ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

জাপান পেল প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

সানায়ে তাকাইচি জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে শাসক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) এই নারী প্রার্থী নিম্ন ও উচ্চÑ দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। তিনি নিম্নকক্ষে ২৩৭ ও উচ্চকক্ষে ১২৫ ভোট পেয়েছেন। খবর বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের।

‘জাপানের আয়রন লেডি’ হিসেবে পরিচিত তাকাইচি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঘনিষ্ঠ অনুসারী এবং তাঁর মতোই দৃঢ় রক্ষণশীল ভাবধারার রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক ভাবগুরু হচ্ছেন প্রথম ব্রিটিশ নারী প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার, যিনি আয়রন লেডি নামে পরিচিত ছিলেন।

জাপানে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। তাই এ জয়কে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে তাকাইচি জাপানের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী। তিনি এমন এক সময় ক্ষমতায় এলেন, যখন এলডিপি রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত। তাদের জনসমর্থনও বেশ কমে যাচ্ছে। ঠিক এমন এক সময়ে তাকাইচির জয় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জাপান এখনও লিঙ্গসমতার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে।

তবে জাপানি তরুণীদের অনেকেই বিবিসিকে বলেছেন, রক্ষণশীল তাকাইচি নারীর অধিকারকে এগিয়ে নেবেন কি না, এ বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন। তাঁদের একজন বলেন, তাকাইচির রাজনৈতিক মতাদর্শ খুঁজে দেখলে দেখা যায়, তিনি বরং পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই টিকিয়ে রাখতে চান।

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকাইচি যে নারীর অগ্রায়ণে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে সেভাবে সফল হবেন না, সেই আভাস এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হওয়ার

কয়েক ঘণ্টা পরই এটা স্পষ্ট হয়ে যায়, দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোতে নারীদের স্বল্প প্রতিনিধিত্ব বজায় থাকবে, কারণ তিনি তাঁর মন্ত্রিসভায় মাত্র দুইজন নারীকে স্থান দিয়েছেন।

তাকাইচি তাঁর সরকারে আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের মতো নারী প্রতিনিধিত্বের মাত্রা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আইসল্যান্ডের ১১ জন মন্ত্রীর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ ৬ জনই নারী। ফিনল্যান্ডে মন্ত্রিসভার ১৯টি পদের মধ্যে ১১টিতেই নারীরা রয়েছেন।

তাকাইচির ১৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া দুই নারী হলেন সাতসুকি কাতায়ামা ও কিমি ওনোদা। কাতায়ামা প্রথম নারী হিসেবে অর্থমন্ত্রীর পদ পেলেন। ওনোদা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

তাকাইচির পূর্বসূরি শিগেরু ইশিবাও তাঁর মন্ত্রিসভায় দুই নারীকে নিয়োগ করেছিলেন। মন্ত্রিসভায় নারীর ক্ষমতায়নে সর্বোচ্চ রেকর্ডটি হলো পাঁচজন, যা ছিল ইশিবাকে পূর্ববর্তী ফুমিয়ো কিশিদার সময়কালে।

তাকাইচির রাজনৈতিক আদর্শ মার্গারেট থ্যাচারের মতোই। তাকাইচি সামাজিক রক্ষণশীলতাকে সমর্থন করেন। তিনি বিবাহিত দম্পতিদের একই পদবি ব্যবহার করার উনিশ শতকের আইন সংশোধনের বিরোধিতা করেছেন। তিনি সমকামী বিবাহেরও বিরোধিতা করেন।

সমাজবিজ্ঞানী চিজুকো উয়েনো সামাজিক মাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেছেন, ‘প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাবনা আমাকে খুশি করছে না।’ উয়েনো মনে করেন, তাকাইচির নেতৃত্ব জাপানের লিঙ্গ সমতার র?্যাঙ্কিং উন্নত করবে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, ‘জাপানের রাজনীতি নারীদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হবে।’ তবে অনেকে আশাবাদী, তাকাইচির নিয়োগ জনজীবনে প্রবেশে নারীদের মনস্তাত্ত্বিক বাধা কমিয়ে দেবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

