ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

ইন্টারনেট ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী

হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ‘বিটচ্যাট’ নামের নতুন মেসেজিং অ্যাপ আনলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারের (বর্তমান এক্স) সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সিইও জ্যাক ডরসি। ব্যতিক্রমধর্মী এই অ্যাপ ব্লুটুথনির্ভর। এটি একটি নতুন, বিকেন্দ্রীকৃত ও পিয়ার-টু-পিয়ার মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, যা সম্পূর্ণরূপে ব্লুটুথ মেশ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে। এই অ্যাপে ইন্টারনেট, কেন্দ্রীয় সার্ভার, ফোন নম্বর বা ই-মেইলের প্রয়োজন পড়ে না।

গত রবিবার (৬ জুলাই) এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে ডরসি জানান, অ্যাপটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং আগ্রহী ব্যবহারকারীরা ‘টেস্টফ্লাইট’ নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে এর পরীক্ষামূলক সংস্করণটি ব্যবহার করতে পারেন। সেই সঙ্গে অ্যাপটির হোয়াইট পেপার গিটহাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হোয়াইট পেপার এমন একধরনের ডকুমেন্ট বা নথি, যেখানে নতুন প্রযুক্তি বা অ্যাপের কাজ করার পদ্ধতি, উদ্দেশ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ বিস্তারিতভাবে লেখা থাকে। এই নথির মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারেন অ্যাপটি কীভাবে কাজ করে।

অ্যাপটিকে ব্যক্তিগত গবেষণা হিসেবে বর্ণনা করেছেন ডরসি, যেখানে তিনি ব্লুটুথ মেশ নেটওয়ার্ক, রিলে, ‘স্টোর অ্যান্ড ফরোয়ার্ড’ মডেল এবং এনক্রিপশন কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন।

ডরসির অ্যাপটি কাছাকাছি থাকা বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে অস্থায়ী ও এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগকে সম্ভব করে তোলে। ফলে অ্যাপের বিভিন্ন মেসেজ নিরাপদ ও দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত হয় না। ব্যবহারকারীরা যখন বিভিন্ন জায়গায় চলাফেরা করেন, তখন তাঁদের ফোন স্থানীয় ‘ব্লুটুথ ক্লাস্টার’ তৈরি করে এবং এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে বার্তা পাঠানো হয়। এভাবে বার্তা পৌঁছায় দূরবর্তী ব্যবহারকারীর কাছেও, এমনকি ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াও।

অ্যাপটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—‘ব্রিজ’ ডিভাইস। এগুলো একাধিক ব্লুটুথ ক্লাস্টারকে সংযুক্ত করে পুরো নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে সাহায্য করে। বার্তাগুলো শুধু ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই সংরক্ষিত থাকে, ডিফল্টভাবে তা মুছে যায় এবং কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভারে যায় না। এটি ডরসির দীর্ঘদিনের গোপনীয়তা ও সেন্সরশিপ বিরোধী অবস্থানের প্রতিফলন।

ডরসির এই প্রকল্প তাঁর আগের উদ্যোগ দামুস ও ব্লুস্কাইয়েরই সম্প্রসারণ। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ, অর্থ প্রদানসহ বিভিন্ন খাতে বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে কাজ করছেন।

হংকংয়ের ২০১৯ সালের আন্দোলনে ব্যবহৃত ব্লুটুথ-ভিত্তিক অ্যাপের মতো বিটচ্যাটও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা, নজরদারি কিংবা ব্লকড অবস্থায়ও কার্যকর থাকার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এটি আন্দোলন, জরুরি অবস্থা বা অবরোধ চলাকালীন যুক্ত থাকার জন্য সেন্সরশিপ প্রতিরোধী একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারবে।

অ্যাপটিতে গ্রুপ চ্যাট বা ‘রুম’-এর সুবিধাও রয়েছে, যেগুলো হ্যাশট্যাগ ও পাসওয়ার্ড দিয়ে নিরাপদ করা যায়। এ ছাড়া বার্তাগুলো ‘স্টোর অ্যান্ড ফরোয়ার্ড’ প্রযুক্তির মাধ্যমে সাময়িকভাবে অফলাইনে থাকা ব্যবহারকারীর কাছেও পৌঁছানো সম্ভব।

ভবিষ্যতের আপডেটে ওয়াইফাই ডাইরেক্ট ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা গতি ও পরিসর বাড়াবে। এর মাধ্যমে ডরসির ‘অফ-গ্রিড’, ব্যবহারকারী-নিয়ন্ত্রিত যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বপ্ন আরও এগিয়ে যাবে।

হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক মেসেঞ্জারের মতো প্রচলিত মেসেজিং অ্যাপের সঙ্গে বিটচ্যাটেরের পার্থক্য হলো—এটি কোনো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় নয়, কোনো অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত শনাক্তকারী ছাড়াই চলে এবং ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে না।

ডরসির এই নতুন উদ্যোগ প্রযুক্তি ও প্রাইভেসি সচেতন ব্যবহারকারীদের জন্য এক নতুন বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

