ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

ফরিদপুরে হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের মধুখালীতে শাহ মো. রাজন (২৮) নামের এক যুবককে হত্যার দায়ে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অনাদায়ে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও মামলার প্রমাণ লোপাটের দায়ে পাঁচজনকে আরও সাত বছর করে কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত।

রায় ঘোষণার সময় আসামি ফরিদপুর চিনিকল শ্রমজীবী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মির্জা মাজাহারুল ইসলাম মিলন, মো. আরমান হোসেন, মো. মামুন শেখ ও ইলিয়াছ মৃধা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আরেক আসামি আছাদ শেখ পলাতক। পরে চার আসামিকে পুলিশ পাহারায় আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। সবার বাড়ি মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ বিকেলে মধুখালী উপজেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে রাজন (২৮) মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। চার দিন পর মোটরসাইকেলটি তারাপুর শ্মশানঘাটসংলগ্ন মধুমতী নদীতে পায় জেলেরা। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন মামুনের বাড়িতে গিয়ে ঘর তল্লাশি করে তার প্যান্টের পকেট থেকে রাজনের মোবাইল ফোন জব্দ করে। পরে ফোনকলের তালিকার সূত্র ধরে আরমানকে আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামি আরমান হোসেন স্বীকার করে বলেন, ‘রাজনকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মামুনের সহায়তায় কৌশলে কুড়ানিয়ার চর এলাকায় একটি বাগানে ডেকে নেন। সেখানে পাঁচ-ছয়জন মিলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ বাগানের মাটির নিচে চাপা দিয়া রাখেন। পরে পুলিশ মাটি খুঁড়ে রাজনের লাশ উত্তোলন করে।’

এ ঘটনায় রাজনের মা জ্যোৎস্না বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রকিবুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, ‘দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালতের বিচারক রাজন হত্যা মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এর মধ্যে একজন পলাতক রয়েছেন। অন্যরা আদালতে হাজির ছিলেন। রাজন হত্যা মামলায় আমরা আদালত থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

ফরিদপুরে হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট টাইম : ০১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

ফরিদপুরের মধুখালীতে শাহ মো. রাজন (২৮) নামের এক যুবককে হত্যার দায়ে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অনাদায়ে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও মামলার প্রমাণ লোপাটের দায়ে পাঁচজনকে আরও সাত বছর করে কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত।

রায় ঘোষণার সময় আসামি ফরিদপুর চিনিকল শ্রমজীবী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মির্জা মাজাহারুল ইসলাম মিলন, মো. আরমান হোসেন, মো. মামুন শেখ ও ইলিয়াছ মৃধা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আরেক আসামি আছাদ শেখ পলাতক। পরে চার আসামিকে পুলিশ পাহারায় আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। সবার বাড়ি মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ বিকেলে মধুখালী উপজেলার রফিকুল ইসলামের ছেলে রাজন (২৮) মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। চার দিন পর মোটরসাইকেলটি তারাপুর শ্মশানঘাটসংলগ্ন মধুমতী নদীতে পায় জেলেরা। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন মামুনের বাড়িতে গিয়ে ঘর তল্লাশি করে তার প্যান্টের পকেট থেকে রাজনের মোবাইল ফোন জব্দ করে। পরে ফোনকলের তালিকার সূত্র ধরে আরমানকে আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামি আরমান হোসেন স্বীকার করে বলেন, ‘রাজনকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মামুনের সহায়তায় কৌশলে কুড়ানিয়ার চর এলাকায় একটি বাগানে ডেকে নেন। সেখানে পাঁচ-ছয়জন মিলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ বাগানের মাটির নিচে চাপা দিয়া রাখেন। পরে পুলিশ মাটি খুঁড়ে রাজনের লাশ উত্তোলন করে।’

এ ঘটনায় রাজনের মা জ্যোৎস্না বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রকিবুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, ‘দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালতের বিচারক রাজন হত্যা মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এর মধ্যে একজন পলাতক রয়েছেন। অন্যরা আদালতে হাজির ছিলেন। রাজন হত্যা মামলায় আমরা আদালত থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছি।’