ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাড়ছে ইরানি হামলার তীব্রতা, অবিলম্বে নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়তে বললো চীন প্রধানমন্ত্রী দেশকে তাঁর পিতার মতোই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন : ভূমিমন্ত্রী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় মেসি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা ঈদের ছুটি শেষে অফিস শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার জাতীয় পতাকা বিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশনা জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ বর্ণবাদ নির্মূলে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানালো বাংলাদেশ ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কুশল বিনিময়

ধান নয়, এ যেন কৃষকের গলা কাটা ড. নিয়াজ পাশা

আগে হাওরাঞ্চলে ধান কাটা হত ‘ভাগা’ ভিত্তিতে । এগার ভাগের এক ভাগ(১/১১) ধান পেত দাওয়াল । দুরত্ব বা অন্য কারনে কম বেশী হত । বরিশাল, ফরিদপুর, কুমিল্লা অঞ্চল হতে হাজার হাজার মানুষ বৈশাখ মাসে নৌকা যোগে ধান কাটতে আসত । সাথে করে নিয়ে আসত মাটির হাড়ি ভর্তি করে ঝুলা গুড়, লোনা ইলিশ, গোল আলু । আমরাও ভাগ পেতাম।

পরবর্তীতে এ স্থান দখল করে জামালপুর, টাঙ্গাইল, বৃহত্তর রংপুর, ময়মনসিংহ থেকে আগত লোকজন । তাঁরা শুধু নৌকা নিয়ে আসত, ফিরে যেত হাসিমুখে নৌকা বোঝাই ধান নিয়ে । গৃহস্থও গরু-খাসি জবাই করে বিদায়ী ভোজ দিত । অথবা খাসি-ভেড়া-গরু দিয়ে বিদায় জানাত । বেপারীগণ মহাজনের জয়ধ্বনি দিতে দিতে ফিরে যেত । তার আগে ফাল্গুণ-চৈত্র্য মাসে বেপারীগণ হাওরাঞ্চলে এসে টাকা পয়সা দিয়ে ‘বায়না’ করে যেত । এতে উভয় পক্ষ লাভবান হত, ক্ষতি হত কম, শ্রমের সর্বোচ্চ ব্যবহার হত ।

আজ অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন । ওইসব অঞ্চলের লোকজন আর সেভাবে আসে না ।

গত বছরও ধান কেটেছে এক অষ্টমাংশ (১/৮) হিসাবে । এ বছর দেশী দাওয়ালগণ আর নগদ কাঁচা ধানের বিনিময়ে ধান কাটতে রাজি নয় । ধান কাটবে নগদ টাকায় । প্রতি কের(৪০ শতাংশ) জমির ধান কাটতে দিতে হচ্ছে ৩-৪ হাজার টাকা ।

কৃষক মাত্র ৩৫০-৪৫০ টাকা মন দরে ধান বিক্রি করে দাওয়ালদের চাহিদা মিটাতে বাধ্য হচ্ছে।আবার নগদ ৬০০-৭০০ টাকা মজুরীতেও ধান কাটাতে বাধ্য । সাথে তিন বেলা খাবার । এতে ফাঁকি, ক্ষতি হয় অনেক বেশী । আগাম বন্যার আগ্রাসনের সুযোগ নিচ্ছে দাওয়ালরা ।

এক কেরে ধান হবে ২০-২৫ মন । ধান জমি হতে আনতে ট্রলিকে দিতে হয় ২-৩ মন, মাড়াই করতে ৬-৭ %, সেচকর ১ মন ৩০ কেজি । অন্যান্য খরচ তো আছেই । কৃষকের খাতায় শূণ্য ।

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে হাওরের কৃষিকে সাজাতে হবে সেভাবে । ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবেলায় হাওরে ফসল বৈচিত্রময়করণ (Crops diversification), যান্ত্রিকীকরণে আমাদের যেতেই হবে । সরকারের নেক দৃষ্টি কামনা করছি ।

