ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক ‘ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

পুলিশের কান্না নেই : ইফতেখারুল ইসলাম

আমরা সম্ভবত খুব ভুল সময়ে ভুল পরিবেশে জন্মেছি,  যেখানে ঘৃণা নামক এক লেলিহান শিখা গন্তব্যহীন হয়ে সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দিয়ে যায়।

সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়াতে এক শ্রেণির মানুষের আজব সন্দেহের তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যাওয়ায় এক ধরনের আশঙ্কাই জেগে উঠছে এবং সেটা বারবার জাগছে।

এসময়ে আশেপাশে অস্থিরতার প্রতীক নামধারী এক ধরনের বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞদের দেখতে পাওয়া যায়! যাদের সবকিছুতে সন্দেহ… ছোট্ট একটা উদাহরণ দিলে পরিস্কার হয়ে যাবে। বিশ্বসেরা অলারাউন্টার সাকিব আল হাসানের কথাই ধরা যাক। যেদিন তিনি তার সক্ষমতার যথার্থ প্রয়োগ ঘটাতে ব্যর্থ হন, সেদিন আমাদের এই বিশেষ মানুষেরা তাকে ক্রিকেটীয় জ্ঞান দিতেন। আর যেদিন ভাল খেলেন সেদিন বলেন ‘বাঘের বাচ্চা’ এই না হলে আমাদের ছেলে! আচ্ছা আগের ম্যাচে তবে কেন ভাল খেলেনি? হুম আইপিএল এ বেশি টাকা পেলে দেশের হয়ে ভাল খেলবে কেন? তাদের সন্দেহ আসলে কোথায় নেই?

কত জানা অজানার সন্দেহ তাদের? তাদের জ্ঞান শুধু ক্রিকেটীয় বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয় তা সর্বত্রই বিচরিত। তাদের এই উঁচু মার্গীয় জ্ঞানের প্রকাশ ও প্রচার তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, সেটি ছাড়িয়ে গেছে অন্য কোথাও অন্য উচ্চতায়ও!

মূল কথা হলো- যে কোনো বিষয়ের বিশেষজ্ঞের চেয়েও আরও বেশি স্বঘোষিত বিশেষত্ব অর্জন করে নিয়েছেন তারা..

তাদের কাছে মানুষের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত যে জীবন তার নাম অর্থাৎ মৃত্যুও হয়ে যায় সাজানো নাটক! কীভাবে একটা স্ট্র্যাটেজিকাল অভিযান চলবে তাও তারা এসি রুমে বসে মুহূর্তেই ঠিক করে ফেলেন!

তাদেরই কেউ কেউ বলেন আমরা ‘অজ্ঞ ও ইম্মেচিউরড’ আপনি আমাদের অজ্ঞতা দেখেছেন আমরা আপনার প্রাজ্ঞতা দেখতে চাই…জ্বি একদম ঠিক ভাবছেন আপনি। … আমাদের সবকিছু খারাপ, আমরা আপনার ভালটা দেখতে চাই এবার।

আচ্ছা এই যে চুরি করছেন, দস্যুতা ও ডাকাতি করছেন, একজন র‌্যাপিস্ট থেকে ধরে যত জানা অজানা জঘণ্য ভূমিকায় আসছেন,  সেটা আসলে কে? আপনিই তো তাই না!! না না আপনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই..অভিযোগ গ্রহণ করার মানসিক উচ্চতাও যে থাকতে হয়!  হয় আমার সেটি দেয়ার অথবা আপনার সেটি গ্রহণ করার ক্ষমতা হয়নি!

এই আপনিই তো আমার গুটিকয়েক সদস্যের ভুলের জন্য আমাদের সবাইকে মা বাপ তুলে গালি দেন তাই না! হ্যা এই আপনিই! আমি আগে বিস্মিত হতাম এখন হই না। কারণ অন্যের বাবা-মাকে সম্মান দিতে সেই ব্যর্থ যার কাছে নিজের বাবা-মা উপেক্ষিত। আচ্ছা আপনি তো একেবারে নিষ্পাপ, স্বচ্ছ… তাই না? উপরে এক সৃষ্টিকর্তা আপনার ভেতরকার স্বচ্ছতা দেখেন আর আমরা পুলিশরা দেখি আপনার বাইরের স্বচ্ছতা।

আপনার স্বচ্ছতার আভা আমাকে লজ্জায় মাটির সঙ্গে মিইয়ে দেয় মাঝে মাঝে। আপনার কী সেই বোধটুকুও আছে?

