ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

বদলে যাচ্ছে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র, বিশেষ করে সিএস, আরএস, এসএ, বিএস খতিয়ান বা পর্চার বিষয়গুলো সম্পর্কে সাধারণের ধারণা কম। এ সুযোগে ভূমি ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোয় অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দালালচক্র গড়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে হয়রানির শিকার হন সাধারণ মানুষ। এ সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ও জটিলতা বিবেচনায় এনে ভূমি ব্যবস্থাপনা সহজ করতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে আরএস খতিয়ান ও নামজারি অনলাইনে চালু করা হয়েছে। যে কোনো স্থান থেকে মাত্র ৫ মিনিটে অনলাইনে জমির খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করা যাবে। ফলে ভূমি অফিসগুলোয় দালালদের দৌরাত্ম্য কিছুটা হলেও কমবে। জটিলতা কমাতে সর্বশেষ ভূমি জরিপে প্রকাশিত খতিয়ান পরীক্ষায় উঠে আসা ১ হাজার ১২৪টি শ্রেণির ভূমিকে মাত্র ১৬ শ্রেণিতে রূপান্তর করেছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগ হিসেবে মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের দাবি, সম্পদের হিসাব শুধু কর্মচারীদের নিলেই হবে না, কর্মকর্তাদেরও নিতে হবে। মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন পাঁচটি দপ্তর এবং ৬৪টি জেলায় কর্মরত ১৭ হাজার ৫৭৬ কর্মচারীর মধ্যে ১৭ হাজার ২০৮ কর্মচারী তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী গত ৯ মার্চ দাখিল করেন। অবশিষ্ট ৩৬৮ কর্মচারী বিভাগীয় মামলায় সাময়িক বরখাস্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতে থাকায় সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভূমির ১৬টি শ্রেণি হলো বন, পাহাড়, নদী, জলাভূমি, রাস্তা, টার্মিনাল, বন্দর, আবাদি, আবাসিক, অফিস, বাণিজ্যিক, শিল্প, বিনোদনকেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্মৃতিস্তম্ভ ও ধর্মীয় স্থান। ভূমির শ্রেণিকে সহজবোধ্য ও বাস্তবোপযোগী করতেও মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, গত বছর ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সভায় বিদ্যমান ভূমি জরিপ কার্যক্রমে ১৫৩টি শ্রেণির ভূমিকে ১০-১২টি শ্রেণিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সব জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস থেকে সদ্যপ্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৩৩৯টি (কমবেশি) শ্রেণির অস্তিত্ব রয়েছে। আর সর্বশেষ জরিপে প্রকাশিত খতিয়ান পরীক্ষা করে দেখা যায়, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ১১৪ শ্রেণির অস্তিত্ব রয়েছে। জমির এমন জটিল শ্রেণিবিভাগ কমিয়ে মাত্র ১৬ শ্রেণিতে রূপান্তর করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ সহজে শ্রেণিবিভাগ বুঝতে পারবে। সম্প্রতি ‘হাতের মুঠোয় খতিয়ান’ স্লোগানে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ আরএস খতিয়ান অনলাইনে অবমুক্তকরণ করেন। land.gov.bd বা rsk.land.gov ও www.minland.gov ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসে অথবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সহায়তায় নতুন এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জানান, দেশে প্রায় ৬১ হাজার ৫০০ (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) মৌজা রয়েছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার মৌজার জরিপ সম্পন্ন হয়েছে, এর প্রায় ৩২ হাজার মৌজার জরিপে প্রকাশিত ১ কোটি ৪৬ লাখ আরএস (১৯৬৫ সাল থেকে চলমান জরিপে প্রস্তুত করা খতিয়ান) খতিয়ানের তথ্য অনলাইনে পাওয়ার সুযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জরিপ কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং জরিপ শেষ হয়েছে এমন খতিয়ানগুলো পর্যায়ক্রমে আপলোড করা হবে। জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্তভাবে গেজেট প্রকাশিত খতিয়ানও এসব লিংকে আপলোড করা হবে। ফলে খতিয়ান নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানি দূর হবে। কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে খতিয়ানের কপি পেতে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় এটা থাকবে না। খতিয়াতের কপি পেতে ভূমি অফিসে বা ডিসি অফিসে দৌড়াতে হবে না জমির মালিককে।