ড. নিয়াজ পাশা: কৃষি প্রকৌশলী, হাওর ভূমিপুত্র

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ছে ইরানি হামলার তীব্রতা, অবিলম্বে নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়তে বললো চীন

ধান নয়, এ যেন কৃষকের গলা কাটা ড. নিয়াজ পাশা

আপডেট টাইম : ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৬

আগে হাওরাঞ্চলে ধান কাটা হত ‘ভাগা’ ভিত্তিতে । এগার ভাগের এক ভাগ(১/১১) ধান পেত দাওয়াল । দুরত্ব বা অন্য কারনে কম বেশী হত । বরিশাল, ফরিদপুর, কুমিল্লা অঞ্চল হতে হাজার হাজার মানুষ বৈশাখ মাসে নৌকা যোগে ধান কাটতে আসত । সাথে করে নিয়ে আসত মাটির হাড়ি ভর্তি করে ঝুলা গুড়, লোনা ইলিশ, গোল আলু । আমরাও ভাগ পেতাম।

পরবর্তীতে এ স্থান দখল করে জামালপুর, টাঙ্গাইল, বৃহত্তর রংপুর, ময়মনসিংহ থেকে আগত লোকজন । তাঁরা শুধু নৌকা নিয়ে আসত, ফিরে যেত হাসিমুখে নৌকা বোঝাই ধান নিয়ে । গৃহস্থও গরু-খাসি জবাই করে বিদায়ী ভোজ দিত । অথবা খাসি-ভেড়া-গরু দিয়ে বিদায় জানাত । বেপারীগণ মহাজনের জয়ধ্বনি দিতে দিতে ফিরে যেত । তার আগে ফাল্গুণ-চৈত্র্য মাসে বেপারীগণ হাওরাঞ্চলে এসে টাকা পয়সা দিয়ে ‘বায়না’ করে যেত । এতে উভয় পক্ষ লাভবান হত, ক্ষতি হত কম, শ্রমের সর্বোচ্চ ব্যবহার হত ।

আজ অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন । ওইসব অঞ্চলের লোকজন আর সেভাবে আসে না ।

গত বছরও ধান কেটেছে এক অষ্টমাংশ (১/৮) হিসাবে । এ বছর দেশী দাওয়ালগণ আর নগদ কাঁচা ধানের বিনিময়ে ধান কাটতে রাজি নয় । ধান কাটবে নগদ টাকায় । প্রতি কের(৪০ শতাংশ) জমির ধান কাটতে দিতে হচ্ছে ৩-৪ হাজার টাকা ।

কৃষক মাত্র ৩৫০-৪৫০ টাকা মন দরে ধান বিক্রি করে দাওয়ালদের চাহিদা মিটাতে বাধ্য হচ্ছে।আবার নগদ ৬০০-৭০০ টাকা মজুরীতেও ধান কাটাতে বাধ্য । সাথে তিন বেলা খাবার । এতে ফাঁকি, ক্ষতি হয় অনেক বেশী । আগাম বন্যার আগ্রাসনের সুযোগ নিচ্ছে দাওয়ালরা ।

এক কেরে ধান হবে ২০-২৫ মন । ধান জমি হতে আনতে ট্রলিকে দিতে হয় ২-৩ মন, মাড়াই করতে ৬-৭ %, সেচকর ১ মন ৩০ কেজি । অন্যান্য খরচ তো আছেই । কৃষকের খাতায় শূণ্য ।

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে হাওরের কৃষিকে সাজাতে হবে সেভাবে । ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবেলায় হাওরে ফসল বৈচিত্রময়করণ (Crops diversification), যান্ত্রিকীকরণে আমাদের যেতেই হবে । সরকারের নেক দৃষ্টি কামনা করছি ।

ড. নিয়াজ পাশা: কৃষি প্রকৌশলী, হাওর ভূমিপুত্র