এই তো সেদিনই শুনছিলাম আপনারাই বলছেন অমুক পুলিশের প্রতিবন্ধী বাচ্চা তার পাপের ফসল! ছি! এতটা জাজমেন্টাল এই আপনি! কই আমরা তো এসব শিশুদের স্পেশাল চিলড্রেন বলি, আমরা তো তাদের দুহাত বাড়িয়ে কোলে তুলে নেই। কখনো শুনেছেন কোনো পুলিশ বলছে এই স্পেশাল শিশু আপনার পাপের ফসল! সব পাপ বুঝি পুলিশই করে, তাহলে আপনি কীভাবে স্পেশাল শিশুর বাবা-মা হন? এই ছোট্ট ফেরেশতার ন্যায় বাচ্চাগুলোও আপনার ঋণাত্মক আঘাত থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।

লিঙ্ক পেলেন আর শেয়ার করলেন, আগে পিছে কিছুই দেখলেন না। জানলেনই না ঘটনার উৎস কী? আদৌ ঘটেছে কি? একটা স্থির ছবি দেখে প্রত্যক্ষদর্শী না হয়েও কখনো মনগড়া কাহিনির সঙ্গে গা এলিয়ে দিন এই আপনি। আপনার শরীর যে পেজা তুলোর ন্যায়, সুযোগ পেলেই স্রোতের অনুকূলে ভেসে যায়।

আচ্ছা জানেন তো আমাদের যে কনস্টেবলরা দিন রাত রাস্তায় ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পালন করেন, তারা আপনার মত আট ঘণ্টা ঘুমোয় না,  আপনার মত আড়মোড়া ভেঙে সকালের নাশতা করে না।  কখন করে জানেন? সেই ভোর পাঁচটায়,  নয়তো গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে দেরি হয়ে যাবে। ভোর পাঁচটায় নাশতা করেন তো নিয়মিত। নিশ্চয়ই খুব ভাল লাগে। হ্যা ঠিক ধরেছেন আমরা নিজেরা বেছে নিয়েছি এই কাজ। প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে আপনাদের সুললিত কণ্ঠের গালি ফ্রি!

আপনাদের হাজারো গালির মুখে আমরা কিন্তু থেমে যাই না। আমরা আপনাদের কারো কারো মত অনেক কিছুই করি না। আমাদের পরিবার আমাদেরকে কোনো আনন্দের মুহূর্তে পায় না বললেই চলে। কারণ আমরা আপনাদের আনন্দ দেখে আনন্দিত হই। আমাদের কারো কারো মৃত্যুতে আমরা শোকের প্রকাশও ঘটাতে পারি না। আমরা পরেরদিন আবারও রাস্তায় নামি এই আপনাদের জন্য।

আমাদের পরিবার দিনরাত আশঙ্কায় থাকে। আমাদের বেছে নেয়াটা তাদের জীবনের একটা বড় ভুলও হয়ে থাকতে পারে। আমরা কিন্তু আমাদের পরিবারেরও হয়ে উঠতে পারি না।

আমাদের ছোট বাচ্চার জন্মদিনে একসঙ্গে কেক কাটাও হয়ে উঠে না। আমাদের বাচ্চারা বাসায় কাঁদে, আর আমরা বাইরে কাঁদি। না না আমাদের তো আবার কাঁদতেও নেই। আমার ছয় ছয়টি ভাই যখন দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন, আমরা তখনো কাঁদি না। আমাদের ভেতরটা তখন ফেটে যায়। আপনার ভাইয়ের মৃত্যু পাহাড়সম আর আমার ভাইয়ের মৃত্যু অভিনয়! নাহ আমরা কাঁদি না, আমরা আবারও নেমে পড়ি মাঠে। আমরা কাঁদি না কারণ আমাদের কান্না নেই।

পুলিশ কাঁদে না, কারণ পুলিশের কান্না নেই। পুলিশকে কাঁদতে হয় না।

লেখক: জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডেমরা জোন)

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া

পুলিশের কান্না নেই : ইফতেখারুল ইসলাম

আপডেট টাইম : ০৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০১৭

আমরা সম্ভবত খুব ভুল সময়ে ভুল পরিবেশে জন্মেছি,  যেখানে ঘৃণা নামক এক লেলিহান শিখা গন্তব্যহীন হয়ে সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দিয়ে যায়।

সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়াতে এক শ্রেণির মানুষের আজব সন্দেহের তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যাওয়ায় এক ধরনের আশঙ্কাই জেগে উঠছে এবং সেটা বারবার জাগছে।

এসময়ে আশেপাশে অস্থিরতার প্রতীক নামধারী এক ধরনের বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞদের দেখতে পাওয়া যায়! যাদের সবকিছুতে সন্দেহ… ছোট্ট একটা উদাহরণ দিলে পরিস্কার হয়ে যাবে। বিশ্বসেরা অলারাউন্টার সাকিব আল হাসানের কথাই ধরা যাক। যেদিন তিনি তার সক্ষমতার যথার্থ প্রয়োগ ঘটাতে ব্যর্থ হন, সেদিন আমাদের এই বিশেষ মানুষেরা তাকে ক্রিকেটীয় জ্ঞান দিতেন। আর যেদিন ভাল খেলেন সেদিন বলেন ‘বাঘের বাচ্চা’ এই না হলে আমাদের ছেলে! আচ্ছা আগের ম্যাচে তবে কেন ভাল খেলেনি? হুম আইপিএল এ বেশি টাকা পেলে দেশের হয়ে ভাল খেলবে কেন? তাদের সন্দেহ আসলে কোথায় নেই?

কত জানা অজানার সন্দেহ তাদের? তাদের জ্ঞান শুধু ক্রিকেটীয় বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয় তা সর্বত্রই বিচরিত। তাদের এই উঁচু মার্গীয় জ্ঞানের প্রকাশ ও প্রচার তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখেননি, সেটি ছাড়িয়ে গেছে অন্য কোথাও অন্য উচ্চতায়ও!

মূল কথা হলো- যে কোনো বিষয়ের বিশেষজ্ঞের চেয়েও আরও বেশি স্বঘোষিত বিশেষত্ব অর্জন করে নিয়েছেন তারা..

তাদের কাছে মানুষের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত যে জীবন তার নাম অর্থাৎ মৃত্যুও হয়ে যায় সাজানো নাটক! কীভাবে একটা স্ট্র্যাটেজিকাল অভিযান চলবে তাও তারা এসি রুমে বসে মুহূর্তেই ঠিক করে ফেলেন!

তাদেরই কেউ কেউ বলেন আমরা ‘অজ্ঞ ও ইম্মেচিউরড’ আপনি আমাদের অজ্ঞতা দেখেছেন আমরা আপনার প্রাজ্ঞতা দেখতে চাই…জ্বি একদম ঠিক ভাবছেন আপনি। … আমাদের সবকিছু খারাপ, আমরা আপনার ভালটা দেখতে চাই এবার।

আচ্ছা এই যে চুরি করছেন, দস্যুতা ও ডাকাতি করছেন, একজন র‌্যাপিস্ট থেকে ধরে যত জানা অজানা জঘণ্য ভূমিকায় আসছেন,  সেটা আসলে কে? আপনিই তো তাই না!! না না আপনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই..অভিযোগ গ্রহণ করার মানসিক উচ্চতাও যে থাকতে হয়!  হয় আমার সেটি দেয়ার অথবা আপনার সেটি গ্রহণ করার ক্ষমতা হয়নি!

এই আপনিই তো আমার গুটিকয়েক সদস্যের ভুলের জন্য আমাদের সবাইকে মা বাপ তুলে গালি দেন তাই না! হ্যা এই আপনিই! আমি আগে বিস্মিত হতাম এখন হই না। কারণ অন্যের বাবা-মাকে সম্মান দিতে সেই ব্যর্থ যার কাছে নিজের বাবা-মা উপেক্ষিত। আচ্ছা আপনি তো একেবারে নিষ্পাপ, স্বচ্ছ… তাই না? উপরে এক সৃষ্টিকর্তা আপনার ভেতরকার স্বচ্ছতা দেখেন আর আমরা পুলিশরা দেখি আপনার বাইরের স্বচ্ছতা।

আপনার স্বচ্ছতার আভা আমাকে লজ্জায় মাটির সঙ্গে মিইয়ে দেয় মাঝে মাঝে। আপনার কী সেই বোধটুকুও আছে?

