ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

বাংলাদেশই শেষ হাসি হাসবে

উদ্বোধনী ম্যাচের সব টিকিট অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে বলে শুনলাম। দর্শক উপস্থিতি কেমন হবে, এ তথ্য থেকেই তা অনুমান করে নেওয়া যেতে পারে। অবশ্য দর্শক সমর্থনটা এখানে একপক্ষীয় হবে না কিছুতেই। হ্যাঁ, ইংল্যান্ড নিজেদের মাঠেই খেলছে। তবে আমি নিশ্চিত যে ওভালের গ্যালারিতে গলা ফাটাতে প্রচুরসংখ্যক বাংলাদেশিও থাকবেন। তাই দেশের বাইরে খেলার অনুভূতি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের হবে না বলেই আমার মনে হয়।

তাই বলে বাংলাদেশের কাজ সহজও হয়ে যাচ্ছে না। কারণ এই মুহূর্তে ইংল্যান্ড দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে। ২০১৫-র ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলা দলটির চেয়ে একেবারেই আলাদা একটি দল। খেলছে বিনোদনদায়ী ও ভয়ডরহীন ক্রিকেটও। তা ছাড়া ইংল্যান্ডের মাটিতে ওদের হারানো সব সময়ই বড্ড মুশকিলের কাজ। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে সেরা দলকে আপনার হারাতেই হবে। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ দলের মাথায়ও এটি আছে যে ইংল্যান্ডকে হারাতে হলে ম্যাচের পুরো সময়জুড়েই নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে।

এই গ্রুপে (‘এ’ গ্রুপ) বাংলাদেশই ভারতীয় উপমহাদেশের একমাত্র দল। কিন্তু অতীতে ভারত এবং পাকিস্তান দেখিয়েছে যে এশিয়ার দলের পক্ষেও ইংলিশ কন্ডিশন থেকে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সফল হয়ে ফেরা সম্ভব। বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা খুঁজতে পারে এখান থেকেও। সেই সঙ্গে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর স্মৃতি তো আছেই। যেটি র্যাংকিংয়েও আরো ওপরে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। ধীরে-সুস্থে শুরু করা দলটি ক্রমেই নিজেদের ছন্দটা ধরে নিয়েছে। এত দিনে কন্ডিশনের সঙ্গে অবশ্যই মানিয়ে নেওয়ার কথা ওদের। অবশ্য এটাও স্বীকার করতে হয় নিউজিল্যান্ডের যে দলটিকে ওরা হারিয়েছে, তাতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলের অনেকেই ছিল না। আবার এটাও ঠিক যে একটি দারুণ জয়ের চেয়ে আত্মবিশ্বাস জাগানিয়া আর কিছুই হয় না। আশা করছি লন্ডনে রোদ ঝলমলে দিনই হবে। উইকেটও দারুণ ক্রিকেটের উপযোগীই হবে। তবে মেঘলা আবহাওয়া হলে ইংল্যান্ডে ব্যাটিং করাটা উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য সব সময়ই কঠিন। কারণ তখন সুইং সামলানোটা মুশকিলের হয়ে যায়। কাজেই বাংলাদেশও রৌদ্রোজ্জ্বল দিনই আশা করবে।

বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত জয়টি ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই অ্যাডিলেড ওভালে, ২০১৫-র বিশ্বকাপে। ওরা কি আবারও পারবে ইংল্যান্ডকে হারাতে? আমি মনে করি পারবে। ইংল্যান্ড এখন যদিও অনেক ভালো দল। তবু আমি বিশ্বাস করি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। বাংলাদেশ এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে নতুন করে আর প্রমাণের কিছু নেই। গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ দেখিয়েছে, যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য ওদের আছে। যদি ওরা না জেতে, আমি সেটিকে ওদের ব্যর্থতাই বলব। কারণ খেলার মান ও ধারাবাহিকতা দিয়ে ওরা প্রত্যাশাকে ওই জায়গায়ই নিয়ে যেতে পেরেছে। ইংল্যান্ড অবশ্য ফেভারিট হিসেবেই শুরু করবে। কিন্তু তথ্য-পরিসংখ্যান কিংবা বিশেষজ্ঞদের ভুল প্রমাণের নজির ক্রিকেটে কম নেই। আমি নিশ্চিত যে আমরা দারুণ একটি ম্যাচই দেখব এবং সেই ম্যাচের শেষে বাংলাদেশই শেষ হাসি হাসবে বলে আশা রাখি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

