ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিক্রি হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর রঙিন কাপড়ে ঝোলের পুরনো দাগ উঠবে মাত্র ৫ মিনিটে দুই মাসে ৪০০ টন পণ্য পরিবহন করেছে ‘স্পিড পোস্ট’ প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ মেঘলাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়ি ও চালক আটক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা দিল দূতাবাস চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লং মার্চ’ শুরু বলিভিয়ায় সামরিকঘাঁটিতে বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত, আহত ৫৮ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করা হয়েছে: আইজিপি ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ‘ভোট ব্যাংক’, এ কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার হয়েছে’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবিনা ইয়াসমিন: যে কণ্ঠ পেরিয়ে গেছে প্রজন্মের সীমানা

বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)। ১৯৫৪ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ৭২ বছর পূর্ণ করে ৭৩ বছরে পা দিয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময়ের সংগীতজীবনে চলচ্চিত্রের গানসহ অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার হৃদয়ে।

১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রের ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গান দিয়ে চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার যাত্রা শুরু করেন সাবিনা ইয়াসমিন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তাঁর কণ্ঠ হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের গানের অন্যতম প্রধান পরিচয়।

শৈশব থেকেই গানের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন সাবিনা ইয়াসমিন। পরিবার থেকেই সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা পান তিনি। দীর্ঘ সাধনা ও চর্চার মধ্য দিয়ে নিজের কণ্ঠকে তৈরি করেন স্বতন্ত্র এক অবস্থানে। প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা কিংবা দেশাত্মবোধ- বিভিন্ন আবেগের গানেই তাঁর কণ্ঠ পেয়েছে আলাদা মাত্রা।

সংগীতজীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও রাষ্ট্রীয় সম্মান পেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। ১৯৮৪ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন একাধিকবার। চলচ্চিত্রের গানে তার অবদান বাংলা সংগীতের ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে রেকর্ড হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি গান। এর মধ্যে দেড় হাজারের বেশি চলচ্চিত্রের গান রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে তাঁর দীর্ঘ উপস্থিতি তাঁকে পরিণত করেছে এ দেশের সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পীতে।

শুধু চলচ্চিত্রের গান নয়, দেশাত্মবোধক গানেও সাবিনা ইয়াসমিনের অবদান অনন্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার নানা গান তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন ও প্রযুক্তিতে পরিবর্তন এলেও সাবিনা ইয়াসমিনের গানের আবেদন কমেনি। রেডিও, টেলিভিশন থেকে শুরু করে এখনকার ডিজিটাল মাধ্যম- নানা প্রজন্মের শ্রোতার কাছে তাঁর গান এখনো সমানভাবে জনপ্রিয়।

জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও সাবিনা ইয়াসমিনকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন করেছে চ্যানেল আই। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগীতের এই কিংবদন্তির দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও অবদানকে স্মরণ করা হচ্ছে।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে সাবিনা ইয়াসমিন শুধু গান করেননি, তৈরি করেছেন বাংলা গানের এক সমৃদ্ধ অধ্যায়। তাঁর কণ্ঠে ধারণ করা অসংখ্য গান আজও শ্রোতার স্মৃতিতে জীবন্ত। তাই বয়স ৭২ পেরিয়ে ৭৩-এ পা দিলেও সংগীতে সাবিনা ইয়াসমিনের উপস্থিতি এখনো একইভাবে উজ্জ্বল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বিক্রি হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

সাবিনা ইয়াসমিন: যে কণ্ঠ পেরিয়ে গেছে প্রজন্মের সীমানা

আপডেট টাইম : ২২ ঘন্টা আগে

বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)। ১৯৫৪ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ৭২ বছর পূর্ণ করে ৭৩ বছরে পা দিয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময়ের সংগীতজীবনে চলচ্চিত্রের গানসহ অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার হৃদয়ে।

১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রের ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গান দিয়ে চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার যাত্রা শুরু করেন সাবিনা ইয়াসমিন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তাঁর কণ্ঠ হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের গানের অন্যতম প্রধান পরিচয়।

শৈশব থেকেই গানের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন সাবিনা ইয়াসমিন। পরিবার থেকেই সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা পান তিনি। দীর্ঘ সাধনা ও চর্চার মধ্য দিয়ে নিজের কণ্ঠকে তৈরি করেন স্বতন্ত্র এক অবস্থানে। প্রেম, বিরহ, আনন্দ, বেদনা কিংবা দেশাত্মবোধ- বিভিন্ন আবেগের গানেই তাঁর কণ্ঠ পেয়েছে আলাদা মাত্রা।

সংগীতজীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও রাষ্ট্রীয় সম্মান পেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। ১৯৮৪ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন একাধিকবার। চলচ্চিত্রের গানে তার অবদান বাংলা সংগীতের ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে রেকর্ড হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি গান। এর মধ্যে দেড় হাজারের বেশি চলচ্চিত্রের গান রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানে তাঁর দীর্ঘ উপস্থিতি তাঁকে পরিণত করেছে এ দেশের সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পীতে।

শুধু চলচ্চিত্রের গান নয়, দেশাত্মবোধক গানেও সাবিনা ইয়াসমিনের অবদান অনন্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার নানা গান তাঁর কণ্ঠে পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন ও প্রযুক্তিতে পরিবর্তন এলেও সাবিনা ইয়াসমিনের গানের আবেদন কমেনি। রেডিও, টেলিভিশন থেকে শুরু করে এখনকার ডিজিটাল মাধ্যম- নানা প্রজন্মের শ্রোতার কাছে তাঁর গান এখনো সমানভাবে জনপ্রিয়।

জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও সাবিনা ইয়াসমিনকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন করেছে চ্যানেল আই। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগীতের এই কিংবদন্তির দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও অবদানকে স্মরণ করা হচ্ছে।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে সাবিনা ইয়াসমিন শুধু গান করেননি, তৈরি করেছেন বাংলা গানের এক সমৃদ্ধ অধ্যায়। তাঁর কণ্ঠে ধারণ করা অসংখ্য গান আজও শ্রোতার স্মৃতিতে জীবন্ত। তাই বয়স ৭২ পেরিয়ে ৭৩-এ পা দিলেও সংগীতে সাবিনা ইয়াসমিনের উপস্থিতি এখনো একইভাবে উজ্জ্বল।