ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

একজন বিপ্লব সরকার

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ একজন ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার, তিনি বাংলাদেশ পুলিশের তেজগাঁও জোনের ডিসি, তার ডিসি পরিচয়কে ছাপিয়ে, সব থেকে বড় পরিচয়, তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা, তিনি জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। দলের দুঃসময়ে, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, লড়াই সংগ্রামে তিনি ছিলেন মিছিলের অগ্রভাগে।

ডিসি বিপ্লব কুমার এর জন্ম কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার খরমপট্টিতে। তিনি কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি ও গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সহিত এইচএসি সি পাশ করেন। ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার ছিল অন অসীম দুর্বলতা, তাই কলেজ জীবনে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, স্কুল কলেজ জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত, রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হোন।তার রাজনীতির জন্য আবার প্রাণ ফিরে পায়, এরপর রাজপথে সামনে থেকে, লড়াই সংগ্রাম করে ১৯৯৪ সালে জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। দলের দুঃসময়ে, আওয়ামীলীগের জন্য নিবেদিত প্রাণ এই অকুতোভয় সৈনিক জেলও খেটেছেন বেশ কয়েকবার।

চাকরি জীবনে প্রবেশ করেন ২১ তম বিসিএস এর মাধ্যমে, তিনি প্রথম জয়নিং করেন মোহাম্মদপুর জোনের এএসপি হিসেবে, এরপর আস্তে আস্তে চড়াই-উৎরাই পার হয়ে, তিনি তেজগাঁও জোনের ডিসি হন। তিনি পুলিশের ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ ২৪ বার শ্রেষ্ঠ ডিসি হিসেবে খেতাব পান। বিপ্লব কুমার সরকার ২০১৩ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অবদান রেখে রেকর্ড সংখ্যক ২৪ বার শ্রেষ্ঠ উপ-কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অত্যন্ত সফলতার পরিচয় দিয়ে তেজগাঁও বিভাগ পুলিশকে পরিচালনায় উপ-কমিশনারের (ডিসি) দায়িত্ব পালন করে প্রায় নিয়মিত শ্রেষ্ঠ ডিসির পুরস্কার জিতেছেন বিপ্লব কুমার সরকার। যা একটি বিরল ঘটনা।রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি দুই বার পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম ও একবার পিপিএম পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনি ২০১৪ সালে পিপিএম, ২০১৬ সালে বিপিএম এবং ২০১৮ সালে তিনি আবারো বিপিএম পদক পেয়েছেন।ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আটটি বিভাগে বিভক্ত। এরমধ্যে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ তেজগাঁও। ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার গত ২০১৩ সালের ৭ এপ্রিল থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অবদান রেখেছেন।পেশাগত মর্যাদার কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তাদের মধ্যে তাকে বলা হয় সেরাদের সেরা।

তিনি শুধু পুলিশের গণ্ডির মধ্যে, নিজেকে আটকে রাখেন নি, সামাজিক কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন।

নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ‘বঙ্গবন্ধু পাগল’ অসাধারণ এবং বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী মানুষটি নিয়েছিলেন বিশেষ এক উদ্যোগ। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য

বঙ্গবন্ধুর ভাবনা-দর্শন এবং ওই সময়ে বঙ্গবন্ধুর কারা জীবনের দিনলিপি নিয়ে বাংলা একাডেমি’র প্রকাশিত ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইটিতে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

তাঁর নিজের ভাবনা আর স্বপ্ন থেকেই ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইটি নিয়ে অনন্য এক উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এ উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি)।

বঙ্গবন্ধু রচিত এ বইটির ওপর কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন তিনি।

সুবিধাবঞ্চিত অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য অন্যতম একজন মানুষ উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার।শতাধিক শিশুদের নিয়ে ইফতার ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন তিনি।

তিনি মানুষ হিসেবে কতটা ভালো, তা নিচের চিঠিটাতেই বুঝা যায়।

‘খুব খুশী হবো যদি আপনি আমাদের সাথে একদিন ইফতার খান’

প্রিয় ডিসি স্যার,
আমার সালাম নিবেন। আশাকরি ভালো আছেন। আমি জহুরী মহললা পোড়া বস্তিতে থাকি। আমি ছায়াতল বিদ্যাপীঠে চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ি। আমি বড় হয়ে পুলিশ হতে চাই। খুব খুশী হবো যদি আপনি আমাদের সাথে একদিন ইফতার খান। ঈদ মোবারক।

