ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

মায়ের কাছে যাচ্ছি বাড়ি

ঈদে দলবেঁধে বাড়ি ফিরতেই হবে-এটা এখন মুখ্য বিষয়। আর এই ঐতিহ্য সানন্দ্যচিত্তে লালন করে সবাই। গ্রামে যত্নে ফেলে রেখে আসা জল ছলছল নদী, পাখপাখালির কলকাকলি, গ্রাম ছাড়া ওই রাঙামাটির পথে ধুলো উড়িয়ে গরুদের ঘরে ফেরা, রাখালিয়ার বাঁশরির প্রাণ উদাস করা সুরলহরি, ঝোপের ধারে জোনাকজ্বলা সাঁঝেরবেলা, বৃষ্টিবেলায় ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ, ঘাসের ডগায় শিশিরবিন্দু, শস্যশাঁখে প্রজাপতি আর ফড়িঙের বিরামহীন নাচন কোথায় গেলে পাব? নরম জোছনায় গা ভেজানোর ফুরসৎ কই কর্মক্লিষ্ট এই শহরে? রোজকার যানজট, রাস্তায় বসে বসে গরমে নাকাল হওয়া, চোর ছ্যাঁচড়ের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলা, অফিসের কর্তার চোখরাঙানি আর কাহাতক ভালো লাগে? তাই চলো বাড়ি ফিরি ঈদের নিমন্ত্রণে।

আমি যদি হতাম বনহংস, বনহংসী হতে যদি তুমি; কোনো এক দিগন্তের ধানসিঁড়ি নদীর ধারে ধানক্ষেতের কাছে ছিপছিপে শরের ভিতর এক নিরালা নীড়ে আকাশের রুপালি শস্যের ভিতর গা ভাসিয়ে দিতাম-এমন ভাবনার কাঙালপনায় প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ যদি চেতনায় ভর করে অথবা কবি কাজী নজরুল ইসলাম যদি আপনার মননে দরাজ গলায় কবিতা শুনিয়ে যায় : হেরিলে মায়ের মুখ দূরে যায় সব দুখ, মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান, মায়ের শীতল কোলে সকল যাতনা ভোলে কত না সোহাগে মাতা বুকটি ভরান।

তাহলে আপনাকে মায়ের কাছে চিরচেনা সেই সুবর্ণ গাঁয়েই ফিরতে হবে। মায়ের সুখ সান্নিধ্য আর প্রাণান্ত আশীর্বাদ নিয়ে প্রাণেশ্বরীর হাতটি ধরে জন্মস্থান নতুন করে খুঁটিয়ে দেখার সুবর্ণ সুযোগ তো একটাই; উৎসব বা পার্বণ। আর বাঙালির কর্মমুখর আটপৌরে জীবনে ঈদ হলো প্রধানতম উৎসব। ঈদের এর আবেদন তাই বরাবর প্রথম প্রেমের মতো।

যান্ত্রিক জীবনে মমতা ও ভালোবাসায় সন্তানকে আগলে রাখবার অভ্যেসটা আবার ঘুরেফিরে আসে ওই উৎসবেই। ফিকে হয়ে যাওয়া শৈশব-কৈশর তার সোনালি অতীতকে ফিরে পায় পার্বণেই। তাইতো শত প্রতিকূলতা আর ঝঞ্ঝা ঝড়ঝাপটা সয়েও আনন্দালোকে বিরাজ করে মানুষ বলতে পারে : শেকড়ের টানে মায়ের কাছে যাচ্ছি বাড়ি।

পারিবারিক বন্ধনের জাদু আর ভালোবাসা-মহব্বতের জোয়ার দেখে প্রাণেশ্বরীর দু’চোখ বেয়েও জলকণার মুক্তো চিকচিক করে ওঠল কি? এমন স্বপ্নসুখের সাক্ষী হতেই বাঙালিকে বাড়ি ফিরতে হয়; ঘরে ছুটে যেতে হয়।