বাংলাদেশই শেষ হাসি হাসবে

আপডেট টাইম : ০৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০১৭

উদ্বোধনী ম্যাচের সব টিকিট অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে বলে শুনলাম। দর্শক উপস্থিতি কেমন হবে, এ তথ্য থেকেই তা অনুমান করে নেওয়া যেতে পারে। অবশ্য দর্শক সমর্থনটা এখানে একপক্ষীয় হবে না কিছুতেই। হ্যাঁ, ইংল্যান্ড নিজেদের মাঠেই খেলছে। তবে আমি নিশ্চিত যে ওভালের গ্যালারিতে গলা ফাটাতে প্রচুরসংখ্যক বাংলাদেশিও থাকবেন। তাই দেশের বাইরে খেলার অনুভূতি বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের হবে না বলেই আমার মনে হয়।

তাই বলে বাংলাদেশের কাজ সহজও হয়ে যাচ্ছে না। কারণ এই মুহূর্তে ইংল্যান্ড দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে। ২০১৫-র ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলা দলটির চেয়ে একেবারেই আলাদা একটি দল। খেলছে বিনোদনদায়ী ও ভয়ডরহীন ক্রিকেটও। তা ছাড়া ইংল্যান্ডের মাটিতে ওদের হারানো সব সময়ই বড্ড মুশকিলের কাজ। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে সেরা দলকে আপনার হারাতেই হবে। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ দলের মাথায়ও এটি আছে যে ইংল্যান্ডকে হারাতে হলে ম্যাচের পুরো সময়জুড়েই নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে।

এই গ্রুপে (‘এ’ গ্রুপ) বাংলাদেশই ভারতীয় উপমহাদেশের একমাত্র দল। কিন্তু অতীতে ভারত এবং পাকিস্তান দেখিয়েছে যে এশিয়ার দলের পক্ষেও ইংলিশ কন্ডিশন থেকে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সফল হয়ে ফেরা সম্ভব। বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা খুঁজতে পারে এখান থেকেও। সেই সঙ্গে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর স্মৃতি তো আছেই। যেটি র্যাংকিংয়েও আরো ওপরে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। ধীরে-সুস্থে শুরু করা দলটি ক্রমেই নিজেদের ছন্দটা ধরে নিয়েছে। এত দিনে কন্ডিশনের সঙ্গে অবশ্যই মানিয়ে নেওয়ার কথা ওদের। অবশ্য এটাও স্বীকার করতে হয় নিউজিল্যান্ডের যে দলটিকে ওরা হারিয়েছে, তাতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলের অনেকেই ছিল না। আবার এটাও ঠিক যে একটি দারুণ জয়ের চেয়ে আত্মবিশ্বাস জাগানিয়া আর কিছুই হয় না। আশা করছি লন্ডনে রোদ ঝলমলে দিনই হবে। উইকেটও দারুণ ক্রিকেটের উপযোগীই হবে। তবে মেঘলা আবহাওয়া হলে ইংল্যান্ডে ব্যাটিং করাটা উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য সব সময়ই কঠিন। কারণ তখন সুইং সামলানোটা মুশকিলের হয়ে যায়। কাজেই বাংলাদেশও রৌদ্রোজ্জ্বল দিনই আশা করবে।

বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত জয়টি ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই অ্যাডিলেড ওভালে, ২০১৫-র বিশ্বকাপে। ওরা কি আবারও পারবে ইংল্যান্ডকে হারাতে? আমি মনে করি পারবে। ইংল্যান্ড এখন যদিও অনেক ভালো দল। তবু আমি বিশ্বাস করি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। বাংলাদেশ এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে নতুন করে আর প্রমাণের কিছু নেই। গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ দেখিয়েছে, যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য ওদের আছে। যদি ওরা না জেতে, আমি সেটিকে ওদের ব্যর্থতাই বলব। কারণ খেলার মান ও ধারাবাহিকতা দিয়ে ওরা প্রত্যাশাকে ওই জায়গায়ই নিয়ে যেতে পেরেছে। ইংল্যান্ড অবশ্য ফেভারিট হিসেবেই শুরু করবে। কিন্তু তথ্য-পরিসংখ্যান কিংবা বিশেষজ্ঞদের ভুল প্রমাণের নজির ক্রিকেটে কম নেই। আমি নিশ্চিত যে আমরা দারুণ একটি ম্যাচই দেখব এবং সেই ম্যাচের শেষে বাংলাদেশই শেষ হাসি হাসবে বলে আশা রাখি।