ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রিতে করের ‘জটিল অঙ্ক’, পকেট ফুরোবে বিক্রেতার

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২০১৮ সালে ৭ লাখ টাকায় একটি জমি কেনেন মজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। সেই জমি এ বছর ৬০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। তবে জমির আনুষ্ঠানিক বা মৌজা মূল্য ধরা হয় ৪০ লাখ টাকা। নতুন আয়কর আইন অনুযায়ী এই ৪০ লাখ টাকার ওপর তাকে দুই ভাগে মোট ১১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা কর দিতে হচ্ছে। এটি একজন বিক্রেতার জন্য সরকারি তরফে বাড়তি চাপ বলে মনে করেন মজিবুর রহমান।

আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় জমি নিবন্ধনের জন্য পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ হারে (৮ শতাংশ) উৎসে কর দিতে হচ্ছে। মজিবুর রহমানের জমির উৎসে কর আসে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

জমি বিক্রি করে তিনি লাভ করেছেন ৩৩ লাখ টাকা, যেটি তার আয় হিসেবে দেখাতে হবে। এই আয়ের ওপর তাকে কর দিতে হবে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা। কারণ, নতুন আইন অনুযায়ী ২৫ লাখ টাকার বেশি আয়ের জন্য আয়কর ২৫ শতাংশ।

আগের আইন অনুযায়ী করদাতা মজিবুর রহমানকে উৎসে কর (৪ শতাংশ হিসাবে) ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিলেই হতো। জমি বিক্রি করে কত টাকা লাভ বা লোকসান হয়েছে সেই হিসাব করতে হতো না এবং ওই লাভ দেখিয়ে আয়করও দিতে হতো না।

অর্থাৎ নতুন আইনে তাকে বাধ্যতামূলক বেশি করের বোঝা টানতে হচ্ছে।

সমস্যা আরও আছে মজিবুর রহমানের! তার বিক্রি করা জমির দলিল মূল্যের বাইরে ২০ লাখ এবং জমি কেনা বাবদ ৭ লাখ টাকা অপ্রদর্শিত হয়ে আছে। অর্থাৎ বৈধ উৎসের অপ্রদর্শিত আয়! ওই টাকা আয় হিসাবে দেখাতে তাকে নানা কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে।

একই নিয়ম ফ্ল্যাট বিক্রিতেও

একই নিয়মের আওতায় আসবে ফ্ল্যাট বিক্রি ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অর্জিত আয়। স্বাভাবিকভাবে চলতি অর্থবছর থেকে বাড়তি করের ফাঁদে পড়তে হচ্ছে করদাতাদের। করদাতা মজিবুর রহমান যেটিকে বলছেন, ‘জটিল অঙ্কের বাড়তি করের ফাঁদ’।

আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় ‘উৎসে কর বিধিমালা’ অনুসারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ দেশের সকল এলাকার সম্পত্তি নিবন্ধন কর দ্বিগুণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের যে কোনো এলাকায় স্থাবর সম্পত্তি বা জমি ও ফ্ল্যাট হস্তান্তর হোক না কেন মালিকানা অর্জন করতে কর দ্বিগুণ গুনতে হবে।

ধরা যাক, মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি (কল্পিত চরিত্র) রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় ২০১০ সালে ২১ লাখ টাকায় একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। এখন সেই ফ্ল্যাট দালিলিকভাবে (মৌজা মূল্য) ৪৫ লাখ টাকায় বিক্রি করলেন। আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় ৮ শতাংশ উৎসে কর হিসেবে তাকে দিতে হবে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আবার লাভের ২৪ লাখ টাকার ওপর আয়কর (১৫ শতাংশ) দিতে হবে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। মোট ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা কর দিতে হবে মিজানুর রহমানকে। ফলাফল দাঁড়াল এই– মিজানুর ফ্ল্যাট বিক্রি করে ২৪ লাখ টাকা লাভ করলেও আদতে তিনি পাচ্ছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

পুরাতন আয়কর আইন অনুযায়ী করদাতা মিজানুর রহমানকে শুধু উৎসে কর (৪ শতাংশ) ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিলেই চলত। গেইন ট্যাক্স-এর চিন্তা করতে হতো না।

আবার যেহেতু ফ্ল্যাটটি ১০ বছর আগে ক্রয় করেছিলেন সে কারণে এটি ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্সের আওতায় এসেছে। যদি ৫ বছরের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর হতো তাহলে স্বাভাবিক নিয়মে আরও বেশি কর দিতে হতো।

হিসাব আসলেই জটিল, বলছেন আইনজীবী

নতুন আইনের আওতায় করের এমন জটিল হিসাব সম্পর্কে অনেকের স্পষ্ট ধারণা নেই বলে মনে করছেন কর কর্মকর্তা ও কর আইনজীবীরা।

সবচেয়ে বেশি জটিলতা দেখা দিচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি হস্তান্তরে। আয়কর আইনের ষষ্ঠ অধ্যায়ে মূলধনী আয়ের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না।

যেমনটা বলছেন আয়কর আইনজীবী ইমরান গাজী। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, সরকার উৎসে কর বৃদ্ধি করেছে কিংবা জমি বিক্রির মাধ্যমে আয়ের ওপর গেইন ট্যাক্স আরোপ করেছে, এটা নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। আমাদের উদ্বেগের জায়গাটা হলো, জমি বিক্রির লাভের হিসাব নিয়ে। ধরুন, আমার দাদা ব্রিটিশ আমলে ওই সময়ে এক হাজার টাকায় ক্রয় করেছেন। উত্তরাধিকার সূত্রে ওই জমির মালিক আমি। বর্তমানে যার দালিলিক মূল্য আছে ৫০ লাখ টাকা। নতুন আইন অনুযায়ী, ওই জমি বিক্রির পর উৎসে কর দেওয়ার পরও আমাকে জমি থেকে আয় হিসেবে ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকার ওপর গেইন ট্যাক্স দিতে হবে। কারণ আইনে শুধু বলা রয়েছে, বিক্রয় মূল্য থেকে ক্রয় মূল্য বাদ দেওয়ার পর যা থাকবে, সেটাই আমার আয়। এটা অযৌক্তিক বিষয়।

তিনি বলেন, আয়কর আইনের ষষ্ঠ অধ্যায়ে মূলধনী আয়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যাখ্যা আরও স্পষ্টীকরণ করা দরকার বলে মনে করি। এমনকি কর কর্মকর্তারাও বিব্রত। এনবিআর চাইলে ভিন্ন একটি এসআরও জারি করে এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারে। না হলে করদাতারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

আইনে কী বলা আছে?

আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় ‘উৎসে কর বিধিমালা’ অনুসারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ দেশের সকল এলাকার সম্পত্তি নিবন্ধন কর দ্বিগুণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের যে কোনো এলাকায় স্থাবর সম্পত্তি বা জমি ও ফ্ল্যাট হস্তান্তর হোক না কেন মালিকানা অর্জন করতে কর দ্বিগুণ গুনতে হবে। আর নিবন্ধন কর হিসেবে সবচেয়ে বেশি অর্থ গুনতে হবে রাজধানীর গুলশান, বনানী, মতিঝিল, দিলকুশা, নর্থ সাউথ রোড, মতিঝিল সম্প্রসারিত এলাকা ও মহাখালী এলাকার স্থাবর সম্পত্তির মালিকদের। কেননা এসব এলাকায় সম্পত্তি কিনলে ক্রেতাকে জমি, ফ্ল্যাট বা যে কোনো স্থাপনা নিবন্ধনের জন্য কাঠা প্রতি ৮ শতাংশ বা ২০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ সেটা গুনতে হবে। যা সম্পত্তি কর হিসেবে সর্বোচ্চ।

আয়কর বিধিমালার ‘সম্পত্তি হস্তান্তর হতে কর আদায় শীর্ষক’ ৬ নং ধারা অনুসারে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সম্পত্তি নিবন্ধন কর ৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৮ শতাংশ করা হয়েছে।

এছাড়া গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের বাইরের এলাকা ও জেলা সদরে অবস্থিত পৌরসভা এলাকায় ওই কর ৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৬ শতাংশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের যে কোনো পৌরসভার আওতাধীন সম্পত্তি কর ২ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ এবং বাকি এলাকাগুলোতে ১ শতাংশ থেকে কর বৃদ্ধি করে ২ শতাংশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৮ জুন জাতীয় সংসদে ‘আয়কর বিল-২০২৩’ পাস হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রিতে করের ‘জটিল অঙ্ক’, পকেট ফুরোবে বিক্রেতার

