ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির বন্যাদুর্গতদের খোঁজ নিতে রোববার চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক

ভারত থেকে ইসরাইলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির অভিযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির শীর্ষ ইসলামী সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানী।

তিনি বলেছেন, নিরীহ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন জেনেও ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ করা শুধু আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন নয়, বরং মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার ওপর কলঙ্কজনক দাগ।

সোমবার এক বিবৃতিতে মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক অস্ত্র ও কামানের গোলাবারুদ ইসরাইলে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যাকে তিনি ‘বিভ্রান্তিকর ও দায়সারা’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এমন সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সরকারের অস্পষ্ট অবস্থান দেশের নৈতিক ভিত্তি ও আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

মাওলানা মাদানী দাবি করেন, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) বিশ্বের দেশগুলোকে অবৈধ দখলদারিত্ব ও সম্ভাব্য গণহত্যার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল। একই সঙ্গে ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং ১৯৪৮ সালের গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তিবিষয়ক কনভেনশনের আলোকে যুদ্ধাপরাধে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন অস্ত্র সরবরাহ নিষিদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘যখন স্পষ্টভাবে জানা আছে যে এসব অস্ত্র শিশু, নারী ও নিরীহ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন সেই অস্ত্র সরবরাহ করা শুধু অপরাধ নয়, বরং গণহত্যায় প্রত্যক্ষ অংশীদার হওয়ার শামিল।’

তিনি আরও বলেন, মহাত্মা গান্ধীর সময় থেকেই ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থান ছিল নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। একদিকে নিরপেক্ষতার দাবি করা, অন্যদিকে ইসরাইলের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া দেশের নীতি, নৈতিক ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মাওলানা মাহমুদ মাদানী ভারত সরকারের প্রতি অবিলম্বে সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরাইলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি বন্ধ করার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং মানবতার স্বার্থে ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করারও দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের মর্যাদা ন্যায়, সত্য ও নৈতিকতার পক্ষে অবস্থানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেই মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করে তা বন্ধ করা প্রয়োজন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা

মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক

আপডেট টাইম : ২০ মিনিট আগে

ভারত থেকে ইসরাইলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির অভিযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির শীর্ষ ইসলামী সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানী।

তিনি বলেছেন, নিরীহ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন জেনেও ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ করা শুধু আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন নয়, বরং মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার ওপর কলঙ্কজনক দাগ।

সোমবার এক বিবৃতিতে মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক অস্ত্র ও কামানের গোলাবারুদ ইসরাইলে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যাকে তিনি ‘বিভ্রান্তিকর ও দায়সারা’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এমন সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সরকারের অস্পষ্ট অবস্থান দেশের নৈতিক ভিত্তি ও আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

মাওলানা মাদানী দাবি করেন, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) বিশ্বের দেশগুলোকে অবৈধ দখলদারিত্ব ও সম্ভাব্য গণহত্যার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল। একই সঙ্গে ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং ১৯৪৮ সালের গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তিবিষয়ক কনভেনশনের আলোকে যুদ্ধাপরাধে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন অস্ত্র সরবরাহ নিষিদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘যখন স্পষ্টভাবে জানা আছে যে এসব অস্ত্র শিশু, নারী ও নিরীহ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন সেই অস্ত্র সরবরাহ করা শুধু অপরাধ নয়, বরং গণহত্যায় প্রত্যক্ষ অংশীদার হওয়ার শামিল।’

তিনি আরও বলেন, মহাত্মা গান্ধীর সময় থেকেই ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থান ছিল নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। একদিকে নিরপেক্ষতার দাবি করা, অন্যদিকে ইসরাইলের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া দেশের নীতি, নৈতিক ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মাওলানা মাহমুদ মাদানী ভারত সরকারের প্রতি অবিলম্বে সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরাইলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি বন্ধ করার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং মানবতার স্বার্থে ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করারও দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের মর্যাদা ন্যায়, সত্য ও নৈতিকতার পক্ষে অবস্থানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেই মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করে তা বন্ধ করা প্রয়োজন।