ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

১৪ বছর ধরে পলাতক গোলাম ফারুক অভি

মডেল ও অভিনয়শিল্পী সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি (২৪) হত্যা মামলায় ১৪ বছর ধরে পলাতক বহুল আলোচিত জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি।

 

২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে খুন হন মডেল তিন্নি। এরপর থেকেই পলাতক হন অভি। পলাতক থেকেই বিদেশ পাড়ি জমান তিনি।

অভি কানাডায় অবস্থান করছেন বলে আদালতের নথিপত্রে উল্লেখ থাকলেও তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর নেই কোনো উদ্যোগ। আর পলাতক থাকা অবস্থায়ই হাইকোর্টে রিট আবেদনের মাধ্যমে মামলাটি স্থগিতের আদেশ পান অভি।

কিন্তু পরবর্তীতে মামলাটির স্থগিতাদেশ বাতিল হওয়া সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র না আসায় মামলাটির কার্যক্রম শুরু করতে পারছেন না বিচারিক আদালত। ফলে বছরের পর বছর ধরে ঝুলছে আলোচিত মডেল তিন্নি হত্যা মামলা।

বিষয়গুলো স্বীকার করে জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, মামলাটির কাগজপত্র আমরা বিশ্লেষণ করে দেখছি। এতোদিনে মামলাটির স্থগিতাদেশ বাতিল না হয়ে থাকলে তা বাতিলের উদ্যোগ নিতে সামনের সপ্তাহে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বরাবরে আবেদন করবো। আর বাতিল হয়ে থাকলে তার কপি বিচারিক আদালতে পাঠানোর অনুরোধ জানাবো।

কানাডা থেকে অভিকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি-না, তা জানতে চাইলে পিপি মান্নান বলেন, এটি কোর্টের মাধ্যমে হয় না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার এটি করতে পারে। এখানে কোর্টের কোনো হাত নেই।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পিপি রুহুল আমিন বাংলানিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন মামলাটির স্থগিতাদেশ বৃদ্ধির কোনো কাগজপত্র আদালতে আসেনি। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচারকও নেই। নতুন বিচারক এলে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করার আবেদন জানাবো। আর আদালত চাইলে এটি করতে পারেন।

২০১১ সালের ১০ এপ্রিল তিন্নির বাবা সৈয়দ মাহবুব করিম আদালতে আংশিক সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু এরপর ২৫ আগস্ট মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আদালতের একজন কর্মচারী বাংলানিউজকে জানান, বিদেশ থেকে এসে তিন্নির বাবা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু মাঝপথে মামলাটি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় তিনি আবার বিদেশে চলে গেছেন। ফলে মামলাটি পুনরায় বিচার শুরু হলেও তাকে সমন দিয়ে ডেকে এনে সাক্ষ্যগ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে মামলাটির বিচার মুখ থুবড়ে পড়বে।

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন আছে।

পেছন ফিরে দেখা
মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, স্বামী শাফকাত হোসেন পিয়ালের মাধ্যমেই তিন্নির সঙ্গে অভির পরিচয় হয়। এরপর তিন্নি ও অভির ঘনিষ্টতা বাড়ে। স্বামী পিয়াল বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারেননি। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অভির পৃষ্ঠপোষকতায় ২০০২ সালের ০৬ নভেম্বর পিয়ালকে ডিভোর্স দেন তিন্নি।

অভির ইচ্ছা ছিল, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিন্নিকে ভোগ করে যাওয়া। বিয়ে করে তিন্নিকে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার ইচ্ছা অভির কোনোদিনই ছিল না। বিষয়টি বুঝতে পেরেই তিন্নি তাকে বিয়ে করার জন্য অভিকে চাপ দেন। অভি বিয়ে করতে অস্বীকার করলে অভির সব গোপন খবর মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন তিন্নি।

এরপর ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাত্রে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ১১ নম্বর পিলালের পাশে তিন্নির মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় কেরাণীগঞ্জ থানার এএসআই  সফি উদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত শুরু করলেও পরে মামলা স্থানান্তরিত হয় সিআইডিতে।

এর ৬ বছর পর ২০০৮ সালের ৮ নভেম্বর একমাত্র আসামি গোলাম ফারুক অভিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় সিআইডি। মামলায় বিভিন্ন সময় তিন্নির স্বামী শাফকাত হোসেন পিয়ালসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় তাদেরকে মামলায় দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভি অভিযুক্ত হলেও তাকে আর ধরতে পারেনি পুলিশ।

