ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

তরুণ-প্রবীণ-দক্ষ মিলে মন্ত্রিসভা

নবীন-প্রবীণ আর দক্ষদের মিশেলে হবে তারেক রহমানের নেতৃত্বের মন্ত্রিসভা। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এই মন্ত্রিসভা তিন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বিষয়ভিত্তিক প্রযুক্তিজ্ঞানের সম্মিলন ঘটিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করবে। এটিই নতুন মন্ত্রিসভার মূল লক্ষ্য হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।

জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করানো হবে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সিইসি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পড়াতে যাচ্ছেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সাংবিধানিক বিধানের আলোকেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একই সঙ্গে শপথ নেবেন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা। দলের দায়িত্বশীল সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, নতুন মন্ত্রিসভার আকার ৩৫ থেকে ৪০ সদস্যের হতে পারে। এর মধ্যে ২৬ থেকে ২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে ১০ থেকে ১২ জনকে। শেষ মুহূর্তে আরো এক বা দুজন যোগ হতে পারেন। মন্ত্রিসভার আকার ছোট হচ্ছে এবং নবীন-প্রবীণের মিশেলে ৪০-এর নিচে ৩৭ জন হতে পারে।

গতকাল সোমবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শপথের চূড়ান্ত প্রস্তুতি (মহড়া) অনুষ্ঠান করেছেন। সেখানে তাঁরা মন্ত্রিসভার অন্তত ৪০ জন সদস্য ধরে মহড়া সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে।

শপথপত্র রাখার স্ট্যান্ড রাখা হয়েছিল ৪০টির মতো। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।

মন্ত্রিসভা গঠনে তারেক রহমান খুবই গোপনীয়তা রক্ষা করছেন। দলীয়ভাবে যাঁদের নাম আলোচনায় আছে তাঁরা হলেন—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সালাহউদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, ফজলুর রহমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এহসানুল হক মিলন, নিতাই রায় চৌধুরী, আফরোজা খান রিতা, জহির উদ্দিন স্বপন, রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ইসমাঈল জবিউল্লাহ, ড. হুমায়ুন কবির (টেকনোক্র্যাট), মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, রকিবুল ইসলাম বকুল, ফরিদুল কবির তালুকদার, দিপেন দেওয়ান, শরীফুল আলম, ড. মাহদী আমিন (টেকনোক্র্যাট), ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার (টেকনোক্র্যাট), শামা ওবায়েদ, ফারজানা রহমান পুতুল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আলী আজগর লবী, মজিবুর রহমান (গাজীপুর), মীর শাহে আলম (বগুড়া), আরিফুল হক চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, ওয়ারেস আলী মামুন (ময়মনসিংহ), ড. রেজা কিবরিয়া, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সাঈদ আল নোমান, খন্দকার আবু আশফাক, হাবীব উর রশিদ হাবীব, জোনায়েদ সাকি, ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নুর প্রমুখ।

সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। একই দিন নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সাধারণত সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়ে থাকেন। তবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিশেষ পরিস্থিতিতে বর্তমানে জাতীয় সংসদ কার্যকর নেই। স্পিকারের পদ শূন্য এবং ডেপুটি স্পিকারও দায়িত্ব পালনে অক্ষম। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে ব্যর্থ হন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেই দায়িত্ব পালন করবেন। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই শপথ পড়ানো হচ্ছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র আরো জানায়, মন্ত্রিপরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাবেক এক আমলা, দলের এক প্রবীণ নেতা, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এক নেতা ও  চেয়ারম্যানের দায়িত্বশীল এক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তালিকা চূড়ান্ত করেন।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরামর্শ দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তবে সহযোগিতা চাইলে বলার ছিল। যেহেতু চাওয়া হয়নি, তাই অপেক্ষা করা ছাড়া বলার কিছু নেই। নিকট অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে অভিজ্ঞদের কার্যকর মূল্যায়ন প্রত্যাশা করছি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘যাঁরা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, তাঁরাই মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। জনগণের কাছে যাঁরা আস্থাশীল, তাঁরাই স্থান পাবেন। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত হবে মন্ত্রিসভা।’

নির্বাচিতদের দুটি শপথের বিষয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। কিন্তু বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এই শপথ নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। কারণ, দলটি মনে করে, বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই। বিদ্যমান সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের শপথের বিষয়ে বলা আছে। সেখানে সংসদ সদস্যদের শপথের কথা আছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বিষয় নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ, এটা যদি কনস্টিটিউশনে (সংবিধান) ধারণ হয়, সেই মর্মে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) হয় এবং সেই শপথ পরিচালনার জন্য সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ফরম হয়, কে শপথ পাঠ করাবেন সেটা নির্ধারিত হয়, এতগুলো হয়, এর পরে তা হলে হতে পারে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশ পরিচালনায় বিএনপি সরকারের সামনে অনেকগুলো বড় চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা চাই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে।’

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলোর বিষয়েও চ্যালেঞ্জ আছে। সুতরাং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। জনগণ যে আস্থা আমাদের ওপর রেখেছে, সেই আস্থাটা আমাদের মাথায় থাকবে।’

নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর ‘মন্ত্রিপাড়া’য় ৩৭টি বাংলোবাড়ি অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য অন্তত ৬০টি দামি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর (পরিবহন পুল)।

অন্য সময়ের মতো এবার এক দিন আগে কেবিনেট থেকে কাউকে ফোন করা হচ্ছে না। আজ সবাই ব্যক্তিগত গাড়িতে সংসদ ভবনে শপথ নিতে যাবেন। শপথের পর ফিরবেন সরকারি গাড়িতে করে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভা ঠিক করবেন। তার পরই মন্ত্রিপরিষদে কারা স্থান পাচ্ছেন তার নামের তালিকা ক্যাবিনেটে পাঠানো হবে। ক্যাবিনেটের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানিয়ে দেওয়া হবে শপথ নেওয়ার জন্য।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

তরুণ-প্রবীণ-দক্ষ মিলে মন্ত্রিসভা

আপডেট টাইম : ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নবীন-প্রবীণ আর দক্ষদের মিশেলে হবে তারেক রহমানের নেতৃত্বের মন্ত্রিসভা। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এই মন্ত্রিসভা তিন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বিষয়ভিত্তিক প্রযুক্তিজ্ঞানের সম্মিলন ঘটিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করবে। এটিই নতুন মন্ত্রিসভার মূল লক্ষ্য হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।

জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করানো হবে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সিইসি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পড়াতে যাচ্ছেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সাংবিধানিক বিধানের আলোকেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একই সঙ্গে শপথ নেবেন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা। দলের দায়িত্বশীল সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, নতুন মন্ত্রিসভার আকার ৩৫ থেকে ৪০ সদস্যের হতে পারে। এর মধ্যে ২৬ থেকে ২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে ১০ থেকে ১২ জনকে। শেষ মুহূর্তে আরো এক বা দুজন যোগ হতে পারেন। মন্ত্রিসভার আকার ছোট হচ্ছে এবং নবীন-প্রবীণের মিশেলে ৪০-এর নিচে ৩৭ জন হতে পারে।

গতকাল সোমবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শপথের চূড়ান্ত প্রস্তুতি (মহড়া) অনুষ্ঠান করেছেন। সেখানে তাঁরা মন্ত্রিসভার অন্তত ৪০ জন সদস্য ধরে মহড়া সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে।

শপথপত্র রাখার স্ট্যান্ড রাখা হয়েছিল ৪০টির মতো। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।