আর ভূমি সচিব মো. মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অফিসের রেকর্ডরুম থেকে খতিয়ান বা পর্চা দেওয়া হয়ে থাকে। খতিয়ানের কপি প্রাপ্তিতে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা পরিহার, সময়, খরচ ও যাতায়াত ভোগান্তি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস এবং ভূমিসংক্রান্ত সেবা আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহি করার জন্য অনলাইনে আরএস খতিয়ান চালু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, খতিয়ান পেতে জমির মালিককে সরাসরি আবেদন করা লাগে, টাকা খরচ হয়। কিন্তু অনলাইনের এসবের কিছুই লাগবে না। জমির মালিক পৃথিবীর যে কোনো স্থান থেকে অনলাইনে তার জমির খতিয়ান দেখতে পাবে। এতে তাদের আর ভোগান্তি থাকবে না।

মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী আরও বলেন, জনগণকে দ্রুত সময়ে সেবা দিতে বর্তমানে ৩০২টি উপজেলায় ই-মিউটেশন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আরএসকে (রিভিশনাল সার্ভে খতিয়ান) সিস্টেম ও ডিডিআর বা ডিজিটাইজেশন অব রেকর্ড রুমের মাধ্যমে সিএস, এসএ ও আরএস খতিয়ান অনলাইনে সরবরাহের পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জমির মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যম হচ্ছে নামজারি। এ নামজারি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহু পুরনো। আমরা নামজারিও অনলাইনে চালু করেছি। আগে নামজারি করতে দুই মাস লাগত। বর্তমােেন মাত্র ২৮ দিনেই নামজারি শেষ হবে। আগামী জুনের মধ্যে দেশের শতভাগ উপজেলায় অনলাইনে নামজারি চালু করা সম্ভব হবে। ভূমি সচিব আরও জানান, যারা বিদেশে কাজ করেন তাদের জমির নামজারি করতে মহানগরীর মধ্যে সময় লাগবে ১২ দিন আর মহানগরীর বাইরে অন্যান্য স্থানে মাত্র ৯ দিনেই হবে নামজারি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

বদলে যাচ্ছে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র

আপডেট টাইম : ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০১৯

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র, বিশেষ করে সিএস, আরএস, এসএ, বিএস খতিয়ান বা পর্চার বিষয়গুলো সম্পর্কে সাধারণের ধারণা কম। এ সুযোগে ভূমি ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোয় অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দালালচক্র গড়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে হয়রানির শিকার হন সাধারণ মানুষ। এ সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ও জটিলতা বিবেচনায় এনে ভূমি ব্যবস্থাপনা সহজ করতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে আরএস খতিয়ান ও নামজারি অনলাইনে চালু করা হয়েছে। যে কোনো স্থান থেকে মাত্র ৫ মিনিটে অনলাইনে জমির খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করা যাবে। ফলে ভূমি অফিসগুলোয় দালালদের দৌরাত্ম্য কিছুটা হলেও কমবে। জটিলতা কমাতে সর্বশেষ ভূমি জরিপে প্রকাশিত খতিয়ান পরীক্ষায় উঠে আসা ১ হাজার ১২৪টি শ্রেণির ভূমিকে মাত্র ১৬ শ্রেণিতে রূপান্তর করেছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগ হিসেবে মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের দাবি, সম্পদের হিসাব শুধু কর্মচারীদের নিলেই হবে না, কর্মকর্তাদেরও নিতে হবে। মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন পাঁচটি দপ্তর এবং ৬৪টি জেলায় কর্মরত ১৭ হাজার ৫৭৬ কর্মচারীর মধ্যে ১৭ হাজার ২০৮ কর্মচারী তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী গত ৯ মার্চ দাখিল করেন। অবশিষ্ট ৩৬৮ কর্মচারী বিভাগীয় মামলায় সাময়িক বরখাস্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতে থাকায় সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভূমির ১৬টি শ্রেণি হলো বন, পাহাড়, নদী, জলাভূমি, রাস্তা, টার্মিনাল, বন্দর, আবাদি, আবাসিক, অফিস, বাণিজ্যিক, শিল্প, বিনোদনকেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্মৃতিস্তম্ভ ও ধর্মীয় স্থান। ভূমির শ্রেণিকে সহজবোধ্য ও বাস্তবোপযোগী করতেও মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, গত বছর ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সভায় বিদ্যমান ভূমি জরিপ কার্যক্রমে ১৫৩টি শ্রেণির ভূমিকে ১০-১২টি শ্রেণিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভূমি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সব জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস থেকে সদ্যপ্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৩৩৯টি (কমবেশি) শ্রেণির অস্তিত্ব রয়েছে। আর সর্বশেষ জরিপে প্রকাশিত খতিয়ান পরীক্ষা করে দেখা যায়, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ১১৪ শ্রেণির অস্তিত্ব রয়েছে। জমির এমন জটিল শ্রেণিবিভাগ কমিয়ে মাত্র ১৬ শ্রেণিতে রূপান্তর করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ সহজে শ্রেণিবিভাগ বুঝতে পারবে। সম্প্রতি ‘হাতের মুঠোয় খতিয়ান’ স্লোগানে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ আরএস খতিয়ান অনলাইনে অবমুক্তকরণ করেন। land.gov.bd বা rsk.land.gov ও www.minland.gov ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসে অথবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সহায়তায় নতুন এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জানান, দেশে প্রায় ৬১ হাজার ৫০০ (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) মৌজা রয়েছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার মৌজার জরিপ সম্পন্ন হয়েছে, এর প্রায় ৩২ হাজার মৌজার জরিপে প্রকাশিত ১ কোটি ৪৬ লাখ আরএস (১৯৬৫ সাল থেকে চলমান জরিপে প্রস্তুত করা খতিয়ান) খতিয়ানের তথ্য অনলাইনে পাওয়ার সুযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জরিপ কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং জরিপ শেষ হয়েছে এমন খতিয়ানগুলো পর্যায়ক্রমে আপলোড করা হবে। জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্তভাবে গেজেট প্রকাশিত খতিয়ানও এসব লিংকে আপলোড করা হবে। ফলে খতিয়ান নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানি দূর হবে। কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে খতিয়ানের কপি পেতে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় এটা থাকবে না। খতিয়াতের কপি পেতে ভূমি অফিসে বা ডিসি অফিসে দৌড়াতে হবে না জমির মালিককে।

আর ভূমি সচিব মো. মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অফিসের রেকর্ডরুম থেকে খতিয়ান বা পর্চা দেওয়া হয়ে থাকে। খতিয়ানের কপি প্রাপ্তিতে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা পরিহার, সময়, খরচ ও যাতায়াত ভোগান্তি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস এবং ভূমিসংক্রান্ত সেবা আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহি করার জন্য অনলাইনে আরএস খতিয়ান চালু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, খতিয়ান পেতে জমির মালিককে সরাসরি আবেদন করা লাগে, টাকা খরচ হয়। কিন্তু অনলাইনের এসবের কিছুই লাগবে না। জমির মালিক পৃথিবীর যে কোনো স্থান থেকে অনলাইনে তার জমির খতিয়ান দেখতে পাবে। এতে তাদের আর ভোগান্তি থাকবে না।

মাক্ছুদুর রহমান পাটওয়ারী আরও বলেন, জনগণকে দ্রুত সময়ে সেবা দিতে বর্তমানে ৩০২টি উপজেলায় ই-মিউটেশন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আরএসকে (রিভিশনাল সার্ভে খতিয়ান) সিস্টেম ও ডিডিআর বা ডিজিটাইজেশন অব রেকর্ড রুমের মাধ্যমে সিএস, এসএ ও আরএস খতিয়ান অনলাইনে সরবরাহের পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জমির মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যম হচ্ছে নামজারি। এ নামজারি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহু পুরনো। আমরা নামজারিও অনলাইনে চালু করেছি। আগে নামজারি করতে দুই মাস লাগত। বর্তমােেন মাত্র ২৮ দিনেই নামজারি শেষ হবে। আগামী জুনের মধ্যে দেশের শতভাগ উপজেলায় অনলাইনে নামজারি চালু করা সম্ভব হবে। ভূমি সচিব আরও জানান, যারা বিদেশে কাজ করেন তাদের জমির নামজারি করতে মহানগরীর মধ্যে সময় লাগবে ১২ দিন আর মহানগরীর বাইরে অন্যান্য স্থানে মাত্র ৯ দিনেই হবে নামজারি।