ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার বস্তুনিষ্ঠ তালিকা প্রণয়নে সভা

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রামাণ্য, তথ্যনির্ভর, নির্মোহ ও সর্বজনগ্রাহ্য ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের কৌশল ও করণীয় নির্ধারণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার(১২ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরব, জাতীয় আত্মপরিচয় এবং জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। এই মহান অর্জনের ইতিহাসকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ, প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অনিয়ম ও অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে-এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন এবং একইসঙ্গে শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রস্তুতের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব, আমাদের পরিচয়, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন; এটাকে কলঙ্কমুক্ত করা জাতি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, এ কাজে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ইতিহাসবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হবে। তার ভাষায়, আমরা আপনাদেরসহ পুরো জাতির সকল পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে চাই-কীভাবে আমরা সঠিক ও নির্মোহভাবে মুক্তিযুদ্ধের তালিকা তৈরি করে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারি এবং লিপিবদ্ধ করতে পারি।

মন্ত্রী বলেন, শহীদদের সংখ্যা ও পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তি সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী সময়ে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলো না। কোন তথ্য উপাত্ত ছাড়া অনুমানের উপরে শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনাদের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়। স্বাধীনতার দীর্ঘ কয়েক দশকে মুক্তিযুদ্ধের তথাকথিত চেতনাধারীরা লক্ষাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে মহান স্বাধীনতার ইতিহাস এবং চেতনাকে কলঙ্কিত করেছে। তা থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনার সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে স্বাধীন বাংলাদেশকে সঠিক ধারায় পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

মন্ত্রী বলেন, সঠিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, শহীদদের তালিকা ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা উপস্থাপন করতে পারলেই ইতিহাসবিদদের কাছে ইতিহাস রচনার জন্য প্রামাণ্য তথ্য তুলে দেওয়া সম্ভব হবে; নইলে আমরাই ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাব।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসত্তার ভিত্তি। তাই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা, বিভ্রান্তি বা অনির্ভুলতার অবকাশ থাকা উচিত নয়।

তিনি বলেন, প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করার স্বার্থে তালিকা প্রণয়ণ ও যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হলে তথ্যের প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর সংরক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সভা শেষে মন্ত্রী উপস্থিত সবাইকে তাদের সুচিন্তিত মতামত প্রদানের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, এ বিষয়ে আজকের মতবিনিময়ই শেষ নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার সূচনা। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে পরবর্তী সময়ে আরও মতবিনিময় ও পরামর্শ গ্রহণ করা হবে। আলোচনায় আপনাদের সুচিন্তিত মতামত আমাদের জন্য পাথেয় হবে। আমরা এই আলোচনাটা আরো চলমান রাখব যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের কাজ শেষ করতে পারি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার বস্তুনিষ্ঠ তালিকা প্রণয়নে সভা

আপডেট টাইম : ৬০ মিনিট আগে

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রামাণ্য, তথ্যনির্ভর, নির্মোহ ও সর্বজনগ্রাহ্য ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের কৌশল ও করণীয় নির্ধারণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার(১২ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরব, জাতীয় আত্মপরিচয় এবং জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। এই মহান অর্জনের ইতিহাসকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ, প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অনিয়ম ও অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে-এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন এবং একইসঙ্গে শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রস্তুতের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব, আমাদের পরিচয়, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন; এটাকে কলঙ্কমুক্ত করা জাতি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, এ কাজে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ইতিহাসবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হবে। তার ভাষায়, আমরা আপনাদেরসহ পুরো জাতির সকল পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে চাই-কীভাবে আমরা সঠিক ও নির্মোহভাবে মুক্তিযুদ্ধের তালিকা তৈরি করে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারি এবং লিপিবদ্ধ করতে পারি।

মন্ত্রী বলেন, শহীদদের সংখ্যা ও পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তি সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী সময়ে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলো না। কোন তথ্য উপাত্ত ছাড়া অনুমানের উপরে শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনাদের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়। স্বাধীনতার দীর্ঘ কয়েক দশকে মুক্তিযুদ্ধের তথাকথিত চেতনাধারীরা লক্ষাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে মহান স্বাধীনতার ইতিহাস এবং চেতনাকে কলঙ্কিত করেছে। তা থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনার সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে স্বাধীন বাংলাদেশকে সঠিক ধারায় পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

মন্ত্রী বলেন, সঠিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, শহীদদের তালিকা ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা উপস্থাপন করতে পারলেই ইতিহাসবিদদের কাছে ইতিহাস রচনার জন্য প্রামাণ্য তথ্য তুলে দেওয়া সম্ভব হবে; নইলে আমরাই ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাব।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসত্তার ভিত্তি। তাই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা, বিভ্রান্তি বা অনির্ভুলতার অবকাশ থাকা উচিত নয়।

তিনি বলেন, প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করার স্বার্থে তালিকা প্রণয়ণ ও যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হলে তথ্যের প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর সংরক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সভা শেষে মন্ত্রী উপস্থিত সবাইকে তাদের সুচিন্তিত মতামত প্রদানের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, এ বিষয়ে আজকের মতবিনিময়ই শেষ নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার সূচনা। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে পরবর্তী সময়ে আরও মতবিনিময় ও পরামর্শ গ্রহণ করা হবে। আলোচনায় আপনাদের সুচিন্তিত মতামত আমাদের জন্য পাথেয় হবে। আমরা এই আলোচনাটা আরো চলমান রাখব যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের কাজ শেষ করতে পারি।