দেশে তাপমাত্রার পারদ ছুঁয়েছে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস

কদিন ধরেই দেশের ভেতরে তাপমাত্রার পারদ চড়া। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁই ছুঁই করছিল। এবার এক ধাক্কায় তা পেরিয়ে গেল। চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এই মাত্রাই চলতি মৌসুমে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস। টানা ১২ দিন ধরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় হাঁসফাঁস করছে এ জেলার জনজীবন।

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় এদিন দুপুর ১টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে প্রকৃত তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে আরও বেশি।

প্রতিদিন তাপমাত্রার পারদ ওপরে ওঠায় হাঁসফাঁস জনজীবন। নগরে গাছপালার অভাবে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। হাঁপিয়ে উঠছে মানুষ। পশু-পাখিও আছে কষ্টে। প্রায় সারা দেশেই একই অবস্থা।

চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে অব্যাহত মাঝারি তাপপ্রবাহে থমকে গেছে জীবনযাত্রা। সূর্যের গনগনে আঁচে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত টানা ১২ দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এ জেলায়। যা গত ১০ বছরের রেকর্ড। বুধবারও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্রচণ্ড তাপদাহে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রখর তাপের পাশাপাশি অতিরিক্ত বাতাসের আদ্রতা থাকায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। প্রখর রোদে খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ।

একটু স্বস্তির জন্য ছায়াযুক্ত স্থানে বসে থাকছে মানুষ। তেমন জনসমাগম নেই হাট বাজারে। তীব্র তাপদাহে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভুট্টা, ধান, গমসহ মাঠের অন্য ফসল। নষ্ট হয়ে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাড়তি সেচ দিতে হচ্ছে ফসলে।

চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের ভ্যান চালক জমির হোসেন বলেনন, ‘আমার ৫০ বছর বয়সী জীবনে এমন তাপ কুনুদিন দেকিনি। এই তাপে গা পুড়ি যাচ্চি। কাজের জন্যি বের হয়িও কাজ করতি পারচিনি। ছায়ায় বসি থাকতি হচ্চি।’

চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, গত কয়েক দিন ধরে চুয়াডাঙ্গা ও এর আশপাশ এলাকার ওপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত টানা ১২ দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। শুক্রবার থেকে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর