, ২০১৫-র বিশ্বকাপে। ওরা কি আবারও পারবে ইংল্যান্ডকে হারাতে? আমি মনে করি পারবে। ইংল্যান্ড এখন যদিও অনেক ভালো দল। তবু আমি বিশ্বাস করি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। বাংলাদেশ এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে নতুন করে আর প্রমাণের কিছু নেই। গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ দেখিয়েছে, যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য ওদের আছে। যদি ওরা না জেতে, আমি সেটিকে ওদের ব্যর্থতাই বলব। কারণ খেলার মান ও ধারাবাহিকতা দিয়ে ওরা প্রত্যাশাকে ওই জায়গায়ই নিয়ে যেতে পেরেছে। ইংল্যান্ড অবশ্য ফেভারিট হিসেবেই শুরু করবে। কিন্তু তথ্য-পরিসংখ্যান কিংবা বিশেষজ্ঞদের ভুল প্রমাণের নজির ক্রিকেটে কম নেই। আমি নিশ্চিত যে আমরা দারুণ একটি ম্যাচই দেখব এবং সেই ম্যাচের শেষে বাংলাদেশই শেষ হাসি হাসবে বলে আশা রাখি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

বাংলাদেশই শেষ হাসি হাসবে

আপডেট টাইম : ০৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০১৭

উদ্বোধনী ম্যাচের সব টিকিট অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে বলে শুনলাম। দর্শক উপস্থিতি কেমন হবে, এ তথ্য থেকেই তা অনুমান করে নেওয়া যেতে পারে। অবশ্য দর্শক সমর্থনটা এখানে একপক্ষীয় হবে না কিছুতেই। হ্যাঁ, ইংল্যান্ড নিজেদের মাঠেই খেলছে। তবে আমি নিশ্চিত যে ওভালের গ্যালারিতে গলা ফাটাতে প্রচুরসংখ্যক বাংলাদেশিও থাকবেন। তাই দেশের বাইরে খেলার অনুভূতি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের হবে না বলেই আমার মনে হয়।

তাই বলে বাংলাদেশের কাজ সহজও হয়ে যাচ্ছে না। কারণ এই মুহূর্তে ইংল্যান্ড দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে। ২০১৫-র ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলা দলটির চেয়ে একেবারেই আলাদা একটি দল। খেলছে বিনোদনদায়ী ও ভয়ডরহীন ক্রিকেটও। তা ছাড়া ইংল্যান্ডের মাটিতে ওদের হারানো সব সময়ই বড্ড মুশকিলের কাজ। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে সেরা দলকে আপনার হারাতেই হবে। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ দলের মাথায়ও এটি আছে যে ইংল্যান্ডকে হারাতে হলে ম্যাচের পুরো সময়জুড়েই নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে।

এই গ্রুপে (‘এ’ গ্রুপ) বাংলাদেশই ভারতীয় উপমহাদেশের একমাত্র দল। কিন্তু অতীতে ভারত এবং পাকিস্তান দেখিয়েছে যে এশিয়ার দলের পক্ষেও ইংলিশ কন্ডিশন থেকে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সফল হয়ে ফেরা সম্ভব। বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা খুঁজতে পারে এখান থেকেও। সেই সঙ্গে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর স্মৃতি তো আছেই। যেটি র্যাংকিংয়েও আরো ওপরে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। ধীরে-সুস্থে শুরু করা দলটি ক্রমেই নিজেদের ছন্দটা ধরে নিয়েছে। এত দিনে কন্ডিশনের সঙ্গে অবশ্যই মানিয়ে নেওয়ার কথা ওদের। অবশ্য এটাও স্বীকার করতে হয় নিউজিল্যান্ডের যে দলটিকে ওরা হারিয়েছে, তাতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলের অনেকেই ছিল না। আবার এটাও ঠিক যে একটি দারুণ জয়ের চেয়ে আত্মবিশ্বাস জাগানিয়া আর কিছুই হয় না। আশা করছি লন্ডনে রোদ ঝলমলে দিনই হবে। উইকেটও দারুণ ক্রিকেটের উপযোগীই হবে। তবে মেঘলা আবহাওয়া হলে ইংল্যান্ডে ব্যাটিং করাটা উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য সব সময়ই কঠিন। কারণ তখন সুইং সামলানোটা মুশকিলের হয়ে যায়। কাজেই বাংলাদেশও রৌদ্রোজ্জ্বল দিনই আশা করবে।

বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত জয়টি ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই অ্যাডিলেড ওভালে, ২০১৫-র বিশ্বকাপে। ওরা কি আবারও পারবে ইংল্যান্ডকে হারাতে? আমি মনে করি পারবে। ইংল্যান্ড এখন যদিও অনেক ভালো দল। তবু আমি বিশ্বাস করি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। বাংলাদেশ এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে নতুন করে আর প্রমাণের কিছু নেই। গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ দেখিয়েছে, যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য ওদের আছে। যদি ওরা না জেতে, আমি সেটিকে ওদের ব্যর্থতাই বলব। কারণ খেলার মান ও ধারাবাহিকতা দিয়ে ওরা প্রত্যাশাকে ওই জায়গায়ই নিয়ে যেতে পেরেছে। ইংল্যান্ড অবশ্য ফেভারিট হিসেবেই শুরু করবে। কিন্তু তথ্য-পরিসংখ্যান কিংবা বিশেষজ্ঞদের ভুল প্রমাণের নজির ক্রিকেটে কম নেই। আমি নিশ্চিত যে আমরা দারুণ একটি ম্যাচই দেখব এবং সেই ম্যাচের শেষে বাংলাদেশই শেষ হাসি হাসবে বলে আশা রাখি।