ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

কোথায় চলেছি আমরা

পেনশন বৈষম্য নিয়ে আমার একটি লেখা প্রসঙ্গে একজন ছাত্র আমাকে যা লিখেছিল, তার সারমর্ম হচ্ছে-দেশে একটা সমস্যা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আরেকটা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে/করা হচ্ছে, একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে, নাটক বা সিনেমার দৃশ্যের মতো একের পর এক আমাদের সামনে আসছে, আমরা সবই দেখছি, বুঝছি! কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। অসহায়ের মতো আফসোস করছি। ফোঁড়াটা যার, সে-ই ব্যথা অনুভব করছে। এত অসুখের মাঝেও সুখী থাকার চেষ্টা করছি। কিন্তু এভাবে কি সুখী হওয়া যায়?

আমার মনে হয়, ছাত্রের এ মন্তব্য শুধু তার মনের কথাই নয়। কোটি কোটি অসহায় মানুষের কথা। কী দেখছি আমরা, একের পর এক ঘটনা! বেনজীরের সম্পদের পাহাড়, সংসদ-সদস্য খুন, মতিউরের ছাগল-কাণ্ড, ব্যাংক খালি, রিজার্ভ চুরি, রপ্তানির হিসাবে গরমিল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, কোটা আন্দোলন, শিক্ষকদের ধর্মঘট ইত্যাদি ঘটেই চলছে। অতীতেও এরকম ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কোনো কিছুরই সুরাহা হয়নি।

ইতোমধ্যে আমরা ভুলে গেছি বেনজীর বা মতিউরের কথা। এখন মেতে উঠেছি আবেদ আলীকে নিয়ে। একদিন আবেদ আলী চলে যাবে। আমরা অন্য এক আলী বা সাহেবের কুকীর্তি নিয়ে কথা বলব। এভাবেই কি দেশ চলবে?

স্বাধীনতার এত বছর পর কী দেখছি আমরা? জাতি হিসাবে আমরা কতটা বিশৃঙ্খল ও লোভী? আমাদের চুরিবিদ্যা ও সম্পদলিপ্সা কতটা প্রবল? আমাদের অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা কতটা ব্যাপক? আমাদের নিুবিত্তরা কতটা অসহায়? হ্যাঁ, আমরা অনেক কিছুই দেখছি। আফসোস করা ছাড়া জনগণের কি কিছু করার আছে? না, নেই! অন্যায় ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করার দায়িত্ব হলো সরকারের। দেশে সরকার আছে, আছেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপিসহ অনেক প্রতিনিধি। জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা করার জন্য আছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গসংস্থা। সবাই আছে, কিন্তু তারপরও সবার চোখের সামনেই চলছে নির্বিচারে দুর্নীতি ও চুরি।

বলুন তো কী করে বেনজীরের এতবড় একটি রিসোর্ট কেউই এতদিন দেখতে পেল না? এটি কি ঝোপঝাড়ের আড়ালে পড়ে থাকা পিঁপড়া বা উইপোকার ছোট্ট ঢিবি? নাকি জিন-ভূতে তৈরি কোনো ইমারত। এটি হাজার বিঘা জমির জমিদারি! কিন্তু কেউ এতদিন কিছুই দেখল না বা বলল না! হয়তো কেউ আজও বলত না, যদি তার ক্ষমতা এখনো থাকত।

আজিজ বা বেনজীরের কথা বাদ দিলাম। তারা অনেক উঁচু মাপের লোক। কিন্তু আবেদ আলী, যিনি একজন ড্রাইভার মাত্র। কী করে তিনি পিএসসির মতো একটি সংস্থার প্রশ্নপত্র দিনের পর দিন ফাঁস করে আসছিল। আবেদ আলী কার ড্রাইভার ছিল, সেটিই এখন গবেষণার প্রধান বিষয়। কথা হচ্ছে, আবেদ আলী কি প্রশ্ন করেছিল, তার কাছে কি প্রশ্ন ছিল, তার কি চাকরি ছিল, তিনি কি পিএসসির সদস্য ছিলেন?