আপডেট টাইম : ০৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৩

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২০১৮ সালে ৭ লাখ টাকায় একটি জমি কেনেন মজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। সেই জমি এ বছর ৬০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। তবে জমির আনুষ্ঠানিক বা মৌজা মূল্য ধরা হয় ৪০ লাখ টাকা। নতুন আয়কর আইন অনুযায়ী এই ৪০ লাখ টাকার ওপর তাকে দুই ভাগে মোট ১১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা কর দিতে হচ্ছে। এটি একজন বিক্রেতার জন্য সরকারি তরফে বাড়তি চাপ বলে মনে করেন মজিবুর রহমান।

আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় জমি নিবন্ধনের জন্য পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ হারে (৮ শতাংশ) উৎসে কর দিতে হচ্ছে। মজিবুর রহমানের জমির উৎসে কর আসে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

জমি বিক্রি করে তিনি লাভ করেছেন ৩৩ লাখ টাকা, যেটি তার আয় হিসেবে দেখাতে হবে। এই আয়ের ওপর তাকে কর দিতে হবে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা। কারণ, নতুন আইন অনুযায়ী ২৫ লাখ টাকার বেশি আয়ের জন্য আয়কর ২৫ শতাংশ।

আগের আইন অনুযায়ী করদাতা মজিবুর রহমানকে উৎসে কর (৪ শতাংশ হিসাবে) ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিলেই হতো। জমি বিক্রি করে কত টাকা লাভ বা লোকসান হয়েছে সেই হিসাব করতে হতো না এবং ওই লাভ দেখিয়ে আয়করও দিতে হতো না।

অর্থাৎ নতুন আইনে তাকে বাধ্যতামূলক বেশি করের বোঝা টানতে হচ্ছে।

সমস্যা আরও আছে মজিবুর রহমানের! তার বিক্রি করা জমির দলিল মূল্যের বাইরে ২০ লাখ এবং জমি কেনা বাবদ ৭ লাখ টাকা অপ্রদর্শিত হয়ে আছে। অর্থাৎ বৈধ উৎসের অপ্রদর্শিত আয়! ওই টাকা আয় হিসাবে দেখাতে তাকে নানা কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে।

একই নিয়ম ফ্ল্যাট বিক্রিতেও

একই নিয়মের আওতায় আসবে ফ্ল্যাট বিক্রি ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অর্জিত আয়। স্বাভাবিকভাবে চলতি অর্থবছর থেকে বাড়তি করের ফাঁদে পড়তে হচ্ছে করদাতাদের। করদাতা মজিবুর রহমান যেটিকে বলছেন, ‘জটিল অঙ্কের বাড়তি করের ফাঁদ’।

আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় ‘উৎসে কর বিধিমালা’ অনুসারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ দেশের সকল এলাকার সম্পত্তি নিবন্ধন কর দ্বিগুণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের যে কোনো এলাকায় স্থাবর সম্পত্তি বা জমি ও ফ্ল্যাট হস্তান্তর হোক না কেন মালিকানা অর্জন করতে কর দ্বিগুণ গুনতে হবে।

ধরা যাক, মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি (কল্পিত চরিত্র) রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় ২০১০ সালে ২১ লাখ টাকায় একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। এখন সেই ফ্ল্যাট দালিলিকভাবে (মৌজা মূল্য) ৪৫ লাখ টাকায় বিক্রি করলেন। আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় ৮ শতাংশ উৎসে কর হিসেবে তাকে দিতে হবে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আবার লাভের ২৪ লাখ টাকার ওপর আয়কর (১৫ শতাংশ) দিতে হবে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। মোট ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা কর দিতে হবে মিজানুর রহমানকে। ফলাফল দাঁড়াল এই– মিজানুর ফ্ল্যাট বিক্রি করে ২৪ লাখ টাকা লাভ করলেও আদতে তিনি পাচ্ছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

পুরাতন আয়কর আইন অনুযায়ী করদাতা মিজানুর রহমানকে শুধু উৎসে কর (৪ শতাংশ) ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিলেই চলত। গেইন ট্যাক্স-এর চিন্তা করতে হতো না।