অভির অনুপস্থিতিতেই ২০১০ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তিন্নি হত্যা ও মরদেহ গুম সংক্রান্ত মামলায় জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

তদন্তে ৭ পুলিশ কর্মকর্তা
তিন্নিকে না পেয়ে তার চাচা সৈয়দ রেজাউল করিম কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। তিন্নির সাবেক স্বামী পিয়াল এবং তার বাসার গৃহকর্মী বিনাকে ওই সময় গ্রেফতারও করে পুলিশ।

২০০২ সালের ১১ নভেম্বর অজ্ঞাত পরিচয় হিসাবে তিন্নির মরদেহ উদ্ধারের পর অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন কেরাণীগঞ্জ থানার এএসআই মো. সফি উদ্দিন।

এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা করা হয় ওই থানার এসআই মোঃ কাইয়ুমকে। মরদেহের ছবি পত্রিকায় ছাপা হলে নিহতের এক আত্মীয় সুজন মরদেহটি তিন্নির বলে শনাক্ত করেন।

চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে একই বছরের ২৪ নভেম্বর তদন্তভার ন্যস্ত হয় সিআইডিতে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডি’র পরিদর্শক ফজলুর রহমানকে।

এরপর ৬ বছরে একে একে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পরিদর্শক সুজাউল হক, এএসপি গোলাম মোস্তফা, এএসপি আরমান আলী, এএসপি কমল কৃষ্ণ ভরদ্বাজ এবং এএসপি মোজাম্মেল হক। সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে ৪১ জনকে সাক্ষী করা হয়, জব্দ করা হয় ২২টি আলামত।

লেখাপড়ায় অসম্ভব মেধাবী ছিলেন গোলাম ফারুক অভি। এসএসসি এবং এইচএসসিতে বোর্ড পর্যায়ে মেধার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। মেধাবী অভি অনেকটা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দিনে দিনে ধাবিত হন পতনের পথে। মূলত এরশাদের শাসনামলেই অভির উত্থান ঘটে।

নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী নিয়ে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি। পেশীশক্তির মাধ্যমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে করে তুলেছিলেন তার সন্ত্রাসের তল্লাট। এক সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের হাত ধরে বরিশাল-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

১৪ বছর ধরে পলাতক গোলাম ফারুক অভি

আপডেট টাইম : ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৬

মডেল ও অভিনয়শিল্পী সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি (২৪) হত্যা মামলায় ১৪ বছর ধরে পলাতক বহুল আলোচিত জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি।

 

২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাতে খুন হন মডেল তিন্নি। এরপর থেকেই পলাতক হন অভি। পলাতক থেকেই বিদেশ পাড়ি জমান তিনি।

অভি কানাডায় অবস্থান করছেন বলে আদালতের নথিপত্রে উল্লেখ থাকলেও তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর নেই কোনো উদ্যোগ। আর পলাতক থাকা অবস্থায়ই হাইকোর্টে রিট আবেদনের মাধ্যমে মামলাটি স্থগিতের আদেশ পান অভি।

কিন্তু পরবর্তীতে মামলাটির স্থগিতাদেশ বাতিল হওয়া সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র না আসায় মামলাটির কার্যক্রম শুরু করতে পারছেন না বিচারিক আদালত। ফলে বছরের পর বছর ধরে ঝুলছে আলোচিত মডেল তিন্নি হত্যা মামলা।

বিষয়গুলো স্বীকার করে জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, মামলাটির কাগজপত্র আমরা বিশ্লেষণ করে দেখছি। এতোদিনে মামলাটির স্থগিতাদেশ বাতিল না হয়ে থাকলে তা বাতিলের উদ্যোগ নিতে সামনের সপ্তাহে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বরাবরে আবেদন করবো। আর বাতিল হয়ে থাকলে তার কপি বিচারিক আদালতে পাঠানোর অনুরোধ জানাবো।

কানাডা থেকে অভিকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি-না, তা জানতে চাইলে পিপি মান্নান বলেন, এটি কোর্টের মাধ্যমে হয় না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার এটি করতে পারে। এখানে কোর্টের কোনো হাত নেই।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পিপি রুহুল আমিন বাংলানিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন মামলাটির স্থগিতাদেশ বৃদ্ধির কোনো কাগজপত্র আদালতে আসেনি। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচারকও নেই। নতুন বিচারক এলে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করার আবেদন জানাবো। আর আদালত চাইলে এটি করতে পারেন।