আমার নাম বর্ষা আক্তার
শ্রেনী: ৪র্থ
রোল: ৬

পরে তিনি ওদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেন, ইফতার উপলক্ষ্যে এই শিশুদের জন্য নানান রকমের খাবার ও ফল, জুস এর ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি, ইফতার শেষে এই হত দরিদ্র শিশুদের মাঝে তিনি ঈদের নতুন জামা কাপড়, ঈদ বকশিস হিসেবে নতুন টাকা সহ বিভিন্ন রকমের উপকরণ উপহার  বিতরন করেছিলেন।

বহুল আলোচিত শিশু হাসপাতালে ওয়াশরুমে পাওয়া শিশু ‘গহীনের ‘ দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিপ্লব কুমার সরকার, পরে তিনি তাকে ছোটমনি নিবাসের তত্তাবধায়কের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে, কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন তিনি।

গত ১৩.০৪.২০১৯ ইং তারিখ রাত ১১.২১ ঘটিকায় তৃষা (ছদ্মনাম) নামের Ahsanullah University Of Science And Technology (AUST) একজন ছাত্রী তার সাথে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাংক্ষিত ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন,পরে ডিসি বিপ্লব কুমার এর তত্ত্বাবধানে ঐ ব্যক্তি কে গ্রেফতার করা হয়।

টাঙ্গাইল থেকে আসা ১০০ ছোট্ট শিশুকে নিয়ে সত্যিকার অর্থে ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন, ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার। সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখিয়েছিলেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘর। জাতির এই সূর্যসন্তান সম্পর্কে জানিয়েছিলেন ওদের। এমন দিন ওদের জীবনে আর কখনও আসবেনা। হয়ত ছোট্ট এই শিশুদের স্মৃতিতে থেকে যাবে এমন সুন্দর দিন।

বাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা, শাহাজান সরকারের একমাত্র বাইক টি ডাকাতি হয়ে গেলে,বিপ্লব কুমার সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে, বাইকটি কে উদ্ধার করা হয়েছিল। এ নিয়ে শাহজাহান সরকার একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।

ফেসবুকে বহুল আলোচিত, শাহনাজের স্কুটি এর কথা মনে আছে?

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে শাহনাজের চুরি হয়ে যাওয়া বাইকটি মাত্র ১২ ঘন্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল শেরে বংলানগর থানা পুলিশ।

মা বাবা ভাই বোন আশা ছেড়ে দিয়েছিল, কিন্তু আশা ছাড়েননি বিপ্লব কুমার সরকার, দুই বছর পর হারিয়ে যাওয়া শিশু সজিব কে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মা বাবার কোলে।

জনবান্ধব ও জনপ্রিয় এই কর্মকর্তাকে রংপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে।গত ১৩ জুন রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি হয়। বদলির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়।বিপ্লব কুমার সরকার এর বদলির আদেশ প্রত্যাহারের আকুতি জানিয়েছেন সর্বস্তরের জনসাধারণ। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা ভাবে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।দুই একদিনের মধ্যেই এই জোনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন, অব্যাহতি নেয়ার আগে এই জোনকে বরাবরের মতোই নাম্বার ওয়ান জোন বানিয়েই বিদায় নিচ্ছেন স্মার্ট পুলিশিং এর সুপার হিরো ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার।

২৪ বার ঢাকা মেট্রোপলিটনের শ্রেষ্ঠ ডিসি উপাধি সফলতার পালকে লাগিয়ে রংপুরের পথে পাড়ি দেবেন তিনি কিছুদিনের মধ্যেই, তবুও চলতে হবে, ভালোবাসার অঞ্জলি মাখিয়ে নীলবিষ হজম করতেই হবে!!আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ডরূপে ছাত্রলীগের যে বিপ্লব কুমার সরকারের বেড়ে উঠা, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সবটুকুই তাকে বরণ করে নেবে!” ছেলের মতো।

বিপ্লব সরকার সমগ্র দেশ ও জাতির অমূল্য সম্পদ। এই জাতি যদি ডিসি বিপ্লবের মতো আরো কয়েক জন ন্যায় ও সাহসী অফিসার পেত, তাহলে দেশ আরো বহুগুণ এগিয়ে যেত, যেমনটা স্বপ্ন দেখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সবশেষে একটা কথাই বলবো,

যেতে নাহি দিব হায় , তবু যেতে দিতে হয় ,
তবু চলে যায়.. 😥

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

একজন বিপ্লব সরকার

আপডেট টাইম : ০৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ ২০২১

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ একজন ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার, তিনি বাংলাদেশ পুলিশের তেজগাঁও জোনের ডিসি, তার ডিসি পরিচয়কে ছাপিয়ে, সব থেকে বড় পরিচয়, তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা, তিনি জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। দলের দুঃসময়ে, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, লড়াই সংগ্রামে তিনি ছিলেন মিছিলের অগ্রভাগে।

ডিসি বিপ্লব কুমার এর জন্ম কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার খরমপট্টিতে। তিনি কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি ও গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সহিত এইচএসি সি পাশ করেন। ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার ছিল অন অসীম দুর্বলতা, তাই কলেজ জীবনে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, স্কুল কলেজ জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত, রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হোন।তার রাজনীতির জন্য আবার প্রাণ ফিরে পায়, এরপর রাজপথে সামনে থেকে, লড়াই সংগ্রাম করে ১৯৯৪ সালে জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। দলের দুঃসময়ে, আওয়ামীলীগের জন্য নিবেদিত প্রাণ এই অকুতোভয় সৈনিক জেলও খেটেছেন বেশ কয়েকবার।

চাকরি জীবনে প্রবেশ করেন ২১ তম বিসিএস এর মাধ্যমে, তিনি প্রথম জয়নিং করেন মোহাম্মদপুর জোনের এএসপি হিসেবে, এরপর আস্তে আস্তে চড়াই-উৎরাই পার হয়ে, তিনি তেজগাঁও জোনের ডিসি হন। তিনি পুলিশের ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ ২৪ বার শ্রেষ্ঠ ডিসি হিসেবে খেতাব পান। বিপ্লব কুমার সরকার ২০১৩ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অবদান রেখে রেকর্ড সংখ্যক ২৪ বার শ্রেষ্ঠ উপ-কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অত্যন্ত সফলতার পরিচয় দিয়ে তেজগাঁও বিভাগ পুলিশকে পরিচালনায় উপ-কমিশনারের (ডিসি) দায়িত্ব পালন করে প্রায় নিয়মিত শ্রেষ্ঠ ডিসির পুরস্কার জিতেছেন বিপ্লব কুমার সরকার। যা একটি বিরল ঘটনা।রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি দুই বার পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম ও একবার পিপিএম পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনি ২০১৪ সালে পিপিএম, ২০১৬ সালে বিপিএম এবং ২০১৮ সালে তিনি আবারো বিপিএম পদক পেয়েছেন।ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আটটি বিভাগে বিভক্ত। এরমধ্যে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ তেজগাঁও। ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার গত ২০১৩ সালের ৭ এপ্রিল থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অবদান রেখেছেন।পেশাগত মর্যাদার কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তাদের মধ্যে তাকে বলা হয় সেরাদের সেরা।

তিনি শুধু পুলিশের গণ্ডির মধ্যে, নিজেকে আটকে রাখেন নি, সামাজিক কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন।

নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ‘বঙ্গবন্ধু পাগল’ অসাধারণ এবং বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী মানুষটি নিয়েছিলেন বিশেষ এক উদ্যোগ। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য

বঙ্গবন্ধুর ভাবনা-দর্শন এবং ওই সময়ে বঙ্গবন্ধুর কারা জীবনের দিনলিপি নিয়ে বাংলা একাডেমি’র প্রকাশিত ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইটিতে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

তাঁর নিজের ভাবনা আর স্বপ্ন থেকেই ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইটি নিয়ে অনন্য এক উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এ উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি)।

বঙ্গবন্ধু রচিত এ বইটির ওপর কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন তিনি।

সুবিধাবঞ্চিত অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য অন্যতম একজন মানুষ উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার।শতাধিক শিশুদের নিয়ে ইফতার ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন তিনি।

তিনি মানুষ হিসেবে কতটা ভালো, তা নিচের চিঠিটাতেই বুঝা যায়।

‘খুব খুশী হবো যদি আপনি আমাদের সাথে একদিন ইফতার খান’

প্রিয় ডিসি স্যার,
আমার সালাম নিবেন। আশাকরি ভালো আছেন। আমি জহুরী মহললা পোড়া বস্তিতে থাকি। আমি ছায়াতল বিদ্যাপীঠে চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ি। আমি বড় হয়ে পুলিশ হতে চাই। খুব খুশী হবো যদি আপনি আমাদের সাথে একদিন ইফতার খান। ঈদ মোবারক।