না, আবেদ আলী অনেক আগেই চাকরিচ্যুত হয়েছেন। তিনি পিএসসির সদস্য ছিলেন না এবং প্রশ্নসংক্রান্ত কোনো কাজেই জড়িত ছিলেন না। তাহলে, চাকরিচ্যুত একজন ড্রাইভারের কাছে কীভাবে সুর সুর করে প্রশ্নপত্র চলে আসত? কেন পিএসসি এতদিন জেনেও না জানার ভান করেছিল? আবেদ আলীও কি বেনজীরের মতো ক্ষমতাধর ছিল? নাকি তার পেছনে ক্ষমতাধররা ছিল?

ধরে নিলাম আবেদ আলীরা নীরবে-নিভৃতে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে। পিএসসির হর্তাকর্তারা পদ ও মানসম্মান হারানোর ভয়ে প্রকাশ্যে কিছুই বলেনি। কিন্তু যারা প্রকাশ্যে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা খালি করে দিল, তাদেরও কেন কিছুই হচ্ছে না। বরং তাদের ঋণের সুদ মাফ হচ্ছে! সামান্য টাকায় তাদের হাজার হাজার কোটি ঋণ পুনঃতফসিল হচ্ছে!? কেউ কি আছে এসব দেখার? হ্যাঁ, দেখার জন্য অনেকেই আছে।

তবে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। কীভাবেই বা পাবে? জনাব, আপনারা হয়তো ভুলে গেছেন রণ হক শিকদারের থাইল্যান্ডে পালানোর কথা! কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তারা কিছুই ভোলেনি! তাই তারা এসব রাঘববোয়ালদের ক্রমাগত ঋণ এবং ছাড় দিয়ে যাচ্ছে। কোনো উচ্চবাচ্য করছে না।

এক সময় রিজার্ভ নিয়ে আমরা খুবই গর্ব করতাম। সেই রিজার্ভ থেকে ডলার চুরি হলো। শুনছি বিদেশির বিচার হয়েছে। কিন্তু দেশের যারা জড়িত বা যাদের অবহেলায় চুরি হয়েছে তাদের বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি। সেই চুরি থেকে শুরু! অতঃপর চলছে রিজার্ভ ধস নামার এবং ডলার পাচারের পালা। কত চেষ্টায়ই না সরকার করছে! কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। হবেই বা কেমন করে? দেশে ১০ ইঞ্চি পাইপ দিয়ে ডলার রিজার্ভে জমা হচ্ছে এবং ১২ ইঞ্চি পাইপ দিয়ে সেই ডলার রিজার্ভ থেকে খরচ এবং পাচার হচ্ছে। জমা-খরচের হিসাব এরূপ হলে রিজার্ভের চৌবাচ্চা কি কোনো দিন ভরতে পারে?

দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে ঘুস ও দুর্নীতি! কোথায় নেই ঘুস-দুর্নীতি? কিছু মন্ত্রণালয় বা চাকরির কথা বলে অন্যদের ছোট করার ইচ্ছা আমার নেই। কিছু ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা বা কর্মচারী ছাড়া প্রায় সবাই ঘুস-দুর্নীতিতে আসক্ত। অনেকেই সম্পদের ঢিবি, টিলা, পাহাড়, পর্বত তৈরি করছে। কেউ কেউ আবার সম্পদের পাহাড় বিদেশে স্থানান্তর করেছে।

আমরা কালেভদ্রে দু’একটি খবর জেনেছি। কিন্তু আপনার আশপাশেই আছে জনাবরা এবং জনাবদের চকচকে গাড়ি-বাড়ি। এ জনাবরাই এখন সমাজের মধ্যমণি। এ জনাবরা আমাদেরই কারও না কারও বাবা-মা, ভাই-বোন বা আত্মীয়-স্বজন। এদের কারণেই দেশ ক্ষতবিক্ষত।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। আমরা জানি ফিনল্যান্ডের কারিকুলাম পড়ানোর মতো শিক্ষাব্যবস্থা, ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবক আমাদের নেই। তারপরও আমরা তাই চাপিয়ে দিয়েছি। আমরা যারা সেই পুরোনো আমলের পাঠ্যসূচি অনুযায়ী পড়াশোনা করেছি, তারা কি পচে গেছি জনাব? ধরে নিলাম, পাঠ্যসূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে।

কিন্তু এ অঞ্চলের এতগুলো দেশ, যেমন সিঙ্গাপুর, জাপান, চীন, হংকং ইত্যাদি দেশের পাঠ্যসূচি থাকতে, সাত-সমুদ্র তের-নদী পাড়ি জমানোর কি প্রয়োজন ছিল? কিছু না পারলে বন্ধুদেশ ভারতের পাঠ্যসূচি অনুকরণ করলেও হতো!

দেশে শিক্ষার অবস্থা উদ্বেগজনক। পরীক্ষা নেই, শাসন নেই, সঠিক পাঠ্যপুস্তক নেই। আছে শুধু এ-প্লাস এবং এ সার্টিফিকেটের ছড়াছড়ি। সোনার মতো ছেলেমেয়েরা বিনাশাসনে, বিনানিয়ন্ত্রণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী মহাশয় বলছেন, ৫০ লাখ মানুষ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। তিনি হয়তো জানেন না, কত ছেলে/মেয়ে মাদক/গাঁজায় আসক্ত! কত কিশোর আপরাধে যুক্ত। গ্রামের স্কুলের মাঠগুলো এখন জুয়া এবং গাঁজার আড্ডাখানা। আমার গ্রামের জুয়া এবং গাঁজার উপদ্রব বন্ধের জন্য আমি উপজেলা চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম। সে আমার বন্ধু মানুষ। সে বলল, আমার তেমন কিছু করার নেই। তুই এসপি সাহেবকে একটু বলে দেখত। তিনি ভালো মানুষ, তুই কথা বললে হয়তো শুনবে-এই বলে এসপি সাহেবের নম্বর দিয়েছিল। আমার কাছে সেই নম্বর আজও আছে। কিন্তু নানাদিক ভেবে আমি তাকে ফোন করিনি।

আমি যা লিখেছি, তা কারও অজানা নয়। আরও অনেক কিছুই লেখা যায়। কিন্তু কথা হচ্ছে, এ পরিণতির জন্য দায়ী কে এবং এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? আমরা অনেকেই এজন্য দায়ী। কেউ কম বা কেউ বেশি। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দোষারোপ করার ইচ্ছা আমার নেই। আসলে এ অবস্থার জন্য দায়ী হচ্ছে রাজনৈতিক অসমঝোতা, অস্বচ্ছতা এবং ক্ষমতালিপ্সা।

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র, দলযন্ত্র, ব্যবসায়ীযন্ত্র, লবিষ্টযন্ত্র ইত্যাদির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। গণতন্ত্র এখন অনেকটাই নিষ্প্রভ। সবাই সুযোগ নিচ্ছে! আজিজ, বেনজীরসহ অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে/করছে। সরকার দেখেও কিছু বলেনি/বলছে না। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়েছে, মন্ত্রী বলছেন, সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষমতা তার নেই।

প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, অযোগ্য দল-কানারা বা অনুপ্রবেশকারীরা পিএসসিসহ বড় বড় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে ঠুঁটো-জগন্নাথের মতো বসে আছে।

শুধু দেশেই নয়, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ কী নেই আমাদের? তবু আমরা নির্ভরশীল বিদেশিদের ওপর। আমরা সবকিছুর জন্যই ধরনা দিচ্ছি বিদেশিদের কাছে। আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে বিদেশিরা। বলা চলে, অপরিসীম সুযোগ নিচ্ছে। দেশের অবস্থানের কারণে যেখানে আমাদের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, সেখানে ঠিক উলটোটাই হচ্ছে।

এই লজ্জা থেকে আমরা মুক্তি চাই। রাজনীতিকদের ক্ষমতালিপ্সা, ক্ষোভ-ক্রোধ, এবং অসহিষ্ণুতার কারণেই দেশ আজ দুর্দশাগ্রস্ত এবং আমরা অপমানিত। তাদেরই দায়িত্ব দেশের সম্মান পুনরুদ্ধার করার। তারা ভালোভাবেই জানে, এজন্য প্রয়োজন হচ্ছে রাজনৈতিক সমাধান এবং পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। প্রয়োজন হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কাগজে-কলমে নয়, প্রকৃত অর্থেই সরকারি ও বিরোধী দল যৌথভাবে দেশ পরিচালনা করবে। ভোটে জিতে ক্ষমতাসীন দল সবকিছুরই অধিকারী হবে এবং বিরোধী দল সবকিছুই হারাবে, এ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমাদের আর প্রয়োজন নেই।

আমাদের প্রয়োজন ক্ষমতার সুষম বণ্টন, জবাবদিহিতা, সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা। এরূপ ব্যবস্থাতেই নিহিত আছে সবার কল্যাণ। এটি করতে পারলে দূর হবে পরনির্ভরশীলতা। বন্ধ হবে ঘুস-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নির্যাতন। সরকার হবে স্বাধীন ও ভয়-ভীতিহীন। আমি যা লিখছি, তা কোনো স্বপ্ন নয়। অসম্ভব কিছু নয়।

দেশের জন্য অসম্ভবকে সম্ভব করে গেছেন বঙ্গবন্ধু। আজ আমাদের যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। শহিদ হওয়ার প্রয়োজন নেই। সম্ভ্রম হারানোর দরকার নেই। প্রয়োজন শুধু সমঝোতা ও সততা।

ড. এমএলআর সরকার : প্রফেসর, ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

lrsarker@yahoo.com

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

কোথায় চলেছি আমরা

আপডেট টাইম : ০৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪

পেনশন বৈষম্য নিয়ে আমার একটি লেখা প্রসঙ্গে একজন ছাত্র আমাকে যা লিখেছিল, তার সারমর্ম হচ্ছে-দেশে একটা সমস্যা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আরেকটা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে/করা হচ্ছে, একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে, নাটক বা সিনেমার দৃশ্যের মতো একের পর এক আমাদের সামনে আসছে, আমরা সবই দেখছি, বুঝছি! কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। অসহায়ের মতো আফসোস করছি। ফোঁড়াটা যার, সে-ই ব্যথা অনুভব করছে। এত অসুখের মাঝেও সুখী থাকার চেষ্টা করছি। কিন্তু এভাবে কি সুখী হওয়া যায়?

আমার মনে হয়, ছাত্রের এ মন্তব্য শুধু তার মনের কথাই নয়। কোটি কোটি অসহায় মানুষের কথা। কী দেখছি আমরা, একের পর এক ঘটনা! বেনজীরের সম্পদের পাহাড়, সংসদ-সদস্য খুন, মতিউরের ছাগল-কাণ্ড, ব্যাংক খালি, রিজার্ভ চুরি, রপ্তানির হিসাবে গরমিল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, কোটা আন্দোলন, শিক্ষকদের ধর্মঘট ইত্যাদি ঘটেই চলছে। অতীতেও এরকম ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কোনো কিছুরই সুরাহা হয়নি।

ইতোমধ্যে আমরা ভুলে গেছি বেনজীর বা মতিউরের কথা। এখন মেতে উঠেছি আবেদ আলীকে নিয়ে। একদিন আবেদ আলী চলে যাবে। আমরা অন্য এক আলী বা সাহেবের কুকীর্তি নিয়ে কথা বলব। এভাবেই কি দেশ চলবে?

স্বাধীনতার এত বছর পর কী দেখছি আমরা? জাতি হিসাবে আমরা কতটা বিশৃঙ্খল ও লোভী? আমাদের চুরিবিদ্যা ও সম্পদলিপ্সা কতটা প্রবল? আমাদের অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা কতটা ব্যাপক? আমাদের নিুবিত্তরা কতটা অসহায়? হ্যাঁ, আমরা অনেক কিছুই দেখছি। আফসোস করা ছাড়া জনগণের কি কিছু করার আছে? না, নেই! অন্যায় ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করার দায়িত্ব হলো সরকারের। দেশে সরকার আছে, আছেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপিসহ অনেক প্রতিনিধি। জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা করার জন্য আছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গসংস্থা। সবাই আছে, কিন্তু তারপরও সবার চোখের সামনেই চলছে নির্বিচারে দুর্নীতি ও চুরি।

বলুন তো কী করে বেনজীরের এতবড় একটি রিসোর্ট কেউই এতদিন দেখতে পেল না? এটি কি ঝোপঝাড়ের আড়ালে পড়ে থাকা পিঁপড়া বা উইপোকার ছোট্ট ঢিবি? নাকি জিন-ভূতে তৈরি কোনো ইমারত। এটি হাজার বিঘা জমির জমিদারি! কিন্তু কেউ এতদিন কিছুই দেখল না বা বলল না! হয়তো কেউ আজও বলত না, যদি তার ক্ষমতা এখনো থাকত।

আজিজ বা বেনজীরের কথা বাদ দিলাম। তারা অনেক উঁচু মাপের লোক। কিন্তু আবেদ আলী, যিনি একজন ড্রাইভার মাত্র। কী করে তিনি পিএসসির মতো একটি সংস্থার প্রশ্নপত্র দিনের পর দিন ফাঁস করে আসছিল। আবেদ আলী কার ড্রাইভার ছিল, সেটিই এখন গবেষণার প্রধান বিষয়। কথা হচ্ছে, আবেদ আলী কি প্রশ্ন করেছিল, তার কাছে কি প্রশ্ন ছিল, তার কি চাকরি ছিল, তিনি কি পিএসসির সদস্য ছিলেন?

না, আবেদ আলী অনেক আগেই চাকরিচ্যুত হয়েছেন। তিনি পিএসসির সদস্য ছিলেন না এবং প্রশ্নসংক্রান্ত কোনো কাজেই জড়িত ছিলেন না। তাহলে, চাকরিচ্যুত একজন ড্রাইভারের কাছে কীভাবে সুর সুর করে প্রশ্নপত্র চলে আসত? কেন পিএসসি এতদিন জেনেও না জানার ভান করেছিল? আবেদ আলীও কি বেনজীরের মতো ক্ষমতাধর ছিল? নাকি তার পেছনে ক্ষমতাধররা ছিল?

ধরে নিলাম আবেদ আলীরা নীরবে-নিভৃতে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে। পিএসসির হর্তাকর্তারা পদ ও মানসম্মান হারানোর ভয়ে প্রকাশ্যে কিছুই বলেনি। কিন্তু যারা প্রকাশ্যে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা খালি করে দিল, তাদেরও কেন কিছুই হচ্ছে না। বরং তাদের ঋণের সুদ মাফ হচ্ছে! সামান্য টাকায় তাদের হাজার হাজার কোটি ঋণ পুনঃতফসিল হচ্ছে!? কেউ কি আছে এসব দেখার? হ্যাঁ, দেখার জন্য অনেকেই আছে।

তবে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। কীভাবেই বা পাবে? জনাব, আপনারা হয়তো ভুলে গেছেন রণ হক শিকদারের থাইল্যান্ডে পালানোর কথা! কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তারা কিছুই ভোলেনি! তাই তারা এসব রাঘববোয়ালদের ক্রমাগত ঋণ এবং ছাড় দিয়ে যাচ্ছে। কোনো উচ্চবাচ্য করছে না।

