ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে সৌদি আরবের পতাকা কেন মাটিতে রাখা হয় না

স্পেনের বিপক্ষে সৌদি আরবের ম্যাচের আগে পতাকা প্রদর্শনের নিয়মে পরিবর্তন এনে নতুন নজির তৈরি করেছে ফিফা। সৌদি আরবের জাতীয় পতাকায় থাকা কালেমার প্রতি সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেয় ফুটবলের আন্তর্জাতিক সংস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের আগে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী পতাকা মাঠের ঘাসে বিছিয়ে প্রদর্শনের পরিবর্তে সৌদি আরবের পতাকা স্বেচ্ছাসেবকরা হাতে ধরে উঁচু করে রাখেন। একইভাবে স্পেনের পতাকাও হাতে তুলে প্রদর্শন করা হয়, যাতে দুই দেশের প্রতি সমান সম্মান বজায় থাকে।

সৌদি আরবের পতাকায় সবুজ পটভূমির ওপর সাদা রঙে কালেমা লেখা রয়েছে এবং এর নিচে একটি তলোয়ারের চিত্র। ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রতীককে সম্মান জানিয়ে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই পতাকা মাটি, পানি বা কোনো নিম্ন পৃষ্ঠে স্পর্শ করানো বিরোধী। ১৯৭৩ সালের জাতীয় পতাকা আইনে এ বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে, যেখানে পতাকা অর্ধনমিত করাও অনুমোদিত নয়।

এই অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়ে ফিফা তাদের পূর্বনির্ধারিত ম্যাচ-ডে পতাকা উপস্থাপন প্রোটোকলে পরিবর্তন করে। সাধারণত নতুন ফরম্যাটে মাঠের মাঝখানে খেলোয়াড় ও রেফারিরা বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে দুই পাশে বড় পতাকা বিছিয়ে রাখা হয়। তবে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ধর্মীয় সংবেদনশীলতার কারণে উপযুক্ত ছিল না।

সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের অনুরোধের পর ফিফা সিদ্ধান্ত নেয়—উভয় দেশের পতাকাই একইভাবে হাতে উঁচু করে প্রদর্শন করা হবে। কারণ শুধুমাত্র সৌদির পতাকা উঁচু রাখা হলে সেটা স্পেনকে খাটো করা হতো।

একই ধরনের আরেকটি পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল ইরাকের ক্ষেত্রে, যেখানে পতাকায় ‘আল্লাহু আকবার’ লেখা থাকায় তাদের অনুরোধের ভিত্তিতে ফিফা প্রদর্শন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বিশ্বকাপে সৌদি আরবের পতাকা কেন মাটিতে রাখা হয় না

আপডেট টাইম : ০৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

স্পেনের বিপক্ষে সৌদি আরবের ম্যাচের আগে পতাকা প্রদর্শনের নিয়মে পরিবর্তন এনে নতুন নজির তৈরি করেছে ফিফা। সৌদি আরবের জাতীয় পতাকায় থাকা কালেমার প্রতি সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেয় ফুটবলের আন্তর্জাতিক সংস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের আগে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী পতাকা মাঠের ঘাসে বিছিয়ে প্রদর্শনের পরিবর্তে সৌদি আরবের পতাকা স্বেচ্ছাসেবকরা হাতে ধরে উঁচু করে রাখেন। একইভাবে স্পেনের পতাকাও হাতে তুলে প্রদর্শন করা হয়, যাতে দুই দেশের প্রতি সমান সম্মান বজায় থাকে।

সৌদি আরবের পতাকায় সবুজ পটভূমির ওপর সাদা রঙে কালেমা লেখা রয়েছে এবং এর নিচে একটি তলোয়ারের চিত্র। ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রতীককে সম্মান জানিয়ে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই পতাকা মাটি, পানি বা কোনো নিম্ন পৃষ্ঠে স্পর্শ করানো বিরোধী। ১৯৭৩ সালের জাতীয় পতাকা আইনে এ বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে, যেখানে পতাকা অর্ধনমিত করাও অনুমোদিত নয়।

এই অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়ে ফিফা তাদের পূর্বনির্ধারিত ম্যাচ-ডে পতাকা উপস্থাপন প্রোটোকলে পরিবর্তন করে। সাধারণত নতুন ফরম্যাটে মাঠের মাঝখানে খেলোয়াড় ও রেফারিরা বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে দুই পাশে বড় পতাকা বিছিয়ে রাখা হয়। তবে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ধর্মীয় সংবেদনশীলতার কারণে উপযুক্ত ছিল না।

সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের অনুরোধের পর ফিফা সিদ্ধান্ত নেয়—উভয় দেশের পতাকাই একইভাবে হাতে উঁচু করে প্রদর্শন করা হবে। কারণ শুধুমাত্র সৌদির পতাকা উঁচু রাখা হলে সেটা স্পেনকে খাটো করা হতো।

একই ধরনের আরেকটি পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল ইরাকের ক্ষেত্রে, যেখানে পতাকায় ‘আল্লাহু আকবার’ লেখা থাকায় তাদের অনুরোধের ভিত্তিতে ফিফা প্রদর্শন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে।