ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

যে গ্রামে সবাই অন্ধ

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ শিরোনাম পড়ে অনেকেই হয়তো অবাক হচ্ছেন? কী অদ্ভুত একটি গ্রাম। অনেক অদ্ভুত গ্রামের নাম ও কাহিনী তো শুনেছেন। কিন্তু জানেন কি, এ বিশ্বেরই এক প্রান্তে এমন একটি গ্রাম আছে, যেখানে সব মানুষ দৃষ্টিহীন বা অন্ধ! ওই গ্রামটির নাম হলো- টিলটেপেক। মেক্সিকোর ছোট্ট একটি গ্রাম। এই গ্রামটি ঘন অরণ্যের মধ্যে অবস্থিত। সেখানে জাপোটেক জাতির তিনশো মানুষ বসবাস করে। এ গ্রামের প্রতিটি মানুষ যেমন দৃষ্টিহীন, তেমনি গ্রামের পোষ্যরাও দৃষ্টিহীন! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।

গ্রামটিতে রয়েছে লাবজুয়েলা নামে একটি গাছ। এই গাছটিকে অভিশপ্ত মনে করে গ্রামবাসী। তাদের বিশ্বাস, দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয় ওই লাবজুয়েলা গাছটি।

শুধু তাই নয়, তারা এমনও দাবি করেছেন যে, এ গ্রামে যেসব বাচ্চা জন্মায়, প্রথম দিকে অন্য সব নবজাতকের মতোই সুস্থ-সবল হয়, কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে বাচ্চাগুলো।

ওই গ্রামের মানুষ কেন দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলছে, এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বিজ্ঞানীরা তদন্ত শুরু করেন। লাবজুয়েলা গাছ নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে গ্রামজুড়ে তা নিয়েও তদন্ত করেন তারা। কিন্তু দেখা যায়, লাবজুয়েলা গাছের সঙ্গে ওই গ্রামের মানুষদের দৃষ্টিহীনতার কোনো সম্পর্কই নেই!

তবে বিজ্ঞানীরা গ্রামের মানুষদের দৃষ্টিহীনতার প্রকৃত কারণ বের করতে আরো বিস্তর অনুসন্ধান চালান। অবশেষে বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারেন, এই ঘন অরণ্যে ‘ব্ল্যাক ফ্লাই’ নামে বিষাক্ত মাছি আছে, যা কি না মেক্সিকোর টিলটেপেক গ্রামেও প্রচুর সংখ্যায় দেখা যায়। এ বিষাক্ত মাছির কামড়ে জীবাণু সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, যার কারণেই নবজাতক, শিশু, কিশোর থেকে বয়স্ক মানুষ, এমনকি পশুও ধীরে ধীরে দৃষ্টিহীন হয়ে যান।

কিন্তু মেক্সিকো সরকার যখন এ গ্রাম সম্পর্কে জানতে পারে তখন ওই গ্রামের বাসিন্দাদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে জানা যায়। তারা অন্ধত্ব বরণ করলেও গ্রাম ছাড়তে রাজি হননি।

তবে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিতে মেক্সিকো সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

যে গ্রামে সবাই অন্ধ

আপডেট টাইম : ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২০

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ শিরোনাম পড়ে অনেকেই হয়তো অবাক হচ্ছেন? কী অদ্ভুত একটি গ্রাম। অনেক অদ্ভুত গ্রামের নাম ও কাহিনী তো শুনেছেন। কিন্তু জানেন কি, এ বিশ্বেরই এক প্রান্তে এমন একটি গ্রাম আছে, যেখানে সব মানুষ দৃষ্টিহীন বা অন্ধ! ওই গ্রামটির নাম হলো- টিলটেপেক। মেক্সিকোর ছোট্ট একটি গ্রাম। এই গ্রামটি ঘন অরণ্যের মধ্যে অবস্থিত। সেখানে জাপোটেক জাতির তিনশো মানুষ বসবাস করে। এ গ্রামের প্রতিটি মানুষ যেমন দৃষ্টিহীন, তেমনি গ্রামের পোষ্যরাও দৃষ্টিহীন! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।

গ্রামটিতে রয়েছে লাবজুয়েলা নামে একটি গাছ। এই গাছটিকে অভিশপ্ত মনে করে গ্রামবাসী। তাদের বিশ্বাস, দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয় ওই লাবজুয়েলা গাছটি।

শুধু তাই নয়, তারা এমনও দাবি করেছেন যে, এ গ্রামে যেসব বাচ্চা জন্মায়, প্রথম দিকে অন্য সব নবজাতকের মতোই সুস্থ-সবল হয়, কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে বাচ্চাগুলো।

ওই গ্রামের মানুষ কেন দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলছে, এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বিজ্ঞানীরা তদন্ত শুরু করেন। লাবজুয়েলা গাছ নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে গ্রামজুড়ে তা নিয়েও তদন্ত করেন তারা। কিন্তু দেখা যায়, লাবজুয়েলা গাছের সঙ্গে ওই গ্রামের মানুষদের দৃষ্টিহীনতার কোনো সম্পর্কই নেই!

তবে বিজ্ঞানীরা গ্রামের মানুষদের দৃষ্টিহীনতার প্রকৃত কারণ বের করতে আরো বিস্তর অনুসন্ধান চালান। অবশেষে বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারেন, এই ঘন অরণ্যে ‘ব্ল্যাক ফ্লাই’ নামে বিষাক্ত মাছি আছে, যা কি না মেক্সিকোর টিলটেপেক গ্রামেও প্রচুর সংখ্যায় দেখা যায়। এ বিষাক্ত মাছির কামড়ে জীবাণু সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, যার কারণেই নবজাতক, শিশু, কিশোর থেকে বয়স্ক মানুষ, এমনকি পশুও ধীরে ধীরে দৃষ্টিহীন হয়ে যান।

কিন্তু মেক্সিকো সরকার যখন এ গ্রাম সম্পর্কে জানতে পারে তখন ওই গ্রামের বাসিন্দাদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে জানা যায়। তারা অন্ধত্ব বরণ করলেও গ্রাম ছাড়তে রাজি হননি।

তবে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিতে মেক্সিকো সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।