এক সময় রিজার্ভ নিয়ে আমরা খুবই গর্ব করতাম। সেই রিজার্ভ থেকে ডলার চুরি হলো। শুনছি বিদেশির বিচার হয়েছে। কিন্তু দেশের যারা জড়িত বা যাদের অবহেলায় চুরি হয়েছে তাদের বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি। সেই চুরি থেকে শুরু! অতঃপর চলছে রিজার্ভ ধস নামার এবং ডলার পাচারের পালা। কত চেষ্টায়ই না সরকার করছে! কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। হবেই বা কেমন করে? দেশে ১০ ইঞ্চি পাইপ দিয়ে ডলার রিজার্ভে জমা হচ্ছে এবং ১২ ইঞ্চি পাইপ দিয়ে সেই ডলার রিজার্ভ থেকে খরচ এবং পাচার হচ্ছে। জমা-খরচের হিসাব এরূপ হলে রিজার্ভের চৌবাচ্চা কি কোনো দিন ভরতে পারে?

দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে ঘুস ও দুর্নীতি! কোথায় নেই ঘুস-দুর্নীতি? কিছু মন্ত্রণালয় বা চাকরির কথা বলে অন্যদের ছোট করার ইচ্ছা আমার নেই। কিছু ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা বা কর্মচারী ছাড়া প্রায় সবাই ঘুস-দুর্নীতিতে আসক্ত। অনেকেই সম্পদের ঢিবি, টিলা, পাহাড়, পর্বত তৈরি করছে। কেউ কেউ আবার সম্পদের পাহাড় বিদেশে স্থানান্তর করেছে।

আমরা কালেভদ্রে দু’একটি খবর জেনেছি। কিন্তু আপনার আশপাশেই আছে জনাবরা এবং জনাবদের চকচকে গাড়ি-বাড়ি। এ জনাবরাই এখন সমাজের মধ্যমণি। এ জনাবরা আমাদেরই কারও না কারও বাবা-মা, ভাই-বোন বা আত্মীয়-স্বজন। এদের কারণেই দেশ ক্ষতবিক্ষত।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। আমরা জানি ফিনল্যান্ডের কারিকুলাম পড়ানোর মতো শিক্ষাব্যবস্থা, ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবক আমাদের নেই। তারপরও আমরা তাই চাপিয়ে দিয়েছি। আমরা যারা সেই পুরোনো আমলের পাঠ্যসূচি অনুযায়ী পড়াশোনা করেছি, তারা কি পচে গেছি জনাব? ধরে নিলাম, পাঠ্যসূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে।

কিন্তু এ অঞ্চলের এতগুলো দেশ, যেমন সিঙ্গাপুর, জাপান, চীন, হংকং ইত্যাদি দেশের পাঠ্যসূচি থাকতে, সাত-সমুদ্র তের-নদী পাড়ি জমানোর কি প্রয়োজন ছিল? কিছু না পারলে বন্ধুদেশ ভারতের পাঠ্যসূচি অনুকরণ করলেও হতো!

দেশে শিক্ষার অবস্থা উদ্বেগজনক। পরীক্ষা নেই, শাসন নেই, সঠিক পাঠ্যপুস্তক নেই। আছে শুধু এ-প্লাস এবং এ সার্টিফিকেটের ছড়াছড়ি। সোনার মতো ছেলেমেয়েরা বিনাশাসনে, বিনানিয়ন্ত্রণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী মহাশয় বলছেন, ৫০ লাখ মানুষ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। তিনি হয়তো জানেন না, কত ছেলে/মেয়ে মাদক/গাঁজায় আসক্ত! কত কিশোর আপরাধে যুক্ত। গ্রামের স্কুলের মাঠগুলো এখন জুয়া এবং গাঁজার আড্ডাখানা। আমার গ্রামের জুয়া এবং গাঁজার উপদ্রব বন্ধের জন্য আমি উপজেলা চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম। সে আমার বন্ধু মানুষ। সে বলল, আমার তেমন কিছু করার নেই। তুই এসপি সাহেবকে একটু বলে দেখত। তিনি ভালো মানুষ, তুই কথা বললে হয়তো শুনবে-এই বলে এসপি সাহেবের নম্বর দিয়েছিল। আমার কাছে সেই নম্বর আজও আছে। কিন্তু নানাদিক ভেবে আমি তাকে ফোন করিনি।

