ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওয়াক্তের আগে আসর-মাগরিবের নামাজ পড়া যাবে? জানালেন আলেমরা

সফর, কর্মব্যস্ততা কিংবা অন্য কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে নামাজ পড়তে পারবেন না এমন আশঙ্কা অনেকেরই থাকে। বিশেষ করে আসর ও মাগরিবের নামাজ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই কি এসব ফরজ নামাজ আদায় করা যাবে?

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে কোনো ফরজ নামাজ আদায় করা বৈধ নয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের প্রতিটির জন্য নির্ধারিত সময় রয়েছে। তাই আসরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে আসরের নামাজ এবং মাগরিবের ওয়াক্ত হওয়ার আগে মাগরিবের নামাজ পড়া যাবে না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা: ১০৩)

এ কারণে সফর, কাজ কিংবা ব্যস্ততা থাকলেও যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে সংশ্লিষ্ট ওয়াক্তের মধ্যেই নামাজ আদায় করার। কোনো জায়গায় যাওয়ার আগে নামাজের সময় ও সুযোগ বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করাও জরুরি।

তবে কোনো ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে নামাজের ওয়াক্ত পার করে ফেললে, পরে সেই নামাজ কাজা আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ নামাজ পড়তে ভুলে গেলে কিংবা ঘুমিয়ে থাকার কারণে নামাজ ছুটে গেলে, যখনই তার নামাজের কথা মনে পড়বে, তখনই তা আদায় করবে। (সহিহ মুসলিম: ৬৮১)

কাজা নামাজ কীভাবে আদায় করবেন?

ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর ছুটে যাওয়া ফরজ নামাজ কাজা করতে হলে নামাজের অন্যান্য শর্ত পূরণ করে পবিত্র অবস্থায় নামাজে দাঁড়াতে হবে। যে ওয়াক্তের নামাজ ছুটে গেছে, সেটির কাজা আদায়ের নিয়ত করে স্বাভাবিক নিয়মেই নামাজ আদায় করতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে, কারও ইশার নামাজ ছুটে গেলে এবং ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায়, তাহলে নিষিদ্ধ সময় না হলে সুযোগমতো ইশার চার রাকাত ফরজ কাজা আদায় করতে হবে। নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ শেষ করতে হবে।

অর্থাৎ, ওয়াক্তের আগে ফরজ নামাজ আদায় করার সুযোগ নেই। বরং নামাজের ওয়াক্তকে গুরুত্ব দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। কোনো কারণে নামাজ ছুটে গেলে পরে কাজা আদায় করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

ওয়াক্তের আগে আসর-মাগরিবের নামাজ পড়া যাবে? জানালেন আলেমরা

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে

সফর, কর্মব্যস্ততা কিংবা অন্য কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে নামাজ পড়তে পারবেন না এমন আশঙ্কা অনেকেরই থাকে। বিশেষ করে আসর ও মাগরিবের নামাজ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই কি এসব ফরজ নামাজ আদায় করা যাবে?

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে কোনো ফরজ নামাজ আদায় করা বৈধ নয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের প্রতিটির জন্য নির্ধারিত সময় রয়েছে। তাই আসরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে আসরের নামাজ এবং মাগরিবের ওয়াক্ত হওয়ার আগে মাগরিবের নামাজ পড়া যাবে না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা: ১০৩)

এ কারণে সফর, কাজ কিংবা ব্যস্ততা থাকলেও যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে সংশ্লিষ্ট ওয়াক্তের মধ্যেই নামাজ আদায় করার। কোনো জায়গায় যাওয়ার আগে নামাজের সময় ও সুযোগ বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করাও জরুরি।

তবে কোনো ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে নামাজের ওয়াক্ত পার করে ফেললে, পরে সেই নামাজ কাজা আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ নামাজ পড়তে ভুলে গেলে কিংবা ঘুমিয়ে থাকার কারণে নামাজ ছুটে গেলে, যখনই তার নামাজের কথা মনে পড়বে, তখনই তা আদায় করবে। (সহিহ মুসলিম: ৬৮১)

কাজা নামাজ কীভাবে আদায় করবেন?

ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর ছুটে যাওয়া ফরজ নামাজ কাজা করতে হলে নামাজের অন্যান্য শর্ত পূরণ করে পবিত্র অবস্থায় নামাজে দাঁড়াতে হবে। যে ওয়াক্তের নামাজ ছুটে গেছে, সেটির কাজা আদায়ের নিয়ত করে স্বাভাবিক নিয়মেই নামাজ আদায় করতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে, কারও ইশার নামাজ ছুটে গেলে এবং ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায়, তাহলে নিষিদ্ধ সময় না হলে সুযোগমতো ইশার চার রাকাত ফরজ কাজা আদায় করতে হবে। নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ শেষ করতে হবে।

অর্থাৎ, ওয়াক্তের আগে ফরজ নামাজ আদায় করার সুযোগ নেই। বরং নামাজের ওয়াক্তকে গুরুত্ব দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। কোনো কারণে নামাজ ছুটে গেলে পরে কাজা আদায় করতে হবে।