ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার আ.লীগের অপতৎপরতায় শঙ্কিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপহার কেনার আগে যে ৭টি বিষয় মনে রাখা জরুরি চীনে ৩০ দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের গণমাধ্যম সহযোগিতা সেমিনার আগামী বছরের জানুয়ারিতে হতে পারে ইউপি নির্বাচন: ইসি মাছউদ জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা ইমরান খানের বোনকে গ্রেপ্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা চীনা নাগরিকের ২.৫ কেজি সোনা উদ্ধার, আনসারের বিচক্ষণতায় পাচারচেষ্টা নস্যাৎ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

খাস জমি বন্দোবস্তে চরম অবহেলা, সাবেক ইউএনওকে শাস্তি

সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার অভিযোগে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হককে এক বছরের জন্য ‘বেতন বৃদ্ধি স্থগিত’ শাস্তি দিয়েছে সরকার।

এতে বলা হয়, কলাপাড়া উপজেলার ভূমিহীনদের জন্য দুই শতাংশ করে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তের লক্ষ্যে ১৯৫টি কবুলিয়তের প্রস্তাব সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিজ কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য পাঠান। পরে জেলা প্রশাসক ১৯৫টি বন্দোবস্ত কবুলিয়তের প্রস্তাব অনুমোদন করেন।

পরবর্তীতে এসব কবুলিয়ত নিবন্ধনের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. হুমায়ুন কবিরকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সার্ভেয়ার ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অনুমোদিত দুই শতাংশের পরিবর্তে ০.০৩, ০.১০, ১.০০, ১.৫০, ২.০০ ও ৩.০০ একর উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়াই ৪২টি ভুয়া বন্দোবস্ত কবুলিয়ত তৈরি করেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে ওই ৪২টি ভুয়া কবুলিয়তে স্বাক্ষর করেন। এর ফলে মোট ৭১.৬৩ একর সরকারি খাস জমি অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারের ক্ষতি হয়। এই কাজ ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হওয়ায় ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।

অভিযোগের জবাবে তিনি লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করলে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর তার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে দেওয়া বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অনুমোদিত সীমার বাইরে অস্বাভাবিক সংখ্যক কবুলিয়ত, জমির পরিমাণে অসামঞ্জস্য এবং নথিপত্রে দৃশ্যমান কাটাছেঁড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই না করেই স্বাক্ষর প্রদান তার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ বহন করে। ফলে তার বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার বিধান অনুযায়ী এক বছরের তার বেতন বাড়বে না। তাকে এক বছরের জন্য ‘বেতন বৃদ্ধি স্থগিত’ নামে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই মেয়াদের কোনো বকেয়া বেতন বৃদ্ধি তিনি পাবেন না এবং এ সময় ভবিষ্যৎ বেতন বৃদ্ধির জন্য গণনায় আসবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সরকার আ.লীগের অপতৎপরতায় শঙ্কিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খাস জমি বন্দোবস্তে চরম অবহেলা, সাবেক ইউএনওকে শাস্তি

আপডেট টাইম : ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার অভিযোগে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হককে এক বছরের জন্য ‘বেতন বৃদ্ধি স্থগিত’ শাস্তি দিয়েছে সরকার।

এতে বলা হয়, কলাপাড়া উপজেলার ভূমিহীনদের জন্য দুই শতাংশ করে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তের লক্ষ্যে ১৯৫টি কবুলিয়তের প্রস্তাব সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিজ কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য পাঠান। পরে জেলা প্রশাসক ১৯৫টি বন্দোবস্ত কবুলিয়তের প্রস্তাব অনুমোদন করেন।

পরবর্তীতে এসব কবুলিয়ত নিবন্ধনের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. হুমায়ুন কবিরকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সার্ভেয়ার ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অনুমোদিত দুই শতাংশের পরিবর্তে ০.০৩, ০.১০, ১.০০, ১.৫০, ২.০০ ও ৩.০০ একর উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়াই ৪২টি ভুয়া বন্দোবস্ত কবুলিয়ত তৈরি করেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে ওই ৪২টি ভুয়া কবুলিয়তে স্বাক্ষর করেন। এর ফলে মোট ৭১.৬৩ একর সরকারি খাস জমি অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারের ক্ষতি হয়। এই কাজ ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হওয়ায় ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।

অভিযোগের জবাবে তিনি লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করলে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর তার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে দেওয়া বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অনুমোদিত সীমার বাইরে অস্বাভাবিক সংখ্যক কবুলিয়ত, জমির পরিমাণে অসামঞ্জস্য এবং নথিপত্রে দৃশ্যমান কাটাছেঁড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই না করেই স্বাক্ষর প্রদান তার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ বহন করে। ফলে তার বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার বিধান অনুযায়ী এক বছরের তার বেতন বাড়বে না। তাকে এক বছরের জন্য ‘বেতন বৃদ্ধি স্থগিত’ নামে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই মেয়াদের কোনো বকেয়া বেতন বৃদ্ধি তিনি পাবেন না এবং এ সময় ভবিষ্যৎ বেতন বৃদ্ধির জন্য গণনায় আসবে না।