সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্লিপার বাস। সড়কে অবাধে চললেও এগুলোর নেই কোনো অনুমোদন। তাহলে রাস্তায় কীভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাসগুলো, সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে শুরু হয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ তথা বিআরটিএ-এর লুকোচুরি।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, মোটরযানের কারিগরি, অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বিআরটিএ-এর অনুমোদন লাগবে। অথচ সড়কে অবাধে চলা স্লিপার বাসের অনুমোদন নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য মিলছে না। কোন সংস্থার বা কার অনুমোদনে বাসগুলো হয়ে যাচ্ছে স্লিপার কোচ, তা জানা যাচ্ছে না।
নেই রেজিস্ট্রেশন, নেই রুট পারমিট। তবে কি এটা সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের নজরদারির ব্যর্থতা? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। চেয়ারম্যান পাঠালেন প্রকৌশল শাখার পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র কাছে। তিনিও ক্যামেরায় কথা বলতে নারাজ। এক পর্যায়ে বেরিয়ে গেলেন নিজের কক্ষ থেকে।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সময়ের আলোকে বলেন, সাধারণ কোচের অনুমোদন নিয়ে স্লিপার বাসগুলো তৈরি করা হচ্ছে। বিআরটিএ চাইলে যেকোনো সময় বাসগুলো জব্দ করতে পারে ও ডাম্পিং-এ পাঠাতে পারে। তারা কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। এগুলো বিআরটিএ-এর ব্যর্থতা।
শুধু অনুমোদন নয়, পরিবর্তিত কাঠামোর কারণে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। দুর্ঘটনা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে এসব বেডে থাকা যাত্রীরা কতটা দ্রুত বের হতে পারবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন যাত্রী অধিকারকর্মীরা। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সময়ের আলোকে বলেন, অনুমোদনহীন স্লিপার বাসগুলো প্রকাশ্যে চলছে এবং প্রতিনিয়ত সংখ্যা বেড়েই চলছে। এটা বিআরটিএ, সড়ক মন্ত্রণালয় এবং ট্রাফিক বিভাগের সম্মিলিত ব্যর্থতা।
নতুন ধরনের কোনো যানবাহন বা কাঠামো সড়কে নামানোর আগে শুধু বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, এর নিরাপত্তা ও কারিগরি মানদণ্ড নিশ্চিত করাই নিয়ন্ত্রণ সংস্থার দায়িত্ব। পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, একটা সাধারণ বাসকে লুকোচুরি করে স্লিপার বাস বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। এটা সড়ক ব্যবস্থাপনার জন্য বিশৃঙ্খলা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিআরটিএ শুধু লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থা নয়, তদারকির দায়িত্বও তাদের। এই ধরনের যানবাহন যখন হাইওয়েতে চলছে সেখানে আইন প্রয়োগের সুযোগ আছে। কিন্তু বিআরটিএ আইন প্রয়োগ করছে না। এটাও বিআরটিএ-এর ব্যর্থতা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার চোখের সামনে অনুমোদনহীন এসব বাস বছরের পর বছর ধরে কীভাবে চলছে? নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিআরটিএ-এর কাছেই যদি এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না মেলে, তাহলে এসব বাসের বৈধতা এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 























