ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

পশ্চিমাদের হাতে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার বিকল্প নেই

এটা এখন স্পষ্ট, পাল্টা আক্রমণ থেকে ইউক্রেনের বড় কিছু অর্জনের কোনো সম্ভাবনা নেই। ইউক্রেন ব্যর্থ হয়নি বটে, কিন্তু বিজয়ের যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। এখানে বিস্ময়ের কিছু নেই। যুদ্ধটি শুরু থেকেই এই কৌশলে এগোচ্ছে– কিছুটা জায়গা দখল করো এবং সেটা ধরে রাখো। পরবর্তী সময়ের ‘ব্লিৎজক্রিয়েগ’ বা আকস্মিক আক্রমণ কৌশলের চেয়েও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পশ্চিমা ফ্রন্ট যে কৌশল নিয়েছিল তার মতো। পশ্চিমা কর্মকর্তারা এখন স্পষ্টভাবেই বলছেন, রাশিয়ানরা যেখানে ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে, সেখানে শিগগিরই উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ইউক্রেনীয়রা পূর্ব দিকেও হুমকির সম্মুখীন হবে, যেহেতু রাশিয়ানরা এখন কুপিয়ানস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পরিস্থিতি আসলেই বেশ ‘জটিল’।

ফলে ইউক্রেন ও তার মিত্রদের মধ্যে যাকে বলা যায় এক প্রকার দোষারোপের খেলা চলছে। ইউক্রেনীয়রা বলছে এবং তা সঠিকভাবেই– পশ্চিমাদের অস্ত্র (মার্কিন অস্ত্র) যুদ্ধে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। মার্কিন অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া যান এবং কামান। তবে এগুলো এখনও মার্কিন অস্ত্রাগারেই ঘুমাচ্ছে; পূর্ব দিকে যাত্রা করার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। অন্যদিকে, ইউক্রেনের বন্ধুরা বলে, ইউক্রেনীয়রা কেবল যদি ‘সম্মিলিত অস্ত্র’ ব্যবহারের কৌশল প্রয়োগ করত, যার ওপর তাদের সংক্ষিপ্তভাবে হলেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বাহিনীকে ভিন্নভাবে মোতায়েন করত, তাহলে তারা যুদ্ধে আরও ভালো করতে পারত। সম্মিলিত অস্ত্র ব্যবহার বলতে বিশেষভাবে যা বোঝানো হচ্ছে, তা হলো যুদ্ধবিমান। কিন্তু এ ক্ষেত্রেই ইউক্রেনের ঘাটতি।

এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ইউক্রেনকে দেওয়া হচ্ছে বলে যে ঘোষণা আমরা বারবার শুনছি তার উদ্দেশ্য সম্ভবত এ বাস্তবতা আড়াল করা যে, এগুলো আগামী বছর শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কার্যকরভাবে ইউক্রেনে নিয়োজিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ব্রিটিশ এবং মার্কিন জেনারেল ও অ্যাডমিরালরা ‘স্টার্ভ, স্ট্রেচ অ্যান্ড স্ট্রাইক’ তথা প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় অনাহারে রেখে আঘাত করার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রায় একই প্রকার স্লোগান আমরা আফগানিস্তানেও শুনেছিলাম। তবে ইউক্রেনীয় জেনারেলরা, যারা আদৌ আমেরিকান কিংবা ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীতে তাদের সমকক্ষদের মতো নন এবং মূলত প্রথাগত যুদ্ধে বেশ সফলভাবে লড়াই করতে অভ্যস্ত, সম্ভবত নিজের মতো করে চলার বিষয়ে বেশ প্রজ্ঞা রাখেন।

সময় কিন্তু চাপ তৈরি করতে শুরু করেছে। ইউক্রেনকে ‘যতক্ষণ লাগে’ সমর্থন করার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়মিত প্রতিশ্রুতি শুনতে বেশ ভালই লাগে। তবে ‘যতক্ষণ লাগে’ বলতে আসলে কী বোঝায়, সে সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা নেই। ইউক্রেনীয়দের হয়তো এটা বিশ্বাস করার জন্য ক্ষমা করা যেতে পারে যে, এর অর্থ হলো, ‘যতক্ষণ আমরা আমাদের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন না করি।’ ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কির ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনাতে কিন্তু তেমনটাই বলা আছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, ইউক্রেন তার যে বৈধ ভূমি হারিয়েছে, ক্রিমিয়াসহ সেসব ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার। রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিমিয়া উদ্ধারে ইউক্রেনকে সাহায্য করার সম্ভাবনা ক্ষীন। এর অর্থ, বাইডেনের যুদ্ধ সহযোগিতা ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য অর্জনের জন্য নয়।