আমি যা লিখেছি, তা কারও অজানা নয়। আরও অনেক কিছুই লেখা যায়। কিন্তু কথা হচ্ছে, এ পরিণতির জন্য দায়ী কে এবং এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? আমরা অনেকেই এজন্য দায়ী। কেউ কম বা কেউ বেশি। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দোষারোপ করার ইচ্ছা আমার নেই। আসলে এ অবস্থার জন্য দায়ী হচ্ছে রাজনৈতিক অসমঝোতা, অস্বচ্ছতা এবং ক্ষমতালিপ্সা।

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র, দলযন্ত্র, ব্যবসায়ীযন্ত্র, লবিষ্টযন্ত্র ইত্যাদির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। গণতন্ত্র এখন অনেকটাই নিষ্প্রভ। সবাই সুযোগ নিচ্ছে! আজিজ, বেনজীরসহ অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে/করছে। সরকার দেখেও কিছু বলেনি/বলছে না। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়েছে, মন্ত্রী বলছেন, সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষমতা তার নেই।

প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, অযোগ্য দল-কানারা বা অনুপ্রবেশকারীরা পিএসসিসহ বড় বড় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে ঠুঁটো-জগন্নাথের মতো বসে আছে।

শুধু দেশেই নয়, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ কী নেই আমাদের? তবু আমরা নির্ভরশীল বিদেশিদের ওপর। আমরা সবকিছুর জন্যই ধরনা দিচ্ছি বিদেশিদের কাছে। আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে বিদেশিরা। বলা চলে, অপরিসীম সুযোগ নিচ্ছে। দেশের অবস্থানের কারণে যেখানে আমাদের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, সেখানে ঠিক উলটোটাই হচ্ছে।

এই লজ্জা থেকে আমরা মুক্তি চাই। রাজনীতিকদের ক্ষমতালিপ্সা, ক্ষোভ-ক্রোধ, এবং অসহিষ্ণুতার কারণেই দেশ আজ দুর্দশাগ্রস্ত এবং আমরা অপমানিত। তাদেরই দায়িত্ব দেশের সম্মান পুনরুদ্ধার করার। তারা ভালোভাবেই জানে, এজন্য প্রয়োজন হচ্ছে রাজনৈতিক সমাধান এবং পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। প্রয়োজন হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কাগজে-কলমে নয়, প্রকৃত অর্থেই সরকারি ও বিরোধী দল যৌথভাবে দেশ পরিচালনা করবে। ভোটে জিতে ক্ষমতাসীন দল সবকিছুরই অধিকারী হবে এবং বিরোধী দল সবকিছুই হারাবে, এ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমাদের আর প্রয়োজন নেই।

আমাদের প্রয়োজন ক্ষমতার সুষম বণ্টন, জবাবদিহিতা, সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা। এরূপ ব্যবস্থাতেই নিহিত আছে সবার কল্যাণ। এটি করতে পারলে দূর হবে পরনির্ভরশীলতা। বন্ধ হবে ঘুস-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নির্যাতন। সরকার হবে স্বাধীন ও ভয়-ভীতিহীন। আমি যা লিখছি, তা কোনো স্বপ্ন নয়। অসম্ভব কিছু নয়।

দেশের জন্য অসম্ভবকে সম্ভব করে গেছেন বঙ্গবন্ধু। আজ আমাদের যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। শহিদ হওয়ার প্রয়োজন নেই। সম্ভ্রম হারানোর দরকার নেই। প্রয়োজন শুধু সমঝোতা ও সততা।

ড. এমএলআর সরকার : প্রফেসর, ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

lrsarker@yahoo.com