জাপান পেল প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

সানায়ে তাকাইচি জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে শাসক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) এই নারী প্রার্থী নিম্ন ও উচ্চÑ দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। তিনি নিম্নকক্ষে ২৩৭ ও উচ্চকক্ষে ১২৫ ভোট পেয়েছেন। খবর বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের।

‘জাপানের আয়রন লেডি’ হিসেবে পরিচিত তাকাইচি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঘনিষ্ঠ অনুসারী এবং তাঁর মতোই দৃঢ় রক্ষণশীল ভাবধারার রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক ভাবগুরু হচ্ছেন প্রথম ব্রিটিশ নারী প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার, যিনি আয়রন লেডি নামে পরিচিত ছিলেন।

জাপানে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। তাই এ জয়কে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে তাকাইচি জাপানের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী। তিনি এমন এক সময় ক্ষমতায় এলেন, যখন এলডিপি রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত। তাদের জনসমর্থনও বেশ কমে যাচ্ছে। ঠিক এমন এক সময়ে তাকাইচির জয় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জাপান এখনও লিঙ্গসমতার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে।

তবে জাপানি তরুণীদের অনেকেই বিবিসিকে বলেছেন, রক্ষণশীল তাকাইচি নারীর অধিকারকে এগিয়ে নেবেন কি না, এ বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন। তাঁদের একজন বলেন, তাকাইচির রাজনৈতিক মতাদর্শ খুঁজে দেখলে দেখা যায়, তিনি বরং পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই টিকিয়ে রাখতে চান।

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকাইচি যে নারীর অগ্রায়ণে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে সেভাবে সফল হবেন না, সেই আভাস এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হওয়ার

কয়েক ঘণ্টা পরই এটা স্পষ্ট হয়ে যায়, দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোতে নারীদের স্বল্প প্রতিনিধিত্ব বজায় থাকবে, কারণ তিনি তাঁর মন্ত্রিসভায় মাত্র দুইজন নারীকে স্থান দিয়েছেন।

তাকাইচি তাঁর সরকারে আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের মতো নারী প্রতিনিধিত্বের মাত্রা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আইসল্যান্ডের ১১ জন মন্ত্রীর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ ৬ জনই নারী। ফিনল্যান্ডে মন্ত্রিসভার ১৯টি পদের মধ্যে ১১টিতেই নারীরা রয়েছেন।

তাকাইচির ১৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া দুই নারী হলেন সাতসুকি কাতায়ামা ও কিমি ওনোদা। কাতায়ামা প্রথম নারী হিসেবে অর্থমন্ত্রীর পদ পেলেন। ওনোদা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

তাকাইচির পূর্বসূরি শিগেরু ইশিবাও তাঁর মন্ত্রিসভায় দুই নারীকে নিয়োগ করেছিলেন। মন্ত্রিসভায় নারীর ক্ষমতায়নে সর্বোচ্চ রেকর্ডটি হলো পাঁচজন, যা ছিল ইশিবাকে পূর্ববর্তী ফুমিয়ো কিশিদার সময়কালে।

তাকাইচির রাজনৈতিক আদর্শ মার্গারেট থ্যাচারের মতোই। তাকাইচি সামাজিক রক্ষণশীলতাকে সমর্থন করেন। তিনি বিবাহিত দম্পতিদের একই পদবি ব্যবহার করার উনিশ শতকের আইন সংশোধনের বিরোধিতা করেছেন। তিনি সমকামী বিবাহেরও বিরোধিতা করেন।

সমাজবিজ্ঞানী চিজুকো উয়েনো সামাজিক মাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেছেন, ‘প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাবনা আমাকে খুশি করছে না।’ উয়েনো মনে করেন, তাকাইচির নেতৃত্ব জাপানের লিঙ্গ সমতার র?্যাঙ্কিং উন্নত করবে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, ‘জাপানের রাজনীতি নারীদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হবে।’ তবে অনেকে আশাবাদী, তাকাইচির নিয়োগ জনজীবনে প্রবেশে নারীদের মনস্তাত্ত্বিক বাধা কমিয়ে দেবে।