এখন যদি আমরা যুক্তিসংগতভাবে অনুমান করি, যুদ্ধ ২০২৪ সালের পরও চলতে পারে, সে ক্ষেত্রে আরও দুটি ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয় পশ্চিমা বিশেষত ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে। একটি অনিবার্য; অন্যটিও ঘটার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমটি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনের সময় বিদায়ী বাইডেন প্রশাসন সমর্থনের হার এবং মার্কিন জনসংখ্যার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংশয়বাদীদের মনোভাব বুঝতে চেষ্টা করবে। কারণ নতুন কেউ প্রেসিডেন্ট হলে মার্কিন কৌশলগত পরিকল্পনা সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে পারে।

দ্বিতীয় বিষয়, ইউক্রেনের সঙ্গে তাইওয়ান এবং বৃহত্তর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরেরও প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মার্ক মিলি ২০১৯ সালে ঘোষণা করেন, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেই আমেরিকার সামরিক বাহিনী তার মনোযোগ নিবদ্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলে আসছেন, ২০২৭ সালের আগে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের হুমকির বিষয়টি প্রকাশ পেতে পারে। যেন দক্ষিণ চীন সাগরেও গুরুতর সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে, সেটি তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। তখনও যদি ইউরোপে যুদ্ধ থাকে, তবে তাকে দেখা হবে নিছক সাইড শো হিসেবে। তখন যুদ্ধের পরিচালনা মূলত ইউরোপের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে, যা ইউক্রেনের পরাজয় নিশ্চিত করবে।

যে কোনো সময়ের তুলনায় এই মুহূর্তে পশ্চিমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘিরে ঐক্যবদ্ধ থাকা, যা হবে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য এবং যার একটা সমাপ্তি আছে। ইউক্রেনের বেলায়ও একই রকম পরিকল্পনা থাকা উচিত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গের ব্যক্তিগত অফিসের পরিচালক স্টিয়ান জেনসেন বলেছেন, পশ্চিমা কূটনীতিকরা ন্যাটোর সদস্যপদ লাভের বিনিময়ে ইউক্রেনের জমি ছাড়ের ভাবনা ভাবতে শুরু করেছে। এর অর্থ হলো, ক্রিমিয়া ও দনবাস বিষয়ে চুক্তির বিষয়টি তারা গ্রহণ করছে। এই কথা বলার পর অবশ্য ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। যদিও এই পরিকল্পনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। ইউক্রেন স্বাভাবিকভাবেই এতে ক্ষিপ্ত হয়। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই যুক্তিই দিচ্ছে এবং তা আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করছে। মজার বিষয় হলো, রাশিয়া এ ধারণাটিকে উপহাস করেছে। কারণ ইউক্রেনকে ন্যাটোর বাইরে রাখাই এ যুদ্ধে রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্য।

যুদ্ধ আগামী বছর এমনকি এর পরও গড়াতে পারে। এ অবস্থার মধ্যে ইউক্রেনের বন্ধু এবং সমর্থক হিসেবে আমরা শুধু কোথায় আছি তা নয়, বরং দুই, তিন বা ১০ বছরের মধ্যে আমরা কোথায় থাকব, সেদিকে আমাদের ঠান্ডা মাথায় তাকাতে হবে। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে; যেমনটি আনাতোল লিয়েভেন সম্প্রতি গার্ডিয়ানের কলামে উল্লেখ করেছেন– আমাদের শত্রুরও কিন্তু একটা ভোট আছে।

ফ্রাঙ্ক লেডউইজ: সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, যিনি বলকান, ইরাক ও আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেছেন; গার্ডিয়ান থেকে ঈষৎ সংক্ষেপতি।
ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক।
সৌজন্যে : দৈনিক সমকাল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

পশ্চিমাদের হাতে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার বিকল্প নেই

আপডেট টাইম : ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

এটা এখন স্পষ্ট, পাল্টা আক্রমণ থেকে ইউক্রেনের বড় কিছু অর্জনের কোনো সম্ভাবনা নেই। ইউক্রেন ব্যর্থ হয়নি বটে, কিন্তু বিজয়ের যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। এখানে বিস্ময়ের কিছু নেই। যুদ্ধটি শুরু থেকেই এই কৌশলে এগোচ্ছে– কিছুটা জায়গা দখল করো এবং সেটা ধরে রাখো। পরবর্তী সময়ের ‘ব্লিৎজক্রিয়েগ’ বা আকস্মিক আক্রমণ কৌশলের চেয়েও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পশ্চিমা ফ্রন্ট যে কৌশল নিয়েছিল তার মতো। পশ্চিমা কর্মকর্তারা এখন স্পষ্টভাবেই বলছেন, রাশিয়ানরা যেখানে ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে, সেখানে শিগগিরই উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ইউক্রেনীয়রা পূর্ব দিকেও হুমকির সম্মুখীন হবে, যেহেতু রাশিয়ানরা এখন কুপিয়ানস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পরিস্থিতি আসলেই বেশ ‘জটিল’।

ফলে ইউক্রেন ও তার মিত্রদের মধ্যে যাকে বলা যায় এক প্রকার দোষারোপের খেলা চলছে। ইউক্রেনীয়রা বলছে এবং তা সঠিকভাবেই– পশ্চিমাদের অস্ত্র (মার্কিন অস্ত্র) যুদ্ধে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। মার্কিন অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া যান এবং কামান। তবে এগুলো এখনও মার্কিন অস্ত্রাগারেই ঘুমাচ্ছে; পূর্ব দিকে যাত্রা করার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। অন্যদিকে, ইউক্রেনের বন্ধুরা বলে, ইউক্রেনীয়রা কেবল যদি ‘সম্মিলিত অস্ত্র’ ব্যবহারের কৌশল প্রয়োগ করত, যার ওপর তাদের সংক্ষিপ্তভাবে হলেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বাহিনীকে ভিন্নভাবে মোতায়েন করত, তাহলে তারা যুদ্ধে আরও ভালো করতে পারত। সম্মিলিত অস্ত্র ব্যবহার বলতে বিশেষভাবে যা বোঝানো হচ্ছে, তা হলো যুদ্ধবিমান। কিন্তু এ ক্ষেত্রেই ইউক্রেনের ঘাটতি।

এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ইউক্রেনকে দেওয়া হচ্ছে বলে যে ঘোষণা আমরা বারবার শুনছি তার উদ্দেশ্য সম্ভবত এ বাস্তবতা আড়াল করা যে, এগুলো আগামী বছর শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কার্যকরভাবে ইউক্রেনে নিয়োজিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ব্রিটিশ এবং মার্কিন জেনারেল ও অ্যাডমিরালরা ‘স্টার্ভ, স্ট্রেচ অ্যান্ড স্ট্রাইক’ তথা প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় অনাহারে রেখে আঘাত করার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রায় একই প্রকার স্লোগান আমরা আফগানিস্তানেও শুনেছিলাম। তবে ইউক্রেনীয় জেনারেলরা, যারা আদৌ আমেরিকান কিংবা ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীতে তাদের সমকক্ষদের মতো নন এবং মূলত প্রথাগত যুদ্ধে বেশ সফলভাবে লড়াই করতে অভ্যস্ত, সম্ভবত নিজের মতো করে চলার বিষয়ে বেশ প্রজ্ঞা রাখেন।

সময় কিন্তু চাপ তৈরি করতে শুরু করেছে। ইউক্রেনকে ‘যতক্ষণ লাগে’ সমর্থন করার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়মিত প্রতিশ্রুতি শুনতে বেশ ভালই লাগে। তবে ‘যতক্ষণ লাগে’ বলতে আসলে কী বোঝায়, সে সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা নেই। ইউক্রেনীয়দের হয়তো এটা বিশ্বাস করার জন্য ক্ষমা করা যেতে পারে যে, এর অর্থ হলো, ‘যতক্ষণ আমরা আমাদের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন না করি।’ ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কির ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনাতে কিন্তু তেমনটাই বলা আছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, ইউক্রেন তার যে বৈধ ভূমি হারিয়েছে, ক্রিমিয়াসহ সেসব ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার। রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিমিয়া উদ্ধারে ইউক্রেনকে সাহায্য করার সম্ভাবনা ক্ষীন। এর অর্থ, বাইডেনের যুদ্ধ সহযোগিতা ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য অর্জনের জন্য নয়।

