ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

নতুন পাঠ্যপুস্তকে বড় পরিবর্তন, গুরুত্ব পেল জুলাই গণঅভ্যুত্থান

নতুন শিক্ষাবর্ষ ২০২৬ সালের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন-পরিমার্জন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি। এতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট, ঘটনাপ্রবাহ ও ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের কথা। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গণহত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার পতন ও ফ্যাসিবাদের অবসানের ঘটনাপ্রবাহের তথ্য। এছাড়া পাঠ্যবইয়ের গুণগতমানও বাড়ানো হয়েছে।

এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের পাঠ্যবইয়ের অনেক বিষয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি। সেগুলো মাথায় রেখেই এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশে বেশকিছু বইয়ের কনেটেন্টে বড় ধরনের পরিবর্তন-পরিমার্জন করা হয়েছে।

এনসিটিবির পাঠ্যবই সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত এক বিশেষজ্ঞ বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সুপারিশে মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ের কনটেন্টে সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং পৌরনীতি বইয়ে দেশের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যবইয়েও পরিমার্জন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বইগুলো প্রকাশ হয়েছে, তবে তা এখনো অনলাইনে আপলোড হয়নি। আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনলাইনে আপলোড হতে পারে।

এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবার পাঠ্যবইয়ে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে গত বছরের ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্থান পেয়েছে ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন ও ফ্যাসিবাদের অবসানের তথ্য।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের কনটেন্ট কমবেশি আকারে রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনার পতন ও ফ্যাসিবাদের অবসানের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বই পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর তৃতীয় অধ্যায়টির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’। আগে এ অধ্যায়ের শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’।

নতুন শিরোনামে এ অধ্যায়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় গণঅভ্যুত্থান পাঠে রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং হাসিনার পতন ও ফ্যাসিবাদ অবসানের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে এ অধ্যায়ে শুধু পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছিল।

অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য সব শ্রেণির বইয়ের কনটেন্টে ছোটখাটো পরিবর্তন হচ্ছে।

নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ অধ্যায়ে ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন; পরে ক্রমাগত কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা, বিরোধী দলমতের মানুষের ওপর দমন-নিপীড়ন, দুর্নীতির প্রসার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করার মাধ্যমে দলীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় হাসিনার বেপরোয়া হয়ে ওঠা; ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার মাধ্যমে শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক সংকট। পরে তরুণসমাজ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনতা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে।

এভাবে ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার রোডম্যাপ প্রণয়ন করে আওয়ামী লীগ। জনগণ তাদের চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার এ নীলনকশা প্রত্যাখ্যান করে।

শেখ মুজিবের বাকশালি ও এরশাদের স্বৈরশাসনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের সরকার সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থেমে যায়। রাজনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরায় চালু হয়। এ সময় দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং গণতান্ত্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ১৯৮১ সালের নভেম্বর মাসে বিচারপতি আবদুস সাত্তার দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাকে অপসারণ করে ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান জেনারেল এইচএম এরশাদ। তার সময়ে যেকটি নির্বাচন হয়, তার সবগুলোই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থী হাতে পাবে পাঠ্যবই। তবে পাঠ্যবই মুদ্রণ ও সরবরাহের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত প্রাথমিকের শতভাগ বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিকের অনেক পাঠ্যবই এখনো ছাপা হয়নি।

এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান বলেন, ‘এবার পাঠ্যবইয়ের মান বেড়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দিতে পারব বলে আশা করছি।’

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও পরিবর্তন-পরিমার্জন করা নতুন পাঠ্যবই বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

নতুন পাঠ্যপুস্তকে বড় পরিবর্তন, গুরুত্ব পেল জুলাই গণঅভ্যুত্থান

আপডেট টাইম : ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

নতুন শিক্ষাবর্ষ ২০২৬ সালের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন-পরিমার্জন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি। এতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট, ঘটনাপ্রবাহ ও ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের কথা। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গণহত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার পতন ও ফ্যাসিবাদের অবসানের ঘটনাপ্রবাহের তথ্য। এছাড়া পাঠ্যবইয়ের গুণগতমানও বাড়ানো হয়েছে।

এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের পাঠ্যবইয়ের অনেক বিষয় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি। সেগুলো মাথায় রেখেই এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশে বেশকিছু বইয়ের কনেটেন্টে বড় ধরনের পরিবর্তন-পরিমার্জন করা হয়েছে।

এনসিটিবির পাঠ্যবই সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত এক বিশেষজ্ঞ বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সুপারিশে মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ের কনটেন্টে সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং পৌরনীতি বইয়ে দেশের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যবইয়েও পরিমার্জন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বইগুলো প্রকাশ হয়েছে, তবে তা এখনো অনলাইনে আপলোড হয়নি। আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনলাইনে আপলোড হতে পারে।

এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবার পাঠ্যবইয়ে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে গত বছরের ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্থান পেয়েছে ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন ও ফ্যাসিবাদের অবসানের তথ্য।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের কনটেন্ট কমবেশি আকারে রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনার পতন ও ফ্যাসিবাদের অবসানের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বই পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর তৃতীয় অধ্যায়টির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’। আগে এ অধ্যায়ের শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’।

নতুন শিরোনামে এ অধ্যায়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় গণঅভ্যুত্থান পাঠে রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং হাসিনার পতন ও ফ্যাসিবাদ অবসানের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে এ অধ্যায়ে শুধু পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছিল।

অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য সব শ্রেণির বইয়ের কনটেন্টে ছোটখাটো পরিবর্তন হচ্ছে।

নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ অধ্যায়ে ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন; পরে ক্রমাগত কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা, বিরোধী দলমতের মানুষের ওপর দমন-নিপীড়ন, দুর্নীতির প্রসার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করার মাধ্যমে দলীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় হাসিনার বেপরোয়া হয়ে ওঠা; ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার মাধ্যমে শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক সংকট। পরে তরুণসমাজ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনতা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে।

এভাবে ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার রোডম্যাপ প্রণয়ন করে আওয়ামী লীগ। জনগণ তাদের চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার এ নীলনকশা প্রত্যাখ্যান করে।

শেখ মুজিবের বাকশালি ও এরশাদের স্বৈরশাসনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের সরকার সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থেমে যায়। রাজনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরায় চালু হয়। এ সময় দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং গণতান্ত্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ১৯৮১ সালের নভেম্বর মাসে বিচারপতি আবদুস সাত্তার দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাকে অপসারণ করে ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান জেনারেল এইচএম এরশাদ। তার সময়ে যেকটি নির্বাচন হয়, তার সবগুলোই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থী হাতে পাবে পাঠ্যবই। তবে পাঠ্যবই মুদ্রণ ও সরবরাহের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত প্রাথমিকের শতভাগ বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিকের অনেক পাঠ্যবই এখনো ছাপা হয়নি।

এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান বলেন, ‘এবার পাঠ্যবইয়ের মান বেড়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দিতে পারব বলে আশা করছি।’

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও পরিবর্তন-পরিমার্জন করা নতুন পাঠ্যবই বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।’