মন্ত্রিসভা গঠনে তারেক রহমান খুবই গোপনীয়তা রক্ষা করছেন। দলীয়ভাবে যাঁদের নাম আলোচনায় আছে তাঁরা হলেন—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সালাহউদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, ফজলুর রহমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এহসানুল হক মিলন, নিতাই রায় চৌধুরী, আফরোজা খান রিতা, জহির উদ্দিন স্বপন, রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ইসমাঈল জবিউল্লাহ, ড. হুমায়ুন কবির (টেকনোক্র্যাট), মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, রকিবুল ইসলাম বকুল, ফরিদুল কবির তালুকদার, দিপেন দেওয়ান, শরীফুল আলম, ড. মাহদী আমিন (টেকনোক্র্যাট), ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার (টেকনোক্র্যাট), শামা ওবায়েদ, ফারজানা রহমান পুতুল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আলী আজগর লবী, মজিবুর রহমান (গাজীপুর), মীর শাহে আলম (বগুড়া), আরিফুল হক চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, ওয়ারেস আলী মামুন (ময়মনসিংহ), ড. রেজা কিবরিয়া, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সাঈদ আল নোমান, খন্দকার আবু আশফাক, হাবীব উর রশিদ হাবীব, জোনায়েদ সাকি, ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নুর প্রমুখ।

সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। একই দিন নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সাধারণত সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়ে থাকেন। তবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিশেষ পরিস্থিতিতে বর্তমানে জাতীয় সংসদ কার্যকর নেই। স্পিকারের পদ শূন্য এবং ডেপুটি স্পিকারও দায়িত্ব পালনে অক্ষম। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে ব্যর্থ হন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেই দায়িত্ব পালন করবেন। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই শপথ পড়ানো হচ্ছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র আরো জানায়, মন্ত্রিপরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাবেক এক আমলা, দলের এক প্রবীণ নেতা, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এক নেতা ও  চেয়ারম্যানের দায়িত্বশীল এক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তালিকা চূড়ান্ত করেন।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরামর্শ দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তবে সহযোগিতা চাইলে বলার ছিল। যেহেতু চাওয়া হয়নি, তাই অপেক্ষা করা ছাড়া বলার কিছু নেই। নিকট অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে অভিজ্ঞদের কার্যকর মূল্যায়ন প্রত্যাশা করছি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘যাঁরা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, তাঁরাই মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। জনগণের কাছে যাঁরা আস্থাশীল, তাঁরাই স্থান পাবেন। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত হবে মন্ত্রিসভা।’

নির্বাচিতদের দুটি শপথের বিষয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। কিন্তু বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এই শপথ নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। কারণ, দলটি মনে করে, বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই। বিদ্যমান সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের শপথের বিষয়ে বলা আছে। সেখানে সংসদ সদস্যদের শপথের কথা আছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বিষয় নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ, এটা যদি কনস্টিটিউশনে (সংবিধান) ধারণ হয়, সেই মর্মে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) হয় এবং সেই শপথ পরিচালনার জন্য সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ফরম হয়, কে শপথ পাঠ করাবেন সেটা নির্ধারিত হয়, এতগুলো হয়, এর পরে তা হলে হতে পারে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশ পরিচালনায় বিএনপি সরকারের সামনে অনেকগুলো বড় চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা চাই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে।’

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলোর বিষয়েও চ্যালেঞ্জ আছে। সুতরাং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। জনগণ যে আস্থা আমাদের ওপর রেখেছে, সেই আস্থাটা আমাদের মাথায় থাকবে।’

নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর ‘মন্ত্রিপাড়া’য় ৩৭টি বাংলোবাড়ি অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য অন্তত ৬০টি দামি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর (পরিবহন পুল)।

অন্য সময়ের মতো এবার এক দিন আগে কেবিনেট থেকে কাউকে ফোন করা হচ্ছে না। আজ সবাই ব্যক্তিগত গাড়িতে সংসদ ভবনে শপথ নিতে যাবেন। শপথের পর ফিরবেন সরকারি গাড়িতে করে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভা ঠিক করবেন। তার পরই মন্ত্রিপরিষদে কারা স্থান পাচ্ছেন তার নামের তালিকা ক্যাবিনেটে পাঠানো হবে। ক্যাবিনেটের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানিয়ে দেওয়া হবে শপথ নেওয়ার জন্য।