এই তো সেদিনই শুনছিলাম আপনারাই বলছেন অমুক পুলিশের প্রতিবন্ধী বাচ্চা তার পাপের ফসল! ছি! এতটা জাজমেন্টাল এই আপনি! কই আমরা তো এসব শিশুদের স্পেশাল চিলড্রেন বলি, আমরা তো তাদের দুহাত বাড়িয়ে কোলে তুলে নেই। কখনো শুনেছেন কোনো পুলিশ বলছে এই স্পেশাল শিশু আপনার পাপের ফসল! সব পাপ বুঝি পুলিশই করে, তাহলে আপনি কীভাবে স্পেশাল শিশুর বাবা-মা হন? এই ছোট্ট ফেরেশতার ন্যায় বাচ্চাগুলোও আপনার ঋণাত্মক আঘাত থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।

লিঙ্ক পেলেন আর শেয়ার করলেন, আগে পিছে কিছুই দেখলেন না। জানলেনই না ঘটনার উৎস কী? আদৌ ঘটেছে কি? একটা স্থির ছবি দেখে প্রত্যক্ষদর্শী না হয়েও কখনো মনগড়া কাহিনির সঙ্গে গা এলিয়ে দিন এই আপনি। আপনার শরীর যে পেজা তুলোর ন্যায়, সুযোগ পেলেই স্রোতের অনুকূলে ভেসে যায়।

আচ্ছা জানেন তো আমাদের যে কনস্টেবলরা দিন রাত রাস্তায় ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পালন করেন, তারা আপনার মত আট ঘণ্টা ঘুমোয় না,  আপনার মত আড়মোড়া ভেঙে সকালের নাশতা করে না।  কখন করে জানেন? সেই ভোর পাঁচটায়,  নয়তো গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে দেরি হয়ে যাবে। ভোর পাঁচটায় নাশতা করেন তো নিয়মিত। নিশ্চয়ই খুব ভাল লাগে। হ্যা ঠিক ধরেছেন আমরা নিজেরা বেছে নিয়েছি এই কাজ। প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে আপনাদের সুললিত কণ্ঠের গালি ফ্রি!

আপনাদের হাজারো গালির মুখে আমরা কিন্তু থেমে যাই না। আমরা আপনাদের কারো কারো মত অনেক কিছুই করি না। আমাদের পরিবার আমাদেরকে কোনো আনন্দের মুহূর্তে পায় না বললেই চলে। কারণ আমরা আপনাদের আনন্দ দেখে আনন্দিত হই। আমাদের কারো কারো মৃত্যুতে আমরা শোকের প্রকাশও ঘটাতে পারি না। আমরা পরেরদিন আবারও রাস্তায় নামি এই আপনাদের জন্য।

আমাদের পরিবার দিনরাত আশঙ্কায় থাকে। আমাদের বেছে নেয়াটা তাদের জীবনের একটা বড় ভুলও হয়ে থাকতে পারে। আমরা কিন্তু আমাদের পরিবারেরও হয়ে উঠতে পারি না।

আমাদের ছোট বাচ্চার জন্মদিনে একসঙ্গে কেক কাটাও হয়ে উঠে না। আমাদের বাচ্চারা বাসায় কাঁদে, আর আমরা বাইরে কাঁদি। না না আমাদের তো আবার কাঁদতেও নেই। আমার ছয় ছয়টি ভাই যখন দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন, আমরা তখনো কাঁদি না। আমাদের ভেতরটা তখন ফেটে যায়। আপনার ভাইয়ের মৃত্যু পাহাড়সম আর আমার ভাইয়ের মৃত্যু অভিনয়! নাহ আমরা কাঁদি না, আমরা আবারও নেমে পড়ি মাঠে। আমরা কাঁদি না কারণ আমাদের কান্না নেই।

পুলিশ কাঁদে না, কারণ পুলিশের কান্না নেই। পুলিশকে কাঁদতে হয় না।

লেখক: জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডেমরা জোন)