তারপর সকালে কৃষ্ণচূড়ার লাল পাঁপড়ি ভেজানো অথবা হিজলের সফেদ পুষ্প ধুয়া পুকুরের স্বচ্ছ জলে স্নান শেষে পুতঃপবিত্র হয়ে মিষ্টি মুখ করে নতুন টুপি জামা পরে মুরুব্বীদের কদমবুসি। মা-বাবা-দাদু কি বলবেন তখন, বাছা এমন করে মায়ের কোলে বারবার ফিরে ফিরে আসিস। হাতে জায়নামাজ নিয়ে ছোট্ট সোনামনিটির হাত ধরে ঈদগাহে যাওয়া। পথে যেতে যেতে শহুরে ইটপাথরের চার দেয়ালে বন্দি শিশুকে গ্রাম চিনিয়ে দেওয়া, জগৎ চিনিয়ে দেওয়া। এই যে, ইনি তোমার চাচ্চু হন, আমরা প্রাইমারি স্কুলে একসঙ্গেই পড়েছি। আমার প্রিয় চাষি বন্ধু। ঐতো পুকুরপাড়ের তালগাছটায় ধরে আছে সবুজ কচি তাল। পেকে হলদে-গোলাপি হয়ে যাওয়া প্রায় জলস্পর্শী আম। এই তো ঝোপঝাড়ের পাশ দিয়ে কাঠবিড়ালি ওঠে গেল তালগাছে। ছোট্ট খোকাটি মুগ্ধ হয়ে বলবে যেন : বাবা, গ্রাম যে ভারি সুন্দর। আমি গ্রাম খুব ভালোবাসি।

পরম ভালোবাসা ও আন্তরিক সৌহার্দ্যে সবার সম্মিলনে ঈদগাহ মাঠে নামাজ হয়। কতদিন দেখা হয় না বন্ধুর সঙ্গে আলিঙ্গনে শত কথা হয়। বিনিময় হয় হাজারো বিবর্ণ সুখ-দুঃখ।

ঈদে তাই গ্রামে যাওয়াটা নিছক একগুঁয়েমি মুক্ত হয়ে বৈচিত্র্যের খোঁজ বা স্বজনের সুখ সান্নিধ্য না হয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালনের উপলক্ষ হয়ে ওঠে। শিক্ষাদীক্ষা বা কর্মকুশলতায় আপনি হতে পারেন সমাজের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। নিজ গ্রামের খেটে খাওয়া স্কুলের সেই বন্ধুটি অথবা কোনো অসহায় মানুষটির জন্য পরান কেমন না করে কি পারে? গ্রামের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ বা ক্রীড়া ক্লাবের দেখভালের দায়টা আমার আপনার সবার। কাজেই যে গ্রাম তার আলো বাতাস দিয়ে আপনাকে পরিপুষ্ট করে সামাজিক মানুষ করেছে। জন্মভূমিকে প্রাণভরে ভালোবাসবার জন্য তাই বাড়ি আমাদের ফিরতেই হবে। আর হাজারো দুর্বিষহ দুর্ভোগ সয়েও বাড়ি ফিরবার উপলক্ষ সৃষ্টি করবার জন্য মুসলিম চেতনায় আনন্দের প্রতীক ‘ঈদ উৎসব’কে সুস্বাগত। শেকড়ের টানে মায়ের কাছে বাড়ি ফিরবার কালে মানুষের অন্তরে গুঞ্জরিত হোক প্রিয় কবি শহীদ কাদরী :

সব পাখিরা ঘরে ফেরে,
সব নদী।
আমরা কেন দন্ডায়মান
গাছতলাতে নিরবধি।
কীর্তিনাশার কালোস্রোতে
নৌকো ভাসে সারি সারি
এবার আমি বলতে পারি-
যাচ্ছি বাড়ি।
যাচ্ছি বাড়ি।

লেখক : সংবাদকর্মী, মাছরাঙা টেলিভিশন

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

মায়ের কাছে যাচ্ছি বাড়ি

আপডেট টাইম : ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫

ঈদে দলবেঁধে বাড়ি ফিরতেই হবে-এটা এখন মুখ্য বিষয়। আর এই ঐতিহ্য সানন্দ্যচিত্তে লালন করে সবাই। গ্রামে যত্নে ফেলে রেখে আসা জল ছলছল নদী, পাখপাখালির কলকাকলি, গ্রাম ছাড়া ওই রাঙামাটির পথে ধুলো উড়িয়ে গরুদের ঘরে ফেরা, রাখালিয়ার বাঁশরির প্রাণ উদাস করা সুরলহরি, ঝোপের ধারে জোনাকজ্বলা সাঁঝেরবেলা, বৃষ্টিবেলায় ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ, ঘাসের ডগায় শিশিরবিন্দু, শস্যশাঁখে প্রজাপতি আর ফড়িঙের বিরামহীন নাচন কোথায় গেলে পাব? নরম জোছনায় গা ভেজানোর ফুরসৎ কই কর্মক্লিষ্ট এই শহরে? রোজকার যানজট, রাস্তায় বসে বসে গরমে নাকাল হওয়া, চোর ছ্যাঁচড়ের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলা, অফিসের কর্তার চোখরাঙানি আর কাহাতক ভালো লাগে? তাই চলো বাড়ি ফিরি ঈদের নিমন্ত্রণে।

আমি যদি হতাম বনহংস, বনহংসী হতে যদি তুমি; কোনো এক দিগন্তের ধানসিঁড়ি নদীর ধারে ধানক্ষেতের কাছে ছিপছিপে শরের ভিতর এক নিরালা নীড়ে আকাশের রুপালি শস্যের ভিতর গা ভাসিয়ে দিতাম-এমন ভাবনার কাঙালপনায় প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ যদি চেতনায় ভর করে অথবা কবি কাজী নজরুল ইসলাম যদি আপনার মননে দরাজ গলায় কবিতা শুনিয়ে যায় : হেরিলে মায়ের মুখ দূরে যায় সব দুখ, মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান, মায়ের শীতল কোলে সকল যাতনা ভোলে কত না সোহাগে মাতা বুকটি ভরান।

তাহলে আপনাকে মায়ের কাছে চিরচেনা সেই সুবর্ণ গাঁয়েই ফিরতে হবে। মায়ের সুখ সান্নিধ্য আর প্রাণান্ত আশীর্বাদ নিয়ে প্রাণেশ্বরীর হাতটি ধরে জন্মস্থান নতুন করে খুঁটিয়ে দেখার সুবর্ণ সুযোগ তো একটাই; উৎসব বা পার্বণ। আর বাঙালির কর্মমুখর আটপৌরে জীবনে ঈদ হলো প্রধানতম উৎসব। ঈদের এর আবেদন তাই বরাবর প্রথম প্রেমের মতো।

যান্ত্রিক জীবনে মমতা ও ভালোবাসায় সন্তানকে আগলে রাখবার অভ্যেসটা আবার ঘুরেফিরে আসে ওই উৎসবেই। ফিকে হয়ে যাওয়া শৈশব-কৈশর তার সোনালি অতীতকে ফিরে পায় পার্বণেই। তাইতো শত প্রতিকূলতা আর ঝঞ্ঝা ঝড়ঝাপটা সয়েও আনন্দালোকে বিরাজ করে মানুষ বলতে পারে : শেকড়ের টানে মায়ের কাছে যাচ্ছি বাড়ি।

পারিবারিক বন্ধনের জাদু আর ভালোবাসা-মহব্বতের জোয়ার দেখে প্রাণেশ্বরীর দু’চোখ বেয়েও জলকণার মুক্তো চিকচিক করে ওঠল কি? এমন স্বপ্নসুখের সাক্ষী হতেই বাঙালিকে বাড়ি ফিরতে হয়; ঘরে ছুটে যেতে হয়।

