ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

চাকরি না হিজাব এই নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন সিঙ্গাপুরের নারীরা

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ সিঙ্গাপুরে হিজাব পরা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এই নিয়ে আবারো তৈরি হচ্ছে বিব্রতকর পরিস্থিতি। দেশের একটি সরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন ফারাহ (ছদ্মনাম)৷ তরুণ বয়স থেকেই হিজাব পরেন তিনি৷ কিন্তু যে হাসপাতালে তিনি কাজ করেন, সেখানে হিাজাব পরা নিষেধ। আর তাই কাজ শুরুর আগে হিজাবটি খুলে ফেলেন ফারাহ৷শুধু ফরাহ সিঙ্গাপুরের অনেক নারী এ পরিস্থিতির স্বীকার।

ফারাহ( ছদ্মনাম) বলেন, ‘দুই বছর আগে যখন চাকরির পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম, তখন তারা আমাকে বলেছিল, হিজাব পরে এখানে কাজ করা যাবে না৷ আমি অসহায় হয়ে পড়ি৷’ তিনি বলেন, কাজ শুরুর আগে হিজাব খুলে ফেলার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হয় তাকে৷

সিঙ্গাপুরে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন আরো অনেকে৷ গত মাসে একটি খাবারের দোকানের মহিলাকর্মীকে হিজাব খুলে ফেলতে বলেছিল কর্তৃপক্ষ৷ দেশজুড়েই তখন বিতর্ক শুরু হয় বিষয়টি নিয়ে৷ দেশটির প্রেসিডেন্ট হালিমাহ ইয়াকুব বলেন, হিজাবের বিষয়ে কোন বৈষম্যমূলক আচরণের সুযোগ তিনি দেখেন না্। একই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীও৷ সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং বলেন, কর্মক্ষেত্রে এ ধরনের বৈষম্য বিরক্তিকর৷ এমন আচরণ মানুষের রুটিরুজির উপর প্রভাব ফেলে৷

চল্লিশ লাখ লোকের দেশ সিঙ্গাপুরে শতকরা ১৫ ভাগ মুসলিম৷তবুও পুলিশ বিভাগসহ দেশটির বেশ কিছু কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা আছে৷ এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে একটি আন্দোলনও শুরু হয়েছে সম্প্রতি৷ ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার লোক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন৷ ২০১৩ সালে দেশটির মুসলিম বিষয়ক মন্ত্রী ইয়াকুব ইব্রাহিম বলেন, কোনো কোনো কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরে কাজ করা নারীদের জন্য ‘সমস্যাজনক’ হতে পারে৷

কর্মক্ষেত্রে হিজাব নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নারী উন্নয়নে নেতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন দেশটিতে মুসলিম নারীদের উন্নয়নে কাজ করা কর্মীরা৷ তারা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার ফলে নারীরা কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে৷

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

চাকরি না হিজাব এই নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন সিঙ্গাপুরের নারীরা

আপডেট টাইম : ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ সিঙ্গাপুরে হিজাব পরা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এই নিয়ে আবারো তৈরি হচ্ছে বিব্রতকর পরিস্থিতি। দেশের একটি সরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন ফারাহ (ছদ্মনাম)৷ তরুণ বয়স থেকেই হিজাব পরেন তিনি৷ কিন্তু যে হাসপাতালে তিনি কাজ করেন, সেখানে হিাজাব পরা নিষেধ। আর তাই কাজ শুরুর আগে হিজাবটি খুলে ফেলেন ফারাহ৷শুধু ফরাহ সিঙ্গাপুরের অনেক নারী এ পরিস্থিতির স্বীকার।

ফারাহ( ছদ্মনাম) বলেন, ‘দুই বছর আগে যখন চাকরির পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম, তখন তারা আমাকে বলেছিল, হিজাব পরে এখানে কাজ করা যাবে না৷ আমি অসহায় হয়ে পড়ি৷’ তিনি বলেন, কাজ শুরুর আগে হিজাব খুলে ফেলার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হয় তাকে৷

সিঙ্গাপুরে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন আরো অনেকে৷ গত মাসে একটি খাবারের দোকানের মহিলাকর্মীকে হিজাব খুলে ফেলতে বলেছিল কর্তৃপক্ষ৷ দেশজুড়েই তখন বিতর্ক শুরু হয় বিষয়টি নিয়ে৷ দেশটির প্রেসিডেন্ট হালিমাহ ইয়াকুব বলেন, হিজাবের বিষয়ে কোন বৈষম্যমূলক আচরণের সুযোগ তিনি দেখেন না্। একই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীও৷ সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং বলেন, কর্মক্ষেত্রে এ ধরনের বৈষম্য বিরক্তিকর৷ এমন আচরণ মানুষের রুটিরুজির উপর প্রভাব ফেলে৷

চল্লিশ লাখ লোকের দেশ সিঙ্গাপুরে শতকরা ১৫ ভাগ মুসলিম৷তবুও পুলিশ বিভাগসহ দেশটির বেশ কিছু কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা আছে৷ এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে একটি আন্দোলনও শুরু হয়েছে সম্প্রতি৷ ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার লোক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন৷ ২০১৩ সালে দেশটির মুসলিম বিষয়ক মন্ত্রী ইয়াকুব ইব্রাহিম বলেন, কোনো কোনো কর্মক্ষেত্রে হিজাব পরে কাজ করা নারীদের জন্য ‘সমস্যাজনক’ হতে পারে৷

কর্মক্ষেত্রে হিজাব নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নারী উন্নয়নে নেতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন দেশটিতে মুসলিম নারীদের উন্নয়নে কাজ করা কর্মীরা৷ তারা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার ফলে নারীরা কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে৷