ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা লং মার্চ বন্ধ করে সংলাপে বসার আহ্বান শাহবাজ শরীফের শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় কার্পণ্য করবে না সরকার : এলজিআরডি মন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এক বছরের মধ্যে লক্ষ্য ৫ হাজার মেগাওয়াট ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক ব্যবহারে দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক শিক্ষার্থীরাই যার সন্তান, কল্যাণী তাদের স্বপ্নসারথি ভিকির পুলসিরাতে মেহজাবীন এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে বুধবার চুক্তি সই শিগগির ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষকে তলব

সাবিনা ইয়াসমিন: যে কণ্ঠ পেরিয়ে গেছে প্রজন্মের সীমানা

বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)। ১৯৫৪ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ৭২ বছর পূর্ণ করে ৭৩ বছরে পা দিয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময়ের সংগীতজীবনে চলচ্চিত্রের গানসহ অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার হৃদয়ে।

১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রের ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গান দিয়ে চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার যাত্রা শুরু করেন সাবিনা ইয়াসমিন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তাঁর কণ্ঠ হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের গানের অন্যতম প্রধান পরিচয়।

শৈশব থেকেই গানের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন সাবিনা ইয়াসমিন। পরিবার থেকেই সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা পান তিনি। দীর্ঘ সাধনা ও চর্চার মধ্য দিয়ে নিজের কণ্ঠকে তৈরি করেন স্বতন্ত্র এক অবস্থানে। প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা কিংবা দেশাত্মবোধ- বিভিন্ন আবেগের গানেই তাঁর কণ্ঠ পেয়েছে আলাদা মাত্রা।

সংগীতজীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও রাষ্ট্রীয় সম্মান পেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। ১৯৮৪ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন একাধিকবার। চলচ্চিত্রের গানে তার অবদান বাংলা সংগীতের ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে রেকর্ড হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি গান। এর মধ্যে দেড় হাজারের বেশি চলচ্চিত্রের গান রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে তাঁর দীর্ঘ উপস্থিতি তাঁকে পরিণত করেছে এ দেশের সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পীতে।

শুধু চলচ্চিত্রের গান নয়, দেশাত্মবোধক গানেও সাবিনা ইয়াসমিনের অবদান অনন্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার নানা গান তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন ও প্রযুক্তিতে পরিবর্তন এলেও সাবিনা ইয়াসমিনের গানের আবেদন কমেনি। রেডিও, টেলিভিশন থেকে শুরু করে এখনকার ডিজিটাল মাধ্যম- নানা প্রজন্মের শ্রোতার কাছে তাঁর গান এখনো সমানভাবে জনপ্রিয়।

জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও সাবিনা ইয়াসমিনকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন করেছে চ্যানেল আই। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগীতের এই কিংবদন্তির দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও অবদানকে স্মরণ করা হচ্ছে।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে সাবিনা ইয়াসমিন শুধু গান করেননি, তৈরি করেছেন বাংলা গানের এক সমৃদ্ধ অধ্যায়। তাঁর কণ্ঠে ধারণ করা অসংখ্য গান আজও শ্রোতার স্মৃতিতে জীবন্ত। তাই বয়স ৭২ পেরিয়ে ৭৩-এ পা দিলেও সংগীতে সাবিনা ইয়াসমিনের উপস্থিতি এখনো একইভাবে উজ্জ্বল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টয়োটা

সাবিনা ইয়াসমিন: যে কণ্ঠ পেরিয়ে গেছে প্রজন্মের সীমানা

আপডেট টাইম : ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)। ১৯৫৪ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ৭২ বছর পূর্ণ করে ৭৩ বছরে পা দিয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময়ের সংগীতজীবনে চলচ্চিত্রের গানসহ অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার হৃদয়ে।

১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রের ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গান দিয়ে চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার যাত্রা শুরু করেন সাবিনা ইয়াসমিন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তাঁর কণ্ঠ হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের গানের অন্যতম প্রধান পরিচয়।

শৈশব থেকেই গানের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন সাবিনা ইয়াসমিন। পরিবার থেকেই সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা পান তিনি। দীর্ঘ সাধনা ও চর্চার মধ্য দিয়ে নিজের কণ্ঠকে তৈরি করেন স্বতন্ত্র এক অবস্থানে। প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা কিংবা দেশাত্মবোধ- বিভিন্ন আবেগের গানেই তাঁর কণ্ঠ পেয়েছে আলাদা মাত্রা।

সংগীতজীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও রাষ্ট্রীয় সম্মান পেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। ১৯৮৪ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন একাধিকবার। চলচ্চিত্রের গানে তার অবদান বাংলা সংগীতের ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে রেকর্ড হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি গান। এর মধ্যে দেড় হাজারের বেশি চলচ্চিত্রের গান রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে তাঁর দীর্ঘ উপস্থিতি তাঁকে পরিণত করেছে এ দেশের সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পীতে।

শুধু চলচ্চিত্রের গান নয়, দেশাত্মবোধক গানেও সাবিনা ইয়াসমিনের অবদান অনন্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার নানা গান তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন ও প্রযুক্তিতে পরিবর্তন এলেও সাবিনা ইয়াসমিনের গানের আবেদন কমেনি। রেডিও, টেলিভিশন থেকে শুরু করে এখনকার ডিজিটাল মাধ্যম- নানা প্রজন্মের শ্রোতার কাছে তাঁর গান এখনো সমানভাবে জনপ্রিয়।

জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও সাবিনা ইয়াসমিনকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন করেছে চ্যানেল আই। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগীতের এই কিংবদন্তির দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও অবদানকে স্মরণ করা হচ্ছে।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে সাবিনা ইয়াসমিন শুধু গান করেননি, তৈরি করেছেন বাংলা গানের এক সমৃদ্ধ অধ্যায়। তাঁর কণ্ঠে ধারণ করা অসংখ্য গান আজও শ্রোতার স্মৃতিতে জীবন্ত। তাই বয়স ৭২ পেরিয়ে ৭৩-এ পা দিলেও সংগীতে সাবিনা ইয়াসমিনের উপস্থিতি এখনো একইভাবে উজ্জ্বল।