তারপর সকালে কৃষ্ণচূড়ার লাল পাঁপড়ি ভেজানো অথবা হিজলের সফেদ পুষ্প ধুয়া পুকুরের স্বচ্ছ জলে স্নান শেষে পুতঃপবিত্র হয়ে মিষ্টি মুখ করে নতুন টুপি জামা পরে মুরুব্বীদের কদমবুসি। মা-বাবা-দাদু কি বলবেন তখন, বাছা এমন করে মায়ের কোলে বারবার ফিরে ফিরে আসিস। হাতে জায়নামাজ নিয়ে ছোট্ট সোনামনিটির হাত ধরে ঈদগাহে যাওয়া। পথে যেতে যেতে শহুরে ইটপাথরের চার দেয়ালে বন্দি শিশুকে গ্রাম চিনিয়ে দেওয়া, জগৎ চিনিয়ে দেওয়া। এই যে, ইনি তোমার চাচ্চু হন, আমরা প্রাইমারি স্কুলে একসঙ্গেই পড়েছি। আমার প্রিয় চাষি বন্ধু। ঐতো পুকুরপাড়ের তালগাছটায় ধরে আছে সবুজ কচি তাল। পেকে হলদে-গোলাপি হয়ে যাওয়া প্রায় জলস্পর্শী আম। এই তো ঝোপঝাড়ের পাশ দিয়ে কাঠবিড়ালি ওঠে গেল তালগাছে। ছোট্ট খোকাটি মুগ্ধ হয়ে বলবে যেন : বাবা, গ্রাম যে ভারি সুন্দর। আমি গ্রাম খুব ভালোবাসি।

পরম ভালোবাসা ও আন্তরিক সৌহার্দ্যে সবার সম্মিলনে ঈদগাহ মাঠে নামাজ হয়। কতদিন দেখা হয় না বন্ধুর সঙ্গে আলিঙ্গনে শত কথা হয়। বিনিময় হয় হাজারো বিবর্ণ সুখ-দুঃখ।

ঈদে তাই গ্রামে যাওয়াটা নিছক একগুঁয়েমি মুক্ত হয়ে বৈচিত্র্যের খোঁজ বা স্বজনের সুখ সান্নিধ্য না হয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালনের উপলক্ষ হয়ে ওঠে। শিক্ষাদীক্ষা বা কর্মকুশলতায় আপনি হতে পারেন সমাজের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। নিজ গ্রামের খেটে খাওয়া স্কুলের সেই বন্ধুটি অথবা কোনো অসহায় মানুষটির জন্য পরান কেমন না করে কি পারে? গ্রামের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ বা ক্রীড়া ক্লাবের দেখভালের দায়টা আমার আপনার সবার। কাজেই যে গ্রাম তার আলো বাতাস দিয়ে আপনাকে পরিপুষ্ট করে সামাজিক মানুষ করেছে। জন্মভূমিকে প্রাণভরে ভালোবাসবার জন্য তাই বাড়ি আমাদের ফিরতেই হবে। আর হাজারো দুর্বিষহ দুর্ভোগ সয়েও বাড়ি ফিরবার উপলক্ষ সৃষ্টি করবার জন্য মুসলিম চেতনায় আনন্দের প্রতীক ‘ঈদ উৎসব’কে সুস্বাগত। শেকড়ের টানে মায়ের কাছে বাড়ি ফিরবার কালে মানুষের অন্তরে গুঞ্জরিত হোক প্রিয় কবি শহীদ কাদরী :

সব পাখিরা ঘরে ফেরে,
সব নদী।
আমরা কেন দন্ডায়মান
গাছতলাতে নিরবধি।
কীর্তিনাশার কালোস্রোতে
নৌকো ভাসে সারি সারি
এবার আমি বলতে পারি-
যাচ্ছি বাড়ি।
যাচ্ছি বাড়ি।

লেখক : সংবাদকর্মী, মাছরাঙা টেলিভিশন