২০১১ সালের ১০ এপ্রিল তিন্নির বাবা সৈয়দ মাহবুব করিম আদালতে আংশিক সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু এরপর ২৫ আগস্ট মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আদালতের একজন কর্মচারী বাংলানিউজকে জানান, বিদেশ থেকে এসে তিন্নির বাবা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু মাঝপথে মামলাটি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় তিনি আবার বিদেশে চলে গেছেন। ফলে মামলাটি পুনরায় বিচার শুরু হলেও তাকে সমন দিয়ে ডেকে এনে সাক্ষ্যগ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে মামলাটির বিচার মুখ থুবড়ে পড়বে।

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন আছে।

পেছন ফিরে দেখা
মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, স্বামী শাফকাত হোসেন পিয়ালের মাধ্যমেই তিন্নির সঙ্গে অভির পরিচয় হয়। এরপর তিন্নি ও অভির ঘনিষ্টতা বাড়ে। স্বামী পিয়াল বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারেননি। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অভির পৃষ্ঠপোষকতায় ২০০২ সালের ০৬ নভেম্বর পিয়ালকে ডিভোর্স দেন তিন্নি।

অভির ইচ্ছা ছিল, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিন্নিকে ভোগ করে যাওয়া। বিয়ে করে তিন্নিকে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার ইচ্ছা অভির কোনোদিনই ছিল না। বিষয়টি বুঝতে পেরেই তিন্নি তাকে বিয়ে করার জন্য অভিকে চাপ দেন। অভি বিয়ে করতে অস্বীকার করলে অভির সব গোপন খবর মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন তিন্নি।

এরপর ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর রাত্রে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ১১ নম্বর পিলালের পাশে তিন্নির মরদেহ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় কেরাণীগঞ্জ থানার এএসআই  সফি উদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত শুরু করলেও পরে মামলা স্থানান্তরিত হয় সিআইডিতে।

এর ৬ বছর পর ২০০৮ সালের ৮ নভেম্বর একমাত্র আসামি গোলাম ফারুক অভিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় সিআইডি। মামলায় বিভিন্ন সময় তিন্নির স্বামী শাফকাত হোসেন পিয়ালসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় তাদেরকে মামলায় দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভি অভিযুক্ত হলেও তাকে আর ধরতে পারেনি পুলিশ।

অভির অনুপস্থিতিতেই ২০১০ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তিন্নি হত্যা ও মরদেহ গুম সংক্রান্ত মামলায় জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

তদন্তে ৭ পুলিশ কর্মকর্তা
তিন্নিকে না পেয়ে তার চাচা সৈয়দ রেজাউল করিম কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। তিন্নির সাবেক স্বামী পিয়াল এবং তার বাসার গৃহকর্মী বিনাকে ওই সময় গ্রেফতারও করে পুলিশ।

২০০২ সালের ১১ নভেম্বর অজ্ঞাত পরিচয় হিসাবে তিন্নির মরদেহ উদ্ধারের পর অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন কেরাণীগঞ্জ থানার এএসআই মো. সফি উদ্দিন।

এ মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা করা হয় ওই থানার এসআই মোঃ কাইয়ুমকে। মরদেহের ছবি পত্রিকায় ছাপা হলে নিহতের এক আত্মীয় সুজন মরদেহটি তিন্নির বলে শনাক্ত করেন।

চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে একই বছরের ২৪ নভেম্বর তদন্তভার ন্যস্ত হয় সিআইডিতে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডি’র পরিদর্শক ফজলুর রহমানকে।

এরপর ৬ বছরে একে একে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পরিদর্শক সুজাউল হক, এএসপি গোলাম মোস্তফা, এএসপি আরমান আলী, এএসপি কমল কৃষ্ণ ভরদ্বাজ এবং এএসপি মোজাম্মেল হক। সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে ৪১ জনকে সাক্ষী করা হয়, জব্দ করা হয় ২২টি আলামত।

লেখাপড়ায় অসম্ভব মেধাবী ছিলেন গোলাম ফারুক অভি। এসএসসি এবং এইচএসসিতে বোর্ড পর্যায়ে মেধার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। মেধাবী অভি অনেকটা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দিনে দিনে ধাবিত হন পতনের পথে। মূলত এরশাদের শাসনামলেই অভির উত্থান ঘটে।

নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী নিয়ে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তিনি। পেশীশক্তির মাধ্যমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে করে তুলেছিলেন তার সন্ত্রাসের তল্লাট। এক সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের হাত ধরে বরিশাল-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য।