এখন যদি আমরা যুক্তিসংগতভাবে অনুমান করি, যুদ্ধ ২০২৪ সালের পরও চলতে পারে, সে ক্ষেত্রে আরও দুটি ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয় পশ্চিমা বিশেষত ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে। একটি অনিবার্য; অন্যটিও ঘটার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমটি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনের সময় বিদায়ী বাইডেন প্রশাসন সমর্থনের হার এবং মার্কিন জনসংখ্যার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংশয়বাদীদের মনোভাব বুঝতে চেষ্টা করবে। কারণ নতুন কেউ প্রেসিডেন্ট হলে মার্কিন কৌশলগত পরিকল্পনা সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে পারে।

দ্বিতীয় বিষয়, ইউক্রেনের সঙ্গে তাইওয়ান এবং বৃহত্তর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরেরও প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মার্ক মিলি ২০১৯ সালে ঘোষণা করেন, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেই আমেরিকার সামরিক বাহিনী তার মনোযোগ নিবদ্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলে আসছেন, ২০২৭ সালের আগে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের হুমকির বিষয়টি প্রকাশ পেতে পারে। যেন দক্ষিণ চীন সাগরেও গুরুতর সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে, সেটি তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। তখনও যদি ইউরোপে যুদ্ধ থাকে, তবে তাকে দেখা হবে নিছক সাইড শো হিসেবে। তখন যুদ্ধের পরিচালনা মূলত ইউরোপের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে, যা ইউক্রেনের পরাজয় নিশ্চিত করবে।

যে কোনো সময়ের তুলনায় এই মুহূর্তে পশ্চিমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ঘিরে ঐক্যবদ্ধ থাকা, যা হবে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য এবং যার একটা সমাপ্তি আছে। ইউক্রেনের বেলায়ও একই রকম পরিকল্পনা থাকা উচিত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গের ব্যক্তিগত অফিসের পরিচালক স্টিয়ান জেনসেন বলেছেন, পশ্চিমা কূটনীতিকরা ন্যাটোর সদস্যপদ লাভের বিনিময়ে ইউক্রেনের জমি ছাড়ের ভাবনা ভাবতে শুরু করেছে। এর অর্থ হলো, ক্রিমিয়া ও দনবাস বিষয়ে চুক্তির বিষয়টি তারা গ্রহণ করছে। এই কথা বলার পর অবশ্য ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। যদিও এই পরিকল্পনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। ইউক্রেন স্বাভাবিকভাবেই এতে ক্ষিপ্ত হয়। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই যুক্তিই দিচ্ছে এবং তা আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করছে। মজার বিষয় হলো, রাশিয়া এ ধারণাটিকে উপহাস করেছে। কারণ ইউক্রেনকে ন্যাটোর বাইরে রাখাই এ যুদ্ধে রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্য।

যুদ্ধ আগামী বছর এমনকি এর পরও গড়াতে পারে। এ অবস্থার মধ্যে ইউক্রেনের বন্ধু এবং সমর্থক হিসেবে আমরা শুধু কোথায় আছি তা নয়, বরং দুই, তিন বা ১০ বছরের মধ্যে আমরা কোথায় থাকব, সেদিকে আমাদের ঠান্ডা মাথায় তাকাতে হবে। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে; যেমনটি আনাতোল লিয়েভেন সম্প্রতি গার্ডিয়ানের কলামে উল্লেখ করেছেন– আমাদের শত্রুরও কিন্তু একটা ভোট আছে।

ফ্রাঙ্ক লেডউইজ: সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, যিনি বলকান, ইরাক ও আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেছেন; গার্ডিয়ান থেকে ঈষৎ সংক্ষেপতি।
ভাষান্তর মাহফুজুর রহমান মানিক।
সৌজন্যে : দৈনিক সমকাল।