আমার নাম বর্ষা আক্তার
শ্রেনী: ৪র্থ
রোল: ৬

পরে তিনি ওদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেন, ইফতার উপলক্ষ্যে এই শিশুদের জন্য নানান রকমের খাবার ও ফল, জুস এর ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি, ইফতার শেষে এই হত দরিদ্র শিশুদের মাঝে তিনি ঈদের নতুন জামা কাপড়, ঈদ বকশিস হিসেবে নতুন টাকা সহ বিভিন্ন রকমের উপকরণ উপহার  বিতরন করেছিলেন।

বহুল আলোচিত শিশু হাসপাতালে ওয়াশরুমে পাওয়া শিশু ‘গহীনের ‘ দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিপ্লব কুমার সরকার, পরে তিনি তাকে ছোটমনি নিবাসের তত্তাবধায়কের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে, কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন তিনি।

গত ১৩.০৪.২০১৯ ইং তারিখ রাত ১১.২১ ঘটিকায় তৃষা (ছদ্মনাম) নামের Ahsanullah University Of Science And Technology (AUST) একজন ছাত্রী তার সাথে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাংক্ষিত ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন,পরে ডিসি বিপ্লব কুমার এর তত্ত্বাবধানে ঐ ব্যক্তি কে গ্রেফতার করা হয়।

টাঙ্গাইল থেকে আসা ১০০ ছোট্ট শিশুকে নিয়ে সত্যিকার অর্থে ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন, ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার। সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখিয়েছিলেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘর। জাতির এই সূর্যসন্তান সম্পর্কে জানিয়েছিলেন ওদের। এমন দিন ওদের জীবনে আর কখনও আসবেনা। হয়ত ছোট্ট এই শিশুদের স্মৃতিতে থেকে যাবে এমন সুন্দর দিন।

বাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা, শাহাজান সরকারের একমাত্র বাইক টি ডাকাতি হয়ে গেলে,বিপ্লব কুমার সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে, বাইকটি কে উদ্ধার করা হয়েছিল। এ নিয়ে শাহজাহান সরকার একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।

ফেসবুকে বহুল আলোচিত, শাহনাজের স্কুটি এর কথা মনে আছে?

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে শাহনাজের চুরি হয়ে যাওয়া বাইকটি মাত্র ১২ ঘন্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল শেরে বংলানগর থানা পুলিশ।

মা বাবা ভাই বোন আশা ছেড়ে দিয়েছিল, কিন্তু আশা ছাড়েননি বিপ্লব কুমার সরকার, দুই বছর পর হারিয়ে যাওয়া শিশু সজিব কে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মা বাবার কোলে।

জনবান্ধব ও জনপ্রিয় এই কর্মকর্তাকে রংপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে।গত ১৩ জুন রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি হয়। বদলির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়।বিপ্লব কুমার সরকার এর বদলির আদেশ প্রত্যাহারের আকুতি জানিয়েছেন সর্বস্তরের জনসাধারণ। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা ভাবে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।দুই একদিনের মধ্যেই এই জোনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন, অব্যাহতি নেয়ার আগে এই জোনকে বরাবরের মতোই নাম্বার ওয়ান জোন বানিয়েই বিদায় নিচ্ছেন স্মার্ট পুলিশিং এর সুপার হিরো ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার।

২৪ বার ঢাকা মেট্রোপলিটনের শ্রেষ্ঠ ডিসি উপাধি সফলতার পালকে লাগিয়ে রংপুরের পথে পাড়ি দেবেন তিনি কিছুদিনের মধ্যেই, তবুও চলতে হবে, ভালোবাসার অঞ্জলি মাখিয়ে নীলবিষ হজম করতেই হবে!!আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ডরূপে ছাত্রলীগের যে বিপ্লব কুমার সরকারের বেড়ে উঠা, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সবটুকুই তাকে বরণ করে নেবে!” ছেলের মতো।

বিপ্লব সরকার সমগ্র দেশ ও জাতির অমূল্য সম্পদ। এই জাতি যদি ডিসি বিপ্লবের মতো আরো কয়েক জন ন্যায় ও সাহসী অফিসার পেত, তাহলে দেশ আরো বহুগুণ এগিয়ে যেত, যেমনটা স্বপ্ন দেখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সবশেষে একটা কথাই বলবো,

যেতে নাহি দিব হায় , তবু যেতে দিতে হয় ,
তবু চলে যায়.. 😥