ঢাকা , বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘স্যার’ বলে ভাইয়ের বাসা থেকে নেওয়া হয় সাবেক স্পিকারকে

সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের চাচাতো ভাইয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ধানমন্ডির বাসাটি ছিল শিরীন শারমিনের চাচাতো ভাই আরিফ মাসুদ চৌধুরীর।

আরিফ মাসুদ জানান, তার সঙ্গে (শিরীন শারমিন) দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগ ছিল না। হঠাৎ সোমবার তিনি ফোন করে বলেন বাসায় আসবেন। তার পছন্দের খাবার রাখার কথাও বলেন। সোমবার সন্ধ্যায় শিরীন শারমিন ও তার স্বামী ছোট একটি লাগেজ নিয়ে বাসায় আসেন। লাগেজ দেখে আমি বেশ খুশি হয়েছিলাম এই ভেবে যে তাদের হয়তো কয়েকদিন আমাদের সঙ্গে পাব। আমরা একসঙ্গে রাতের খাবারও খেলাম, গল্প করছিলাম।

তবে তাদের গল্পের স্থায়িত্ব বেশিক্ষণ ছিল না। মাঝরাতের দিকে ওই বাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আসতে শুরু করেন বলে জানান আরিফ।

তিনি বলেন, প্রথমে তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) ইন্টারকমে আমাদের সঙ্গে কথা যোগাযোগ করে বলেন, তাদের কাছে তথ্য আছে সাবেক স্পিকার আমার বাসায় আছেন এবং তারা তল্লাশি চালাবেন বলে জানান। আমি তাদের কাছে লুকাইনি। আমি শিরীনকেও বিষয়টি জানাই। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অনুমতি দেই।

পরে তারা অ্যাপার্টমেন্টে আসেন। তারা শিরীন শারমিনকে স্যার সম্বোধন করে জানায়, তাদের জানানো হয়েছে যে তিনি এখানে আছেন এবং তাকে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এরপর তিনি তাদের সঙ্গে যান।

মঙ্গলবার দুপুরে সাবেক এ নারী স্পিকারকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে দুদিনের রিমান্ড আবেদন করে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করে এবং দাবি করে- মামলায় অভিযোগ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুটি আবেদনই নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতে তোলার পুরো সময়েই তিনি বিষণ্ন ছিলেন। তাকে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। এরপর এজলাস থেকে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে পুলিশি নিরাপত্তায় দ্রুত কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই আত্মগোপনে চলে যান। সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের কেউ কেউ গ্রেফতার হন। তবে শিরীন শারমিন চৌধুরী আর প্রকাশ্যে আসেননি। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানেও তিনি যাননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিনই সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও স্পিকারের পদ তাৎক্ষণিভাবে শূন্য হয় না। পরবর্তী স্পিকারের শপথ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থেকে যান। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন।

২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসাবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন। তাকে দেওয়া হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সেই জায়গায় আসেন তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ। এরপর ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। তারপর থেকে তিন মেয়াদে তিনিই টানা স্পিকারের চেয়ারে ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

‘স্যার’ বলে ভাইয়ের বাসা থেকে নেওয়া হয় সাবেক স্পিকারকে

আপডেট টাইম : ২ ঘন্টা আগে

সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের চাচাতো ভাইয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ধানমন্ডির বাসাটি ছিল শিরীন শারমিনের চাচাতো ভাই আরিফ মাসুদ চৌধুরীর।

আরিফ মাসুদ জানান, তার সঙ্গে (শিরীন শারমিন) দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগ ছিল না। হঠাৎ সোমবার তিনি ফোন করে বলেন বাসায় আসবেন। তার পছন্দের খাবার রাখার কথাও বলেন। সোমবার সন্ধ্যায় শিরীন শারমিন ও তার স্বামী ছোট একটি লাগেজ নিয়ে বাসায় আসেন। লাগেজ দেখে আমি বেশ খুশি হয়েছিলাম এই ভেবে যে তাদের হয়তো কয়েকদিন আমাদের সঙ্গে পাব। আমরা একসঙ্গে রাতের খাবারও খেলাম, গল্প করছিলাম।

তবে তাদের গল্পের স্থায়িত্ব বেশিক্ষণ ছিল না। মাঝরাতের দিকে ওই বাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আসতে শুরু করেন বলে জানান আরিফ।

তিনি বলেন, প্রথমে তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) ইন্টারকমে আমাদের সঙ্গে কথা যোগাযোগ করে বলেন, তাদের কাছে তথ্য আছে সাবেক স্পিকার আমার বাসায় আছেন এবং তারা তল্লাশি চালাবেন বলে জানান। আমি তাদের কাছে লুকাইনি। আমি শিরীনকেও বিষয়টি জানাই। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অনুমতি দেই।

পরে তারা অ্যাপার্টমেন্টে আসেন। তারা শিরীন শারমিনকে স্যার সম্বোধন করে জানায়, তাদের জানানো হয়েছে যে তিনি এখানে আছেন এবং তাকে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এরপর তিনি তাদের সঙ্গে যান।

মঙ্গলবার দুপুরে সাবেক এ নারী স্পিকারকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে দুদিনের রিমান্ড আবেদন করে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করে এবং দাবি করে- মামলায় অভিযোগ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুটি আবেদনই নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতে তোলার পুরো সময়েই তিনি বিষণ্ন ছিলেন। তাকে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। এরপর এজলাস থেকে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে পুলিশি নিরাপত্তায় দ্রুত কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই আত্মগোপনে চলে যান। সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের কেউ কেউ গ্রেফতার হন। তবে শিরীন শারমিন চৌধুরী আর প্রকাশ্যে আসেননি। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানেও তিনি যাননি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিনই সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও স্পিকারের পদ তাৎক্ষণিভাবে শূন্য হয় না। পরবর্তী স্পিকারের শপথ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থেকে যান। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন।

২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসাবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন। তাকে দেওয়া হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সেই জায়গায় আসেন তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ। এরপর ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। তারপর থেকে তিন মেয়াদে তিনিই টানা স্পিকারের চেয়ারে ছিলেন।