ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম ৮ হাজার ব্যক্তির ফ্ল্যাট ক্রয়, আবেদন জমা ৪ হাজার

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ ৮ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় ফ্ল্যাট, বাড়ি কেনার জন্য দেশটির সেকেন্ড হোম প্রকল্পভুক্ত হয়েছেন। এ প্রকল্পে জমা পড়েছে আরও ৪ হাজার বাংলাদেশির আবেদন। সেকেন্ড হোম হিসেবে যেসব বিদেশি নাগরিক মালয়েশিয়াকে বেছে নিচ্ছেন তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান তৃতীয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেকেন্ড হোম কর্মসূচির আওতায় বিদেশিরা স্থাবর সুবিধা ও রাজস্ব হিসাবে দেশটির জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছেন। সেখানে টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন না করায় অনেক বাংলাদেশি এ সুযোগ নিচ্ছেন। জীবন ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা ছাড়াও মালয়েশিয়ার শিক্ষা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও তাদের সেকেন্ড হোম বানানোর অন্যতম কারণ। বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে মালয়েশিয়া ৮ বছর আগে এ প্রকল্প চালু করে।

বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, আমিরাত, কুয়েত, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মালয়েশিয়াকে তাদের সেকেন্ড হোম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আরও ৫০ হাজারের বেশি আবেদন প্রক্রিয়াধীন আছে। বাংলাদেশ থেকেও আরও ৪ হাজার আবেদনকারী রয়েছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে তারা সেকেন্ড হোম প্রকল্পভুক্ত হবেন। প্রকল্পভুক্ত ও আবেদনকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ব্যবসায়ী, আমদানি-রফতানিকারক ও শিল্পপতি। বাকিরা সাবেক আমলা, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবীর। তবে সেকেন্ড হোমের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা বাংলাদেশ থেকে কেউই বৈধ পথে নেননি। বিষয়টি জানে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও। তবু থামছে না এ অর্থ পাচার।

২০১৫ সালে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল নিয়ে একটি কমিটিও করা হয়েছিল। ওই কমিটিকে বলা হয়, আয়কর না দিয়ে অবৈধভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিদেশে পাচার বা সেকেন্ড হোম নির্মাণ করেছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত ও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে। ৩ সদস্যের বিশেষ টিম এ বিষয়ে অনুসন্ধানও চালিয়েছিল। এ ছাড়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মাধ্যমে ১০ বছর মেয়াদি মালয়েশিয়ান ভিসাকারীদের তালিকা তৈরির পরই কাজ শুরুর কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে কোনোটাই আলোর মুখ দেখেনি। জানা গেছে, ৫০ বা তার বেশি বয়সী বিদেশিকে মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য দেশটির ব্যাংকে দেড় কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট রাখতে হয়। আবেদনকারীর মাসিক আয় হতে হয় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। পঞ্চাশের নিচের বয়সীদের ফিক্সড ৩ কোটি টাকা ও মাসিক আয় দেখাতে হয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম ৮ হাজার ব্যক্তির ফ্ল্যাট ক্রয়, আবেদন জমা ৪ হাজার

আপডেট টাইম : ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২০

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ ৮ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় ফ্ল্যাট, বাড়ি কেনার জন্য দেশটির সেকেন্ড হোম প্রকল্পভুক্ত হয়েছেন। এ প্রকল্পে জমা পড়েছে আরও ৪ হাজার বাংলাদেশির আবেদন। সেকেন্ড হোম হিসেবে যেসব বিদেশি নাগরিক মালয়েশিয়াকে বেছে নিচ্ছেন তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান তৃতীয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেকেন্ড হোম কর্মসূচির আওতায় বিদেশিরা স্থাবর সুবিধা ও রাজস্ব হিসাবে দেশটির জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছেন। সেখানে টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন না করায় অনেক বাংলাদেশি এ সুযোগ নিচ্ছেন। জীবন ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা ছাড়াও মালয়েশিয়ার শিক্ষা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও তাদের সেকেন্ড হোম বানানোর অন্যতম কারণ। বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে মালয়েশিয়া ৮ বছর আগে এ প্রকল্প চালু করে।

বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, আমিরাত, কুয়েত, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মালয়েশিয়াকে তাদের সেকেন্ড হোম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আরও ৫০ হাজারের বেশি আবেদন প্রক্রিয়াধীন আছে। বাংলাদেশ থেকেও আরও ৪ হাজার আবেদনকারী রয়েছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে তারা সেকেন্ড হোম প্রকল্পভুক্ত হবেন। প্রকল্পভুক্ত ও আবেদনকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ব্যবসায়ী, আমদানি-রফতানিকারক ও শিল্পপতি। বাকিরা সাবেক আমলা, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবীর। তবে সেকেন্ড হোমের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা বাংলাদেশ থেকে কেউই বৈধ পথে নেননি। বিষয়টি জানে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও। তবু থামছে না এ অর্থ পাচার।

২০১৫ সালে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল নিয়ে একটি কমিটিও করা হয়েছিল। ওই কমিটিকে বলা হয়, আয়কর না দিয়ে অবৈধভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিদেশে পাচার বা সেকেন্ড হোম নির্মাণ করেছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত ও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে। ৩ সদস্যের বিশেষ টিম এ বিষয়ে অনুসন্ধানও চালিয়েছিল। এ ছাড়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মাধ্যমে ১০ বছর মেয়াদি মালয়েশিয়ান ভিসাকারীদের তালিকা তৈরির পরই কাজ শুরুর কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে কোনোটাই আলোর মুখ দেখেনি। জানা গেছে, ৫০ বা তার বেশি বয়সী বিদেশিকে মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে অবস্থানের জন্য দেশটির ব্যাংকে দেড় কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট রাখতে হয়। আবেদনকারীর মাসিক আয় হতে হয় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। পঞ্চাশের নিচের বয়সীদের ফিক্সড ৩ কোটি টাকা ও মাসিক আয় দেখাতে হয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।