ইন্টারনেট ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী

আপডেট টাইম : ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ‘বিটচ্যাট’ নামের নতুন মেসেজিং অ্যাপ আনলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারের (বর্তমান এক্স) সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সিইও জ্যাক ডরসি। ব্যতিক্রমধর্মী এই অ্যাপ ব্লুটুথনির্ভর। এটি একটি নতুন, বিকেন্দ্রীকৃত ও পিয়ার-টু-পিয়ার মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, যা সম্পূর্ণরূপে ব্লুটুথ মেশ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে। এই অ্যাপে ইন্টারনেট, কেন্দ্রীয় সার্ভার, ফোন নম্বর বা ই-মেইলের প্রয়োজন পড়ে না।

গত রবিবার (৬ জুলাই) এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে ডরসি জানান, অ্যাপটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং আগ্রহী ব্যবহারকারীরা ‘টেস্টফ্লাইট’ নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে এর পরীক্ষামূলক সংস্করণটি ব্যবহার করতে পারেন। সেই সঙ্গে অ্যাপটির হোয়াইট পেপার গিটহাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হোয়াইট পেপার এমন একধরনের ডকুমেন্ট বা নথি, যেখানে নতুন প্রযুক্তি বা অ্যাপের কাজ করার পদ্ধতি, উদ্দেশ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ বিস্তারিতভাবে লেখা থাকে। এই নথির মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারেন অ্যাপটি কীভাবে কাজ করে।

অ্যাপটিকে ব্যক্তিগত গবেষণা হিসেবে বর্ণনা করেছেন ডরসি, যেখানে তিনি ব্লুটুথ মেশ নেটওয়ার্ক, রিলে, ‘স্টোর অ্যান্ড ফরোয়ার্ড’ মডেল এবং এনক্রিপশন কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন।

ডরসির অ্যাপটি কাছাকাছি থাকা বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে অস্থায়ী ও এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগকে সম্ভব করে তোলে। ফলে অ্যাপের বিভিন্ন মেসেজ নিরাপদ ও দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত হয় না। ব্যবহারকারীরা যখন বিভিন্ন জায়গায় চলাফেরা করেন, তখন তাঁদের ফোন স্থানীয় ‘ব্লুটুথ ক্লাস্টার’ তৈরি করে এবং এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে বার্তা পাঠানো হয়। এভাবে বার্তা পৌঁছায় দূরবর্তী ব্যবহারকারীর কাছেও, এমনকি ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াও।

অ্যাপটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—‘ব্রিজ’ ডিভাইস। এগুলো একাধিক ব্লুটুথ ক্লাস্টারকে সংযুক্ত করে পুরো নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে সাহায্য করে। বার্তাগুলো শুধু ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই সংরক্ষিত থাকে, ডিফল্টভাবে তা মুছে যায় এবং কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভারে যায় না। এটি ডরসির দীর্ঘদিনের গোপনীয়তা ও সেন্সরশিপ বিরোধী অবস্থানের প্রতিফলন।

ডরসির এই প্রকল্প তাঁর আগের উদ্যোগ দামুস ও ব্লুস্কাইয়েরই সম্প্রসারণ। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ, অর্থ প্রদানসহ বিভিন্ন খাতে বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে কাজ করছেন।

হংকংয়ের ২০১৯ সালের আন্দোলনে ব্যবহৃত ব্লুটুথ-ভিত্তিক অ্যাপের মতো বিটচ্যাটও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা, নজরদারি কিংবা ব্লকড অবস্থায়ও কার্যকর থাকার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এটি আন্দোলন, জরুরি অবস্থা বা অবরোধ চলাকালীন যুক্ত থাকার জন্য সেন্সরশিপ প্রতিরোধী একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারবে।

অ্যাপটিতে গ্রুপ চ্যাট বা ‘রুম’-এর সুবিধাও রয়েছে, যেগুলো হ্যাশট্যাগ ও পাসওয়ার্ড দিয়ে নিরাপদ করা যায়। এ ছাড়া বার্তাগুলো ‘স্টোর অ্যান্ড ফরোয়ার্ড’ প্রযুক্তির মাধ্যমে সাময়িকভাবে অফলাইনে থাকা ব্যবহারকারীর কাছেও পৌঁছানো সম্ভব।

ভবিষ্যতের আপডেটে ওয়াইফাই ডাইরেক্ট ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা গতি ও পরিসর বাড়াবে। এর মাধ্যমে ডরসির ‘অফ-গ্রিড’, ব্যবহারকারী-নিয়ন্ত্রিত যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বপ্ন আরও এগিয়ে যাবে।

হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক মেসেঞ্জারের মতো প্রচলিত মেসেজিং অ্যাপের সঙ্গে বিটচ্যাটেরের পার্থক্য হলো—এটি কোনো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় নয়, কোনো অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত শনাক্তকারী ছাড়াই চলে এবং ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে না।

ডরসির এই নতুন উদ্যোগ প্রযুক্তি ও প্রাইভেসি সচেতন ব্যবহারকারীদের জন্য এক নতুন বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।