আবার যেহেতু ফ্ল্যাটটি ১০ বছর আগে ক্রয় করেছিলেন সে কারণে এটি ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্সের আওতায় এসেছে। যদি ৫ বছরের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর হতো তাহলে স্বাভাবিক নিয়মে আরও বেশি কর দিতে হতো।

হিসাব আসলেই জটিল, বলছেন আইনজীবী

নতুন আইনের আওতায় করের এমন জটিল হিসাব সম্পর্কে অনেকের স্পষ্ট ধারণা নেই বলে মনে করছেন কর কর্মকর্তা ও কর আইনজীবীরা।

সবচেয়ে বেশি জটিলতা দেখা দিচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি হস্তান্তরে। আয়কর আইনের ষষ্ঠ অধ্যায়ে মূলধনী আয়ের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না।

যেমনটা বলছেন আয়কর আইনজীবী ইমরান গাজী। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, সরকার উৎসে কর বৃদ্ধি করেছে কিংবা জমি বিক্রির মাধ্যমে আয়ের ওপর গেইন ট্যাক্স আরোপ করেছে, এটা নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। আমাদের উদ্বেগের জায়গাটা হলো, জমি বিক্রির লাভের হিসাব নিয়ে। ধরুন, আমার দাদা ব্রিটিশ আমলে ওই সময়ে এক হাজার টাকায় ক্রয় করেছেন। উত্তরাধিকার সূত্রে ওই জমির মালিক আমি। বর্তমানে যার দালিলিক মূল্য আছে ৫০ লাখ টাকা। নতুন আইন অনুযায়ী, ওই জমি বিক্রির পর উৎসে কর দেওয়ার পরও আমাকে জমি থেকে আয় হিসেবে ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকার ওপর গেইন ট্যাক্স দিতে হবে। কারণ আইনে শুধু বলা রয়েছে, বিক্রয় মূল্য থেকে ক্রয় মূল্য বাদ দেওয়ার পর যা থাকবে, সেটাই আমার আয়। এটা অযৌক্তিক বিষয়।

তিনি বলেন, আয়কর আইনের ষষ্ঠ অধ্যায়ে মূলধনী আয়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যাখ্যা আরও স্পষ্টীকরণ করা দরকার বলে মনে করি। এমনকি কর কর্মকর্তারাও বিব্রত। এনবিআর চাইলে ভিন্ন একটি এসআরও জারি করে এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দিতে পারে। না হলে করদাতারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

আইনে কী বলা আছে?

আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় ‘উৎসে কর বিধিমালা’ অনুসারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ দেশের সকল এলাকার সম্পত্তি নিবন্ধন কর দ্বিগুণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের যে কোনো এলাকায় স্থাবর সম্পত্তি বা জমি ও ফ্ল্যাট হস্তান্তর হোক না কেন মালিকানা অর্জন করতে কর দ্বিগুণ গুনতে হবে। আর নিবন্ধন কর হিসেবে সবচেয়ে বেশি অর্থ গুনতে হবে রাজধানীর গুলশান, বনানী, মতিঝিল, দিলকুশা, নর্থ সাউথ রোড, মতিঝিল সম্প্রসারিত এলাকা ও মহাখালী এলাকার স্থাবর সম্পত্তির মালিকদের। কেননা এসব এলাকায় সম্পত্তি কিনলে ক্রেতাকে জমি, ফ্ল্যাট বা যে কোনো স্থাপনা নিবন্ধনের জন্য কাঠা প্রতি ৮ শতাংশ বা ২০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ সেটা গুনতে হবে। যা সম্পত্তি কর হিসেবে সর্বোচ্চ।

আয়কর বিধিমালার ‘সম্পত্তি হস্তান্তর হতে কর আদায় শীর্ষক’ ৬ নং ধারা অনুসারে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সম্পত্তি নিবন্ধন কর ৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৮ শতাংশ করা হয়েছে।

এছাড়া গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের বাইরের এলাকা ও জেলা সদরে অবস্থিত পৌরসভা এলাকায় ওই কর ৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৬ শতাংশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের যে কোনো পৌরসভার আওতাধীন সম্পত্তি কর ২ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ এবং বাকি এলাকাগুলোতে ১ শতাংশ থেকে কর বৃদ্ধি করে ২ শতাংশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৮ জুন জাতীয় সংসদে ‘আয়কর বিল-২